বরিশাল ব্যুরো
অশান্ত উপকূলে চলবে যাত্রীবাহী অত্যাধুনিক লঞ্চ এমভি রাজহংস। সম্প্রতি উপকূল অতিক্রম করার সনদপত্র ও গত ২১ এপ্রিল রুট পারমিট পেয়ে বরিশাল-পাতারহাট (মেহেন্দীগঞ্জ)-ইলিশা(ভোলা)-মজুচৌধুরীর হাট(লক্ষ্মীপুর) রুটে চলাচল শুরু করেছে। ফলে অশান্ত মৌসুমে যাত্রী সেবা দিবে এই প্রতিষ্ঠানটি।
জানা গেছে, নৌ দুর্ঘটনা রোধে প্রতি বছর ৩ হাজার কিলোমিটার অশান্ত উপকূলে যখন বন্ধ করে দেয়া হয় ছোট লঞ্চ, তখন চরম দুর্ভোগে পরে এই সব রুটের যাত্রীরা। তাদের কথা চিন্তা করে এই রুটে নামলো উপকূলীয় জাহাজ এমভি রাজহংস। বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক (নৌনিট্রা) ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাগর ও মেঘনার মোহনার উপকূলীয় ৩ হাজার কিলোমিটার নৌপথে প্রতিবছর ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিপদজনক মৌসুম ঘোষণা করা হয়। সূত্র জানায়, এ ৭ মাস নির্ধারিত ৩ হাজার কিলোমিটার নৌপথে বে-ক্রসিং সনদ (সমুদ্রে চলাচল যোগ্য নৌযান) ব্যাতিত অন্য কোন নৌযান চলতে পারবে না। বে-ক্রসিং সনদ নিয়ে এই রুটে গত ২১ এপ্রিল থেকে যাত্রা শুরু করেছে ডে সার্ভিস রাজহংস। প্রতিদিন বেলা ১২ টায় বরিশাল থেকে মজুচৌধুরীর হাট লক্ষিপুর ও পরদিন ভোর ৫ টায় লক্ষিপুর থেকে বরিশালে ছেড়ে আসবে এই লঞ্চটি। সম্প্রতি সুন্দরবন শীপ বিল্ডাস্ ডকইয়াড থেকে নেমেছে এই লঞ্চ। সুপারভাইজার কাজী রোকনুজ্জামান বলেন, এই লঞ্চ ডাবল বটম ও দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট। ১৬০ ফিট লম্বায় ৩৬ ফিট চওড়া ও গভীরতায় রয়েছে সাড়ে ৯ফিট। ঘন কুয়াশায় চলাচলের জন্য এই জাহাজে রয়েছে রাডার, এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজ যোগাযোগ করার জন্য রয়েছে জিপিএস ও ডুবচর সনাক্ত করার জন্য রয়েছে ইকো সাউন্ডার। ১৪টি ডাবল কেবিন, ১৪টি সিঙ্গেল ও বাথসহ দুইটি ফ্যামিলি কেবিন রয়েছে এই লঞ্চে। এ ছাড়া সোফা এরিয়া শীতাতাপ নিয়ন্ত্রীত রাখা হয়েছে। এই জাহাজের ধারনক্ষমতা ৫২৫ জন।
রাজহংসের মালিক কাজী ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, মৌসুমী অশান্তকালিন সময় যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্য স্থালে পৌছে দেয়ার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছে। এর আগেও পারিজাত দিয়ে আমরা সার্ভিস দিয়েছি। বিআইডব্লিউটিএ এর কিছু ঘাট ইজারাদারদের যোগ সাজসে ট্রলার স্পীড বোর্ড চলাচল করছে। এগুলো বন্ধ না হলে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে বলে তিনি অভিমত দেন তিনি। ##