• ২৪শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডাবল ট্রিপেও কমছে না দক্ষিণাঞ্চলমুখী যাত্রী চাপ, ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ১, ২০২২, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
ডাবল ট্রিপেও কমছে না দক্ষিণাঞ্চলমুখী যাত্রী চাপ, ভোগান্তি

ডাবল ট্রিপেও কমছে না দক্ষিণাঞ্চলমুখী যাত্রী চাপ, ভোগান্তি
যাত্রীদের ভিড় এড়াতে লঞ্চগুলো ডাবল ট্রিপ দিলেও কমছে না দক্ষিণাঞ্চলমুখী যাত্রীর চাপ। প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে যাত্রীর সংখ্যা। প্রতিটি লঞ্চেই ধারণ ক্ষমতার তিন থেকে চার গুণ বেশি যাত্রী উঠছেন।

অতিরিক্ত যাত্রী উঠায় কয়েকটি লঞ্চকে ঢাকা সদরঘাট থেকে জরিমানা করলেও থামানো যাচ্ছে ঘরমুখো না যাত্রীদের স্রোত। একদিকে অতিরিক্ত যাত্রী বহনে বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রচার প্রচারণা মাইকিং চলছে। অন্যদিকে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তিন থেকে চার গুণ যাত্রী না নিয়ে ঘাট ছাড়ছে না বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

জানা যায়, নৌযান কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লঞ্চগুলোর ধারণক্ষমতার নির্ধারিত যাত্রী নিয়েই ঘাট ছাড়ার কথা। অথচ বাস্তব চিত্র তার পুরোই উল্টো। প্রতিটি লঞ্চ সরকারি নির্দেশনা না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে ফিরছেন। এতে করে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ লাভবান হলেও চরম ভোগান্তি ও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।

শনিবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকা থেকে ব‌রিশাল আসা সুন্দরবন ১১ লঞ্চের যাত্রী মো. মিরাজ তালুকদার বলেন, ‘গত ১৫ দিন আগে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে লঞ্চের কেবিনের টিকিট সংগ্ৰহ করেছি পরিবার নিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য। অথচ বিকেল ৪টায় লঞ্চে ওঠেছি। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় এত বাড়তে থাকে যে কেবিনের দরজা পর্যন্ত খোলা সম্ভব হয়নি।’

যাত্রী শাহানাজ পারভিন বলেন, ‘একেতো সারা রাত লঞ্চে কষ্ট করে আসছি। তার মধ্যে রাত ২টা থেকে লঞ্চের নিজস্ব সাউন্ড সিস্টেম বলতে শুরু করে, লঞ্চ ঘাটে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে সকল যাত্রীকে নেমে যাওয়ায় জন্য। ডাবল ট্রিপের জন্য লঞ্চ এখনি ছেড়ে যাবে। এ অবস্থায় রাত ২টা ২০ মিনিটে লঞ্চ থেকে যেতে হয়েছে। ফলে এত রাতে বাড়ি ফিরতে চরম ভোগান্তিতে পরতে হয়েছে।’

কুয়াকাটা-২ লঞ্চের যাত্রী সাকিব জানান, লঞ্চের টিকিটে বিকেল ৫টার মধ্যে লঞ্চ ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া ছিলো। সে অনুযায়ী বিকেল ৪টার মধ্যে লঞ্চ ঘাটে এসে পৌঁছাই। অথচ সেই লঞ্চ ছেড়েছে রাত সোয়া ৯টায়। পুরো লঞ্চের মধ্যে পা ফেলার মতো জায়গা ছিলো না। এমনকি লঞ্চের নামাজের স্থান পর্যন্ত যাত্রীতে ঠাসা ছিলো।

যাত্রীদের অভিযোগ, রাত ১টায় লঞ্চগুলো থেকে যাত্রী নামিয়ে ডাবল ট্রিপ দিতে বরিশাল ছেড়ে পুনরায় ঢাকা যাচ্ছে। এ অবস্থায় সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। বরিশাল সিটি মেয়র সাধারণ যাত্রীদের জন্য লঞ্চ ঘাট থেকে রুপাতলী ও নতুল্লাবাদ পর্যন্ত ফ্রি বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করলেও ভোগান্তি কমেনি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর যুগ্ম পরিচালক ব‌রিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। আর স্পেশাল সা‌র্ভিসের জন্য লঞ্চগুলো যাত্রী নামিয়ে আবার ফিরে যাচ্ছে। লঞ্চগুলো যাতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছাড়তে না পারে সেজন্য ঢাকা নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ-এর ঢাকা নৌ-বন্দরের কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির জানান, সদরঘাট থেকে নিয়মিত লঞ্চগুলো বন্দর কর্তৃপক্ষের তদারকির মাধ্যমে ছাড়া হচ্ছে। তাছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী না উঠাতে লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে আগেই সতর্ক করা হয়েছে। তারপরও কয়েকটি লঞ্চকে অতিরিক্ত যাত্রী উঠানোর দায়ে জরিমানা করা হয়েছে।