গৌরনদী উপজেলার নলচিড়ার কুতুবপুর গ্রামে জমি বিরোধের জের ধরে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলো, ওই এলাকার সেকান্দার আলী আকন এর স্ত্রী হেলেনুর বেগম , হেলে নূরের ছেলে আবু সাঈদ, আবু তালেব এবং আবু তালেবের স্ত্রী বিথী আক্তার।
এদের মধ্যে গুরুতর হেলে নূর ও বিথী আক্তার কে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এবং অন্যান্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়া হয়।
ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হেলেনুর বেগমের এবং বিথী আক্তারের মাথার উপরে মারাত্মক জখম হয়। তবে অবস্থার অবনতি হলে যে কোনো সময় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
আহত আবু তালেব জানান, দীর্ঘদিন ধরে আবু তালেবের পৈত্রিক জমি নিয়ে প্রতিবেশী ইউনুস আকনের ছেলে রাজিব আকন ও তার পরিবারদের সাথে বিরোধ চলে আসছে।
রাজিব ও তার সহযোগীরা আবু তালেব এর জমি জোরপূর্বক জবর দখল করার চেষ্টা চালায়।
প্রায় সময় জমি জবর দখল করতে আবু তালেব ও তার পরিবারকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি সহ খুন-জখমের হুমকি দেয় রাজিব সহ তাদের পরিবারের সহযোগীরা।
বিষয়টি নিয়ে আবু তালেব ও তার পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ প্রশাসনকে জানালে রাজিব ও তার পরিবারের লোকজন আরো ক্ষিপ্ত হয়ে যায়।
ঘটনার দিন সকালে আবু তালেব এর জমির সীমানার মধ্যে ঢুকে জোরপূর্বক প্রবেশ করে রাজীব ও তার সহযোগীরা।
এতে বাধা দিলে আবু তালেবের মা হেলেনুর বেগমের সাথে প্রতিপক্ষ রাজিব আকনের দ্বন্দ্ব হয়।
এরই জের ধরে একপর্যায়ে রাজিব আকন ও তার ভাই সজিব, সোহেল, জাহিদুল, রাজিবের মা ময়না বেগম ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টায় হেলেনুর বেগমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
এ সময় হেলেনুর বেগমের পুত্রবধূ বিথী আক্তার তাকে বাঁচাতে আসলে রাজিব, সজিব সোহেল জাহিদুল তাকে শ্লীলতাহানিসহ কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। এ সময় তাদের সাথে থাকা গলার চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
হামলার পরপর একইভাবে হেলেনুর বেগমের দুই ছেলে আবু তালেব ও আবু সাঈদ কে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন রাজিব আকন সহ অন্যান্য সহযোগীরা।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক গৌরনদী আশোকাঠি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
সেখানে হেলেনুর ও বিথীর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
আবু তালেব আরও জানান, হামলার পর প্রতিপক্ষ রাজিব ও তার সহযোগীরা আবারো যেকোনো সময় আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালাতে পারে। আমরা তাদের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। রাজিব ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা প্রশাসনের কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে আহতের স্বজনরা জানান।