এ পর্যন্ত আমার জনপ্রিয়তা বিদ্যমান এবং তিনবারের নির্বাচনে বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া এসবের আলাদা কোনো যোগ্যতা আমার নেই।
আমি প্রতিদিন সকালে আমার পারিবারিক ও কৃষি কাজ করে থাকি এবং বিকেল বেলা নিজের পারিবারিক খরছ নিজেই নিয়ে আসি বাড়ীতে।
সকাল নয়টা থেকে আছর পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের অফিসে বসে ইউনিয়নবাসীকে সেবা প্রদান করি। এভাবেই ২১ বৎসর অতিবাহিত হচ্ছে। আমার ইউনিয়নের অধিবাসীদের কাজের জন্য আমার বাড়ীতে যাওয়ার প্রয়োজন হয়না, এপর্যন্ত কারো কাছ থেকে আমি পাঁচ টাকা খাইনি।
কথা গুলো বলেছেন, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের চেয়ারম্যান ও সাবেক বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ছয়ফুল হক।
তিনি গত ৯ মে সোমবার বিশ্বনাথ সাংবাদিক ক্লাবের আহবায়ক ও সাপ্তাহিক আমাদের সিলেটের বিশ্বনাথ প্রতিনিধি মোঃ শাহিন উদ্দিনের সাথে বিকেল দুইটায় সৌজন্য এক সাক্ষাতে মিলিত হন, চেয়ারম্যানের বিশ্বনাথস্হ ইউনিয়ন ভবনে।
এতে সাংবাদিক মোঃ শাহিন উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে উপরোক্ত কথা গুলো তিনি ব্যক্ত করেন।
প্রশ্নের জবাবে আরো যে সব কথা খোলামেলা তিনি প্রকাশ করেছেন তা নিম্নে তুলেধরা হলো।
তিনি বলেন, আমার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়াটা ছিল অপ্রত্যাশিত।
বাংলাদেশ সকরারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসেডিয়াম সদস্য জাতীয় নেতা মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ ১৯৯৭ সালে এসেছিলেন, বিশ্বনাথ থানায়।
তখন আওয়ামী লীগের তৎকালীণ সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক আ ন ম শফিকুল হককে বলেছিলেন, শফিক ছয়ফুল হককে বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রতিদ্বদ্ধি করে দাও।
এরপর নমিনেশন দাখিলের তিন দিন পূর্বে আমি প্রতিদ্বদ্ধিতার সিদ্বান্ত নেই। নমিনেশন নিয়ে দাখিল করলাম এবং আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলাম। এরপর আরো দুইবার নির্বাচিত হয়েছি তিনবারে মোট ২১
বৎসর বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি।
ছয়ফুল হক বলেন, ইউনিয়নবাসী কেন আপনাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করলো? এই বিষয়টুকু আপনাকে বুঝতে হবে। আরোও অনেকে নির্বাচনে স্ট্যান্ড করে কিন্তু আপনাকে তারা চেয়ারম্যান নির্বাচিত কেন করলো নিশ্চয়ই এর কারণ আছে। আর সেই কারণটি হচ্ছে মানুষকে যথাযত সেবা প্রদান করা।
চেয়ারম্যান ছয়ফুল হক আবেগপ্রবনিত হয়ে বলেন, আমি যথবার চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি তা আমার পক্ষ থেকে শুধু মাত্র ১৯৯৭ সালে প্রথমবার যে সময় নির্বাচিত হই তখন আমার পরিবারের পক্ষ থেকে এক লক্ষ টাকা শুধু ছিল। পরের সকল নির্বাচনে বিশ্বনাথের ছাত্রলীগের কিছু ভাইয়েরা তারা নির্বাচনের যাবতীয় টাকা যুক্তরাজ্য থেকে সংকুলাণ করেছেন এবং নির্বাচনের পরে অবশিষ্ট অনেক টাকাও রিজাব রয়েছে।
তিনি বলেন, যে কোনো একজন জনপ্রতিনিধির কাছে অবৈধ টাকা, অবৈধ অস্র, ইউনিয়নের আমানত তছনত গায়েব,
শক্তি প্রয়োগ, এসব কাম্য নয়, তিনি বলেন, তবে আমাদের বিশ্বনাথ এসব থেকে ব্যতিক্রম।
তিনি বলেন, থানায় সুপারিশ এসব ঠিক নয়, আমি এসবের দ্বারে কাছে যাইনা। থানায় ক’জন পুলিশ অফিসার আছে তা আমার জানানেই এবং তাদের নাম কি? তাও আমি জানিনা।
এই প্রসঙ্গে তার কাছে প্রশ্ন উত্যাপিত হয়েছিল যদি আপনার নির্বাচনি এলাকার আপনার কোনো ভোটার কোনো সমস্যায় পড়ে থানায় যান এবং সহযোগিতার জন্য তখন আপনাকে কল করেন সেই মুহুর্তে আপনি কি করবেন?
এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাকে যিনি কল করবেন আমি ভেবে দেখবে
তিনি সঠিক কি না। যদি তিনি ন্যায় সম্মত হন তাহলে তাকে সহযোগিতার জন্য আমার প্রচেষ্ঠা অব্যাহত থাকবে।
নতুবা তাকে সহযোগিতার
ধারে কাছে আমি যাবনা।
চেয়ারম্যান ছয়ফুল হক ১৯৭৭ সালে বিশ্বনাথ রামসুন্দর অগ্রগামী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি পাশ করেন। তিনি চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
বিশ্বনাথ রামসুন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুল জীবনের ক্লাশমিট হচ্ছেন, সিলেট দুই সংসদীয় আসনের সাবেক এমপি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম, ইলিয়াস আলী সহ আরোও অনেকেই।
আরোও অনেকেই চাকুরী জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করছেন।
চেয়ারম্যান ছয়ফুল হকের কাছে যে প্রশ্নটি ছিল তা হচ্ছে আপনি বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন, আপনার এমন কোন গুণটির কারণে আপনি এমন জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সক্ষম হলেন?
বিশ্বনাথ সাংবাদিক ক্লাবের পক্ষ
থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।
আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।