নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে পূর্ব শত্র“তার জের ধরে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দুই কিশোরকে ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করেছে স্থানীয় লিটন, অপু, হাসান, বাচ্চু, মানিকসহ একাধিক ব্যক্তি। নির্যাতনের শিকার কিশোর সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বুধবার সকালে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে গেলে নির্যাতনের শিকার ইমদাদ (১৪) ও তার পরিবার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
স্থানীয় ও অভিযোগসূত্রে জানা যায়, উপজেলার বজরা ইউপির পূর্ব চাঁদপুর গ্রামের মৃত মোঃ হানিফের পরিবারের সাথে একই গ্রামের মৃত আবদুল গফুরের ছেলে লিটন (৪২) গংদের ভূমি বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের সূত্র ধরে গত সোমবার দুপুর ১টার দিকে বজরা স্টেশনের পূর্ব পাশের পুকুরে গোসল করতে গেলে পুকুর ঘাট থেকে চুরির অপবাদ দিয়ে ইমদাদ ও শাহাদাতকে তুলে নিয়ে স্টেশনের পরিত্যাক্ত একটি ঘরে আটকে রাখে। এরপর লিটন, অপু, হাসান, বাচ্চু, মানিক বন্ধ ঘরের মধ্যে ২ কিশোরের গলায় রশি পেঁচিয়ে, লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করার সময় তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে লিটন গংরা পালিয়ে যায়। পরে নির্যাতনের শিকার ২ কিশোরকে বন্ধী অবস্থায় উদ্ধার করে তাদের পরিবার সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। বর্তমানে ইমদাদের অবস্থা গুরুত্বর। এ ঘটনায় ইমদাদের বড় বোন সালমা আক্তার বাদী হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
অভিযোগকারী সালমা আক্তার জানান, তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। তাদের জান মালের কোন নিরাপত্তা নাই। থানায় অভিযোগ করায় তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে পরিবারের সদস্যদের গুম করারও হুমকি দিচ্ছে।
সোনাইমুড়ী থানার এসআই নিজাম উদ্দিন জানান, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নির্যাতনের শিকার কিশোর ইমদাদকে হাসপাতালে দেখে এসেছি। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।