• ২৬শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুমকিতে লুথ্যারান হেলথ কেয়ার কর্মচারীদের অবস্থান ধর্মঘট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ২৬, ২০২২, ১৭:১৩ অপরাহ্ণ
দুমকিতে লুথ্যারান হেলথ কেয়ার কর্মচারীদের অবস্থান ধর্মঘট

দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি\ পটুয়াখালীর দুমকিতে বিদেশী দাতা সংস্থার অনুদানে পরিচালিত বেসরকারি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য চিকিৎসা কেন্দ্র ‘লুথ্যারান হেলথ কেয়ার বাংলাদেশ (এলএইচসিবি)’র বোর্ড চেয়ারম্যানসহ দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ দাবিতে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছে তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা।
বৃহস্পতিবার (২৬ মে) সকাল ১০টায় লুথ্যারান হাসপাতালের প্রধান ফটকে অর্ধশতাধিক কর্মচারী (১০টা-০৫টা) তাদের কর্মবিরতি রেখে অবস্থান ধর্মঘটে অংশ নেয়। বিক্ষুব্ধ কর্মচারিদের দাবি এনজিও ব্যুরো’র নির্ধারিত বেতন কাঠামো গোপন রেখে বোর্ড চেয়ারম্যানসহ উর্ধতন কয়েকজন দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তা তাদের বেতন বৈসম্যে (অর্ধ-বেতন) দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের একাধিক তদন্তে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অর্থ লোপাট, আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম-দূর্ণীতি প্রমাণীত হলেও রহস্যজনক ভাবে তারা বহাল রয়েছেন। অবিলম্বে এসব দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণসহ ১৫দফা দাবিতে লাগাতার কর্মবিরতি ও অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন তারা। এর আগে বিক্ষুব্ধ কর্মচারিদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার কাছে ১৫দফা দাবি সম্বলিত স্মারক লিপিও দেয়া হয়। আন্দোলনকারী এলএইচসিবি’র ফার্মার্স ফিল্ড স্কুল শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ, বিভিন্ন প্রকল্পের আত্মসাৎকৃত প্রায় অর্ধকোটি টাকা প্রতিষ্ঠানের মূল হিসাবে ফেরত দেয়া এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিৎ না হওয়া পর্র্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। প্যাথলজিষ্ট মো: জাকির হোসেন, ফিল্ড সুপারভাইজার মোশারফ হোসেন, গার্ড আবদুল মোতালেব, আয়া নাজমাসহ সবাই অনুরূপ দাবিতে অটল থাকার ঘোষনা দেন।
এদিকে কর্মচারিদের কর্মবিরতিসহ লাগাতার অবস্থান ধর্মঘটের ফলে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। কর্মচারীদের তোপের মুখে ইন্টেরিম বোর্ড চেয়ারম্যান ডা. হেলেন রেমা গোপনে হাসপাতাল ছেড়ে ঢাকায় চলে গেছেন।
হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ইন্টেরিম বোর্ড চেয়ারম্যান ডা. হেলেন রেমা বলেন, জরুরী কাজে তিনি ঢাকা গেছেন। শীঘ্রই তিনি দুমকি আসবেন। অনিয়ম-দূর্ণীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোন অনিয়ম হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের তদন্ত রিপোর্ট একপেশে এবং মহল বিশেষের দ্বারা প্রভাবিত। কর্মচারিদের দাবি দাওয়া প্রসংগে বলেন, যোগ্যতার বিবেচনায় বেতন-ভাতা ও প্রমোশন বিবেচনা করা হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ দখল করতেই এসব করা হচ্ছে। দোষীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দুমকি উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মো. আল-ইমরান স্মারকলিপির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তে বেশ কিছু অনিয়মের প্রমান পাওয়া গেছে। এনজিও ব্যুরো’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে কথা হয়েছে। শীঘ্রই তিনি দুমকিতে এসে দ্রæত সমস্যা নিরসন করবেন। শীঘ্রই তিনি দুমকিতে এসে দ্রুত সমস্যা নিরসন করবেন।
#