স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় অনুষ্ঠিত হলো বাংলার চিরচয়িত ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা। কালেরক্রমে হারিয়ে যাওয়া এ লাঠি খেলা দেখতে ভীড় করে নানা বয়সের মানুষ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৫ দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধনীয় অনুষ্ঠানে এ লাঠি খেলার আয়োজন করা হয়।
জানাগেছে, একসময় লাঠি খেলা ছিল গ্রাম বাংলার মানুষের কাছে জনপ্রিয় খেলা। গ্রাম্য নানা শিল্প-সংস্কৃতির মাঝে লাঠি খেলা ছিল গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষের চিত্ত বিনোদনের একমাত্র উৎস। ঐতিহ্যবাহী এ খেলাটি বৈশাখি মেলা, বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মানুষকে আনন্দ দিতে আয়োজন করা হত।
আজ সোমবার (৩০ মে) বিকালে কোটালীপাড়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৫ দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধনীয় অনুষ্ঠানে আসা সাধারণ মানুষকে আনন্দ দিতে আয়োজন করা হয় লাঠি খেলার।
কাঁসার শব্দে চারপাশে যেন উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কাঁসার বাদ্যের তালে নেচে নেচে লাঠি খেলে অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে লাঠিয়ালরা। খেলোয়াড়রা একে অপরের সাথে লাঠি যুদ্ধে লিপ্ত হয়। লাঠি দিয়ে অন্যের আক্রমন ঠেকিয়ে দেন। দল বেঁধে আগত দর্শকদের সালাম বিনিময় করেন। এসব দৃশ্য দেখে আগত দর্শকরাও করতালির মাধ্যমে খেলোয়ারদের উৎসাহ যোগায়। লাঠি খেলার আসরে কখনো কখনো নৃত্যগীত পরিবেশন করা হয়।
কালেরক্রমে হারিয়ে যাওয়া এ লাঠি খেলা দেখতে মেলা প্রাঙ্গনে হাজির হন নানা বয়সের সাধারণ মানুষ। ইট-পাথরের টুংটাং আওয়াজকে হার মানিয়ে কিছুটাও হলেও পুরানো দিনের গ্রামীন চিত্ত বিনোদনের সুযোগ পান বয়ো বৃদ্ধারা। আর অনেকেই আবার দেখেছেন প্রথমবারের মত। মেলায় আসা হাজারো দর্শক মেতে ওঠেন আনন্দে।
এর আগে কোটালীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ৫ দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কোটালীপাড়া পৌরসভার মেয়র হাজী মো: কামাল হোসেন শেখ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফিয়া শারমিন বক্তব্য রাখেন। মেলায় বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে সরকারি বেসরকারি দপ্তরের ২৪টি স্টল বসেছে। আগামী শুক্রবার মেলাটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
দর্শনার্থী বিষ্ণু ওঝা, পলাশ শেখ, ফাহমিদা আক্তার বলেন, মাঠের স্বল্পতা আর ভিডিও গেমের কারণে আমাদের শিশুরা ঘরমুখো। এ খেলা দেখে এতটাই আনন্দ পেয়েছি যে ভাষায় বলা যাবে না। লাঠি খেলাসহ বিভিন্ন গ্রাম্য খেলাকে টিকিয়ে রাখতে ও আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে মাঝে মধ্যেই আয়োজন করা উচিৎ বলে মনে করেন তারা।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, লাঠি খেলা আমাদের দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৫ দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ মেলা দেখতে আসা দর্শনার্থীদের আনন্দ দিতে ও ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা টিকিয়ে রাখতেই আয়োজন করা হয়েছে। #