• ২৬শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউপি নির্বাচনে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ৭, ২০২২, ১৪:১২ অপরাহ্ণ
ইউপি নির্বাচনে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ

হিজলা প্রতিনিধি
বরিশালের হিজলা উপজেলার হিজলা গৌরবদী ও ধুলখোলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ দিয়ে আসছে।

হিজলা গৌরবদী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় শুধু নৌকা মার্কার প্রচার প্রচারণা চলছে বাকি প্রার্থীদের দেখা না মিললেও উপজেলা নির্বাচন অফিসে রয়েছে নানা ধরনের অভিযোগ।

স্থানীয়রা বলছে ভিন্ন কথা স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মুন্সি তিনি বড়জালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা তার ভোটাই শুধু হিজলা গৌরবদী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে। গত নির্বাচনের আগের নির্বাচনে তিনি ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল।
এবারও তার সদস্যপদের নির্বাচন করার কথা কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মিলন কে তিনি বলেছেন ওখানে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকতে পারবে না আমি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চাই নৌকা মার্কার মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মিলন তা প্রত্যাখ্যান করে দিয়ে বলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচন করতে হবে।

পরে জাহাঙ্গীর আলম মুন্সি সদস্য পদে নির্বাচন না করে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও ভোটের মাঠে তার কোন বিচার নেই।

আরেক প্রার্থী ফিরোজ হোসেন যিনি ঘোড়া মার্কা নিয়ে চেয়ারম্যান পদে লড়ছে।
স্থায়ীভাবে তিনি বরিশালের কাশিপুরের বাসিন্দা
নামেমাত্র নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও দৃশ্যমান প্রচার-প্রচারণায় ফিরোজ ও তার কর্মীদের দেখা যায়নি।
একইভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা মার্কার প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ মাইনুদ্দিনের অবস্থা।
হিজলা গৌরবদী ইউনিয়নের সাধারণ ভোটাররা জানায় আনারস ও ঘোড়া মার্কার প্রার্থী কে কখনোই তারা হিজলা গৌরবদী এলাকায় দেখেনি।

হিজলা গৌরবদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিব সরদার সহ একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা জানান এরা মূলত নির্বাচন করতে আসেনি এরা এসেছে ষড়যন্ত্র করে নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য হাতপাখা মার্কার প্রার্থী মাইনুদ্দিনের কিছু কর্মী এবং ভোট থাকলেও বাকি দুই প্রার্থী ভোটের বাজার শূন্য হাতে। নির্বাচনে কোন প্রার্থীর প্রচারে বাধা প্রদান করছে এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি আরো বলেন এই প্রার্থীরা সকল সেন্টারের কর্মী তো দুরের কথা এজেন্ট দেওয়ার মতো কর্মী নেই।

এ ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে হিজলার একদল সংবাদকর্মী হিজলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে সেখানে দেখা যায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যানার পোস্টার রয়েছে কিন্তু কোন ধরনের গণসংযোগ করে নাও।

ঘোড়া মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ হোসেন জানায় তার ব্যানার-পোস্টার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছিড়ে ফেলে দেয় এমনকি তার কর্মীদেরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
একইভাবে বললেন আনারস মার্কার প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মুন্সি।

এদিকে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী নজরুল ইসলাম মিলন জানায় আমি চাই একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন আমার কর্মীরা কখনোই কোন প্রার্থীদের হুমকি বা ব্যানার পোস্টার ছেরে নি। আমার কর্মীদের নির্দেশ দেয়া আছে যে কোনো প্রার্থীর গণসংযোগ করলে প্রয়োজনে তাদেরকে সহায়তা দেবে। তিনি আরো বলেন মূলত এই অভিযোগগুলো হচ্ছে নির্বাচনকে ষড়যন্ত্র করে বানচাল করে দেয়া আমি বিশ্বাস করি হিজলা ভোট বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আমার বিজয় নিশ্চিত করবে।

ধুলখোলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী এ কে এম জসিম উদ্দিন জানায় নৌকা মার্কার কর্মীদেরকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি প্রদান করে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামাল উদ্দিন ঢালী ও তার কর্মীরা এমনকি নৌকা মার্কার প্রচারের গাড়িচালককে প্রচারে বাধা প্রদান করে বন্ধ করে দেয়। তিনি আরো জানায় আওয়ামী লীগের কোন নেতা কর্মী তার পাশে নেই।

স্বতন্ত্র প্রার্থী জামাল উদ্দিন ঢালি অভিযোগের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে বলে এই ইউনিয়নে অনেকেই হত্যা মামলার আসামি তারা সদস্য পদে নির্বাচন করে আসামি থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন তাদের কে গ্রেফতার করেনা।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ দেলোয়ার হোসেন সকল অভিযোগের বিষয়ে নাকচ করে দিয়ে বলে কোনো প্রার্থীর যদি কোনো ধরনের প্রশাসনিক সহায়তা প্রয়োজন হয় আমরা তা তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়ার চেষ্টা করি।