বরিশাল ব্যুরো
‘একটাই পৃথিবীঃ প্রকৃতির ঐক্যতানে টেকসই জীবন’ এই শ্লোগানে সম্মিলিত ভাবে পরিবেশ রক্ষায় কাজ করতে একাট্টা হয়েছেন বরিশালের নাগরিক সমাজ। পরিবেশ সুরক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ, বরিশাল এর আয়োজনে কীতর্নখোলা নদীর তীরে একটি রেস্টুরেন্টে বরিশালের সার্র্বিক পরিবেশ-প্রতিবেশ উন্নয়ন ও সুরক্ষায় এক পরামর্র্র্র্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মুক্তিযোদ্ধা কে.এস.এ. মহিউদ্দিন মানিক (বীর প্রতীক) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উন্নয়ন সংগঠক কাজী জাহাঙ্গীর কবির। পরিবেশবাদী সংগঠক মোঃ রফিকুল আলম ও উন্নয়ন সংগঠক মোঃ নাছির উদ্দিন এর সঞ্চলনায় সভায় সুপারিশমালা ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন ডা. সৈয়দ হাবিবুর রহমান, অধ্যক্ষ গাজী জাহিদ হোসেন, আনোয়ার জাহিদ, কাজী আবুল কালাম আজাদ, রনজিৎ দত্ত, লিংকন বায়েন, টুনু রানী কর্মকার, শিবানী চৌধুরী, মনিরুল ইসলাম স্বপন খন্দকার, মাহমুদা খানম, হাবিবুর রহমান তালুকদার, কাউন্সিলর কহিনুর বেগম, মোঃ আশফাকুর রহমান, তুহিন চক্রবর্তী, মজিবুর রহমান খান, এনায়েত হোসেন মনির, সাইদ পান্থ, বেবী জেসমিন, শুভংকর চক্রবর্তী, কাজী মিজানুর রহমান ফিরোজ, এ্যাড. হিরন কুমার দাস মিঠু, প্লাবনী ইসলাম, তানভির হোসেইন, উত্তম কুমার ভক্ত, ইস্রাফিল ও প্রজ্ঞা প্রমুখ।
বক্তারা বরিশালের সার্বিক পরিবেশ-প্রতিবেশ, যে ৭টি খাল খননের জন্য ইতিমধ্যে বরাদ্দ এসেছে তা অবিলম্বে খনন কার্যক্রম পরিচালনা করা, কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী এলাকার দখলকারীদের তালিকা প্রণয়ন করে উম্মুক্ত প্রকাশকরণ এবং অবিলম্বে দখলমুক্তকরণ, নগরীর ৮টি লাল তালিকাভূক্ত শিল্প-কারখানাসমূহের তরল রাসায়নিক বর্জ্য যাতে ইটিপি সার্বক্ষণিক ব্যবহারের মাধ্যমে শূন্য নির্গমন কর নো ও স্যাটেলাইট মনিটরিং করা, নদী-খালের সিএস মৌজা ম্যাপ ধরে সীমানা নির্ধারণ, প্লাস্টিক ও একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন ধারাবাহিক ভাবে শূন্য ব্যবহারে নিয়ে আসা, নগরীর বর্জ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, নগরীর পুকুর-জলায়ের সংখ্যা নির্ধারণসহ সংরক্ষণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণ, উম্মুক্ত উদ্যান স্থান, বিনোদন কেন্দ্র, অগ্নি নির্বাপনের যথাযথ সতর্ককরণ ও দ্রুততার সাথে উদ্যোগ গ্রহণ, ভবন নির্মাণ বিধিবিধান যথাযথ অনুসরণ ইত্যদির সার্বিক পরিস্থিতি সেক্টর ভিত্তিক অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে চিহ্নিতকরণ করতে হবে। পাশাপাশি সমাধান প্রক্রিয়ার সুস্পষ্ট সুপারিশ প্রদান-গ্রহণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ ভূমিকা পালনের গুরুত্বারোপ করেন। সভার সিদ্ধান্ত মতে সুপারিশসমূহ কম্পাইলিং করে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে অধিকতর গ্রহণযোগ্যতার লক্ষ্যে সংশোধনী ও সংযোজনির জন্য প্রেরণ করা হবে। পরবর্তীতে এ সকল সুপারিশমালা অগ্রাধিকার বিশ্লেষণ করে পরবর্তী কর্ম-পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে। যাতে ভবিষ্যতে নগরীর অধিক সংখ্যক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে নগরীর পরিবেশ-প্রতিবেশ উন্নয়নে সার্বিক ভূমিকা পালন করা সম্ভব হয়। ##