সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ গয়াছ উদ্দিন হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যা মামলার আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে শুক্রবার (১০ জুন) বিকেলে স্থানীয় পীরেরবাজারে দশঘর ইউনিয়নের সর্বস্থরের জনতার ব্যানারে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা শেষে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলটি পীরের বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় ‘ফাঁসি-ফাঁসি-ফাঁসি চাই’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে এলাকা।
ঘটনার দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও মাসুক মিয়া ছাড়া মামলার আর কোন আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ার কারণে এলাকাবাসী এসব কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। দ্রুত অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তার করা না হলে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আরো কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা করবেন বলে হুসিয়ারী করেন। এছাড়া দশঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকেও পৃথক পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও প্রতিবাদ সভায় ঘোষণা করা হয়।
প্রতিবাদ সভায় দশঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃআবুল হোসেন বলেন, গয়াছ মিয়ার মতো একজন সহজ, সরল, সামাজিক ও সমাজসেবককে যারা হত্যা করেছে তাদের সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশ প্রশাসন ও হত্যার সাথে জড়িতদেরকে ফাঁসি দেওয়ার জন্য বিচার বিভাগসহ সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন এলাকাবাসী। এলাকার শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখতে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ও দেশে থাকা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে গয়াছ হত্যা মামলার আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার জন্য এবং মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে নিয়ে এসে দ্রুত বিচার কার্যসম্পন্ন করে হত্যাকারীদের ফাঁসির রায় কার্যক্ররের দাবী এলাকাবাসীর।
শিক্ষক মোহাম্মদ নোমান আহমদের সভাপতিত্বে ও দশঘর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি শাহান আহমদের পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন দশঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন, সহ সভাপতি তজম্মুল আলী, তৈমুছ আলী, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস মিয়া, যুক্তরাজ্যের ইস্ট লন্ডন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক টুনু মিয়া, জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম বরুণী মাদ্রাসার কোষাধ্যক্ষ সুন্দর আলী, দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার তাজুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা হাজী কামাল, দশঘর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি মাছুম আহমদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সৈকত হোসেন, নিহত গয়াছ উদ্দিনের ছোট ভাই শেখ জসিম উদ্দিন, ভাতিজা শেখ সেবুল।
প্রসঙ্গত, পূর্ব বিরোধের জের ধরে গত ২৮ মে রাতে স্থানীয় পীরেরবাজার থেকে বরুণী গ্রামস্থ নিজ বাড়ি ফেরার পথিমধ্যে একই গ্রামের মৃত জমির আলী উরফে জমরুশের পুত্র মাসুক মিয়া গংদের হামলায় গুরুত্বর আহত হন দশঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ গয়াছ উদ্দিন। আহত গয়াছ চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩ জুন শুক্রবার সকালে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন।
এ ঘটনায় নিহত গয়াছের পুত্র মাজেদ আহমদ বাদী হয়ে ২ জুন ২০ জনের নাম উল্লেখ করে বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করে। মামলা নং ০২ (তাং ২.০৬.২২ইং)। মামলায় মাসুক মিয়াকে প্রধান আসামী করা হয়। ৩ জুন বাদ মাগরিব গয়াছ উদ্দিনের জানাযার নামাজ ও দাফন সম্পন্ন হয়। দাফন শেষ হওয়ার ৪ ঘন্টার মধ্যেই সুনামগঞ্জের জগনন্নাথপুর উপজেলা থেকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত মাসুক মিয়াকে গ্রেপ্তার করে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ। তবে এরপর আর কোন আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।