• ২৬শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে লন্ড্রির দোকানগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ১৮, ২০২২, ১৩:৩৯ অপরাহ্ণ
ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে লন্ড্রির দোকানগুলো

মোঃ আসাদুল ইসলাম
গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ

এক সময়ে হাট-বাজারের অলিগলিতে অহরহ দেখা যেতো লন্ড্রির দোকান। সেখানে কাপড় আয়রন (ইস্ত্রি) করে নিতে ভির করতেন মানুষেরা। কিন্তু সেই লন্ড্রি দোকানগুলো এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না। নেই ওইসব মানুষদের আনাগোনা । যেন বিদায় ঘন্টা বেজে চলেছে লন্ড্রির দোকানে।

শনিবার (১৮ জুন) সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে দেখা গেছে, হাতে গোনা কয়েকটি লন্ড্রির দোকান। সেখানে তেমন নেই ইস্ত্রি করা গ্রাহক। এসব দোকানের মালিকের মধ্যে কেউ কেউ ২-১ টি কাপড় আয়রন করেছে আবার কেউবা বসে বসে অলস সময় পার করছে।

জানা যায়, প্রায় এক দশক আগে প্রত্যেকটি শহর ও হাট-বাজারগুলোতে অনেকে পেশা হিসেবে কাপড়-চোপড় আয়রন (ইস্ত্রি) দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সেখানে সকল পেশা-শ্রেণির মানুষগুলো নিখুঁত করে পরার জন্য থলেভর্তি শার্ট-প্যান্ট-পাঞ্জাবী-শাড়ী-ওড়নাসহ বিভিন্ন বস্ত্রাদি বিদ্যুৎ চালিত ইস্ত্রি দিয়ে আয়রন করে নিতেন।

এখন উন্নয়নশীল দেশের আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে লন্ড্রির দোকানগুলো। সেই সময়ে গ্রামাঞ্চলের ঘরে ঘরে ছিলো না বিদ্যুৎ। আর মানুষ ব্যবহার করতো পলেষ্টার, টেট্রন, টরে কাপড়সহ অন্যান্য রকমের কাপড়। এসব কাপড় দিয়ে তৈরী করা পোশাকগুলো ধোয়ার পরই এলোমেলোভাবে ভাঁজ হয়ে থাকতো। এছাড়া অনেকে বস্ত্রাদিতে তরল জাতের মাড় দেওয়ার কারনেও ভাঁজ হতো। যার কারণে মানুষেরা ধোয়া পোশাক ইস্ত্রি না করা পর্যন্ত পরিধান করতেন না। কিন্তু সেইসব কাপড়ের স্থান দখল করে নিয়েছে উন্নত সুঁতোর তৈরী কাপড়াদি।

এখনকার শপিংমলে এসব কাপড়ের চাহিদা বেশী। কারণ, এই কাপড়গুলো দিয়ে পোশাক বানালে সেগুলো ধোয়ার পরও ভাঁজ হয় না। সোজা নিখুঁত অবস্থায় থাকে। এছাড়া বর্তমান সরকার ঘরে ঘরে পৌঁছাছে বিদ্যুৎ। তাই গ্রাম-গঞ্জে বসবাস করা পরিবারগুলোর অনেকে নিজেরাই কিনেছে আয়রন মেশিন (ইস্ত্রি)। তাই যার যার পোশাক, তারা নিজ নিজ ঘরেই আয়রন করে চলেছেন। এছাড়া বর্তমান প্রজন্মের কাছে কাপড় ইস্ত্রি করাটাও অপছন্দনীয়।

বিদ্যমান পরিস্থিতে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে লন্ড্রির দোকানগুলো। অনেকে এ পেশা ছেড়ে বেশে নিয়েছে অন্য পেশা। এর মধ্যে কতিপয় দোকানি ধরে রেখেছে এ পেশাটি। এ দিয়ে কোনমতে জীবনজীবিকা চলছে তাদের। তাই নানা কারনে কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে লন্ড্রি দোকান।