রিয়াজুল হক সাগর রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
উজানের পাহাড়ী ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় প্রায় ৭শ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানির উঠা-নামায় তিস্তা নদীর কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তাই নদীর বুকে নৌকায় করে বাড়ি ভেঙে আনার দৃশ্যেরও দেখা মিলেছে।
এদিকে, উপজেলা প্রশাসন কোলকোন্দ ও লহ্মীটারী ইউনিয়নে ২ শতাধিক বন্যা দুর্গতদের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেছে। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরশাদ উদ্দিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুনিমুল হকসহ সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যাগণ উপস্থিত ছিলেন।
রোববার (১৯ জুন) সরেজমিনে নদী পথে গঙ্গাচড়া লহ্মীটারী ইউনিয়নের চরশংকরদহে গেলে নৌকার দেখা মিলতেই ত্রাণের প্রত্যাশায় এক বুক পানি মাড়িয়ে, ভেলায় করে ছুটে আসেন ত্রাণ প্রত্যাশীরা। প্রায় বিলীনের পথে শংকরদহ গ্রামে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। তাই টিনের চাল, বেড়া, চুলা, গবাদী পশু নৌকায় করে মহিপুর শেখ হাসিনা ব্রিজের আশপাশে উঁচু স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বানভাসীরা। গত এক সপ্তাহে ওই গ্রামের প্রায় ১৫টি পরিবার ভাঙনের কারণে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন।
লহ্মীটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, তিস্তা নদীতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আমার এলাকা। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিনবিনার চর থেকে মহিপুর শেখ হাসিনা সেতু পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার বাঁধ দাবি করে আসছি। এই বাঁধ হলে আমাদের কৃষি জমি, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, মসজিদ-মন্দির, স্কুল-কলেজ রক্ষা পাবে। অথচ সরকার দেশে পদ্মাসেতুর মত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও তিস্তা নদীর বামতীরে মাত্র ৬ কিলোমিটার বাঁধ দিচ্ছে না। উত্তরের মানুষের প্রতি সরকারের কেন এত অবহেলা তা আমার বোধগম্য নয়।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরশাদ উদ্দিন বলেন, আমার উপজেলায় ৭শ পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় আছে। আমরা তাদের চাল, শুকনা খাবার, স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করেছি। তাদের যে কোন প্রয়োজন আমাদের জানালে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণের কোন সঙ্কট নেই। আমাদের কাছে জনপ্রতিনিধিরা চাহিদা দিলেই আমরা ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছি।