সৈয়দ নূর-ই আলমঃ
সালিশ বৈঠক শেষে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের ৩ জনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় বরগুনার বেতাগী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঢালীকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর রক্তাক্ত জখম পবিত্র হাওলাদার (৪০) কে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে।
জানা গেছে, বেতাগী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঢালীকান্দা গ্রামের পবিত্র হাওলাদারের সাথে ওই একই এলাকার শিবু শীল, জয়ন্ত শীল, গোবিন্দ শীল, বলাই শীল নিঠুর হাওলাদারের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। গতকাল রবিবার বিকেলে (১৯ জুন) ৩ ওয়ার্ডের ঢালীকান্দা গ্রামের স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি সালিশ বৈঠক হয়। সালিশ বৈঠক শেষে প্রতিপক্ষ শিবু শীল, জয়ন্ত শীল, গোবিন্দ শীল, বলাই শীল, নিঠুর হাওলাদারসহ ১০-১২ জনের একটি দল পবিত্র হাওলাদারকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। ধারলো দেশীয় রামদা দিয়ে পবিত্রের মাথায় উপুর্যপরিভাবে কোপানো হয়েছে। ভুক্তভোগির ভাষ্যমতে, এসময় পবিত্র হাওলাদারের ছেলে স্বরন হাওলাদার (১৭) কে হত্যা করা উদেশ্যে কোপ দিলে বাম হাত দিয়ে নিজেকে রক্ষা করে। বাম হাত কেটে গুরুতর জখম হয়। পরে দৌড়ে অন্য একটি ঘরের খাটের নিজে লুকিয়ে নিজেকে রক্ষা করে। শরণ বেতাগী সরকারি কলেজ ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী। স্বরণ ৯৯৯ ফোন দিলে বেতাগী থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক রনি জানান, পবিত্র হাওলাদারের মাথায় রক্তাক্ত জখমের কারণে প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হয়েছে। এবং তার মাথায় ২৫ টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর।
পবিত্র হাওলাদার জানায়, শিবু শীল, বলাই শীল, জয়ন্ত শীল, গোবিন্দ শীল, নিঠুর হাওলাদারসহ ১০-১২ জনের একটি দল রামদা, চাপাতি নিয়ে আমাকে হত্যার এলোপাথারি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। আমার ঘরের সকল আসবাবপত্র কুপিয়ে ভাংচুর করা হয়েছে।
পবিত্র স্ত্রী অর্চনা রাণী জানায়, আমার বিছানার নিচে লুকাণো ৭০ হাজার সন্ত্রাসিরা লুটপাট করে নিয়ে গেছে। ‘
অভিযোগকারীরা ঘটনার পর আত্মগোপনে থাকায় তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয় বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ আলম হাওলাদার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পবিত্রের ছেলে শরণকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’