• ২৬শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বশেমুরবিপ্রবি’র সিএসই বিভাগের শিক্ষক মো: আক্কাস আলীর যোগদানের প্রতিবাদে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ২১, ২০২২, ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ
বশেমুরবিপ্রবি’র সিএসই বিভাগের শিক্ষক মো: আক্কাস আলীর যোগদানের প্রতিবাদে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সিএসই (কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের শিক্ষক মো: আক্কাস আলীর যোগদানের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। এসময় ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জনের ঘোষনা দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আগামী জানুয়ারী মাসে সাজা ভোগ শেষে ওই শিক্ষকের সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান হিসাবে যোগদান করার কথা রয়েছে।

জানাগেছে, আজ মঙ্গলবার (২১ জুন) সকাল থেকে সিএসই বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষক মো: আক্কাস আলী যাতে যোগদানের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এসময় বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীরা। শ্লোগানে শ্লোগানে কম্পিত হয়ে ওঠে পুরো বিভাগ। এসময় ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জনের ঘোষনা দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত সিএসই বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক রায়, আদীব মোহাইমীন ও ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, সিএসই (কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের শিক্ষক মো: আক্কাস আলী দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও ভর্তি বাণিজ্যের সাথে যুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সাড়ে তিন বছর আগে তদন্ত হয়েছিল। কিন্তু সেই তদন্ত প্রতিবেদন আজও প্রকাশিত হয়নি। আগামীতে তিনি আবার যোগদান করছেন। আমরা তার যোগদানের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছি।

প্রসঙ্গত, বিগত ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সিএসই (কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ইঞ্জিঃ মো: আক্কাস আলী ওই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের দুই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয়াসহ যৌন হয়রানী করে আসছিলেন। পরে দুই শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানীর দায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মো: আক্কাস আলীর শাস্তির দাবীতে আন্দোলনে নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. আব্দুর রহিম খানকে সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক ড. মো. বশির উদ্দিনকে সদস্য সচিব করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান আক্কাস আলীকে বিভাগীয় প্রধানের পদ থেকে আজীবনের জন্য অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সেই সাথে জানুয়ারি-জুন ২০১৯ থেকে জুলাই-ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত মোট ৮ সেমিস্টারের জন্য সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ থেকে বিরত থাকতে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এরই মধ্যে গত নভেম্বর মাসে আক্কাস আলী ও তদন্তকারী দলের প্রধান অধ্যাপক মো: আব্দুর রহিম খানের ফোনালাপ ফাঁস হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়তে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হন। #