• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লা’য় গোমতী নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমিসহ ঘরবাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ২৩, ২০২২, ১৫:৪৬ অপরাহ্ণ
কুমিল্লা’য় গোমতী নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমিসহ ঘরবাড়ি

আব্দুল্লাহ আল মানছুর, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি:
টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিতাস উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকার কয়েকটি গ্রামের ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট, মাছের ঘেরসহ তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। এতে করে কয়েকটি সংযোগ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় শতাধিক পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন তিতাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম মোর্শেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক, উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ, ৫নং কলাকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম সরকার, ইউপি সদস্য ডালিম ও মিজানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোমতী নদীর পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ মানিকনগর, উত্তর মানিকনগর ও আফজালকান্দি গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে হুমকির মুখে রয়েছে উপজেলা রক্ষার জন্য নির্মিত বেড়িবাঁধ। এছাড়াও হঠাৎ পানি বৃদ্ধির ফলে বেড়িবাঁধ এলাকার প্রায় ১৫ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে দিশাহারা কৃষকরা। কলাকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান ইবাহিম সরকার বলেন, হঠাৎ করেই গোমতীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউনিয়নের ৩-৪টি গ্রামের রাস্তাঘাট ও ফসলি জমিসহ ঘর-বাড়ি তলিয়ে গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম মোর্শেদ বুধবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে তাদেরকে সহযোগিতার প্রতিশ্রæতি দেন এবং যে সকল রাস্তাঘাট ভাঙন দেখা দিয়েছে তা দ্রুত মেরামত করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে পরার্মশ দেন। এছাড়াও বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি সেবা পৌঁছে দিতে উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছেন বলে ইউএনও এটিএম মোর্শেদ জানান। এদিকে তিতাস উপজেলার গোমতী নদীর দুই ধারে বেড়ীবাঁধ এলাকা থেকে সিন্ডিকেট কর্তৃক অবৈধভাবে মাটি লুটের কারণে নদীর দুই পাড়ে বেড়ীবাঁধ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। এসব ক্ষতবিক্ষত স্থান দিয়ে ঝিরঝির করে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে জানান আশ পাশের বাসিন্দারা। এতে গোমতী বেড়ীবাঁধ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে চরম উদ্বেগ এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, গোমতী নদীতে অতিরিক্ত পানি প্রবাহের কারণে বেড়ীবাঁধের অভ্যন্তরে থাকা বিভিন্ন উপজেলার লোকজন এখন পানিবন্দি হয়ে পরছে। নদীর পানি বিপদ সীমার উপরে প্রবাহিত হওয়ার কারণে গোমতী রক্ষা বাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা বিষয়টি সার্বক্ষণিক নজর রাখছি।