দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে লঞ্চের সরকার নির্ধারিত ভাড়ার থেকেও কম ভাড়ায় ঢাকা-বরিশাল রুটে বাসে যাতায়াত শুরু করেছে মানুষ। সোমবার (২৭ জুন) সকালে বরিশাল নগরীর নতুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
জানা যায়, লঞ্চের থেকে বাসে ঢাকা-বরিশাল রুটে কম নির্ধারণ করায় যাত্রীরা বাস যোগে ঢাকায় ছুটছে। ঢাকা-বরিশাল রুটে মাত্র ৩৫০ টাকায় যাত্রী আনা নেওয়া করছে বিএমএফ পরিবহন। পাশাপাশি অন্যান্য পরিবহনগুলোও চার শ টাকার মধ্যে যাত্রী বহন করছে।
অপরদিকে ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো এখনও সরকার নির্ধারিত ভাড়া যাত্রী প্রতি ৩৫৪ টাকা করে রাখছে। ফলে কম ভাড়া ও স্বল্প সময়ে ঢাকা-বরিশাল যাতায়াত করতে বাসমুখী হচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষ। আর এ কারণেই গত দুই দিন ধরে নগরীর নতুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।
বরিশাল থেকে ঢাকার সায়েদাবাদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়া যাত্রী শামীম মুন্সী বলেন, লঞ্চের থেকে শুধু যে ভাড়া কম তা নয়, সময়ও প্রায় অর্ধেকেরও কম লাগবে। তাই লঞ্চে না গিয়ে বাসে যাচ্ছি। সাথে বাড়তি যোগ হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতুও দেখার আনন্দ।
অপর এক বাস যাত্রী শিবলী জানান, আগে ৮ থেকে ৯ ঘন্টা জার্নি করে লঞ্চে ঢাকা থেকে বরিশাল আসা যাওয়া করতাম। এখন সেখানে মাত্র ৩ থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় বাসে ঢাকা-বরিশাল আসা যাওয়া করা যাবে। তাছাড়া লঞ্চে যে হারে ভাড়া বাড়িয়েছে সে তুলনায় এখন বাসের ভাড়া কম।
বরিশাল নতুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের বিএমএফ পরিবহনের ম্যানেজার এম আর নয়ন ঢাকা মেইলকে বলেন, যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে বরিশাল থেকে সায়েদাবাদের ভাড়া ৩৫০ টাকা করে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের সুবিধার্থে ৫০ মিনিট পর পর সকাল ৬ থেকে গভীর রাত অবধি বাস ছাড়া হচ্ছে। তবে যাত্রীদের চাপ এমন থাকলে এ রুটে আরো নতুন নতুন বাস যোগ হবে বলে জানান নয়ন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থার সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু ঢাকা বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পরই আমরা লঞ্চ মালিকরা যাত্রীদের সুবিধার্থে নতুন করে ভাড়া নির্ধারণ করার পরিকল্পনা করছি। যা খুব শীঘ্রই কার্যকর করা হবে। তাছাড়া এখনও সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে কিছু টাকা কম ভাড়া রাখা হয়। এ ভাড়া আরো কমিয়ে সাধারণের নাগালের মধ্যে আনা হবে বলে জানান এ সাইদুর রহমান রিন্টু।ঢাকা-বরিশাল রুটে লঞ্চের চেয়ে বাসভাড়া কম