–
সোনাইমুড়ী উপজেলা বিএনপি নেতারা নতুন কমিটির আশায় দৌড়ঝাঁপ করে এখন খানিকটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। ‘যে কোন সময় কমিটি’- এমন ঘোষনা দেয়ার পরও প্রায় দুই বছর গড়িয়েছে সময়।
গত কয়েকদিন আগেও নতুন কমিটির দেয়ার প্রস্তুতি প্রায় গুছিয়ে আনার পর আবারো তা থমকে যায়। এ অবস্থায় সাংগঠনকে আরো গতিশীল করতে নেতারা দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটি দেয়ার দাবী জানিয়েছেন। নতুন ও প্রবীন সমন্বয় করে উপজেলা বিএনপির আগামীর নেতৃত্বে ৬ নেতা বেশ আলোচনায় রয়েছেন। এর বাইরেও আরো কয়েকজন নেতা আলোচনায় আছেন।
বিএনপির চট্রগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ের একটি সূত্র থেকে জানা যায়, ‘সোনাইমুড়ী উপজেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্ব এবার বুঝেশুনেই দিতে চায়। এ কারণে অধিক পর্যালোচনার জন্যই ধীরগতি নিয়েছে। দলে নেতৃত্ব দেয়ার অভিজ্ঞতা, অতিত ইতিহাস, আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা এবং কর্মীদের সাথে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন- এ কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করেই এবারের নেতা নির্বাচন করা হবে।
জানা যায়, কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া অনেকটা গুছিয়ে আনা হয়েছে। ঈদের আগেই ঘোষণা দেয়ার চিন্তা থাকলেও অজানা কারনে তা ঈদের পরে নেয়া হয়েছে। নতুন এ কমিটিতে ‘সুপার নাইন’ করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আহবায়ক পদে আনোয়ারুল হক কামাল, এডভোকেট তুহিন চৌধুরী ও এডভোকেট মাহমুদ হাসান শাকিল আলোচনায় আছেন।
এর মধ্যে আনোয়ারুল হক কামাল সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও টানা কয়েক মেয়াদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় দলের শীর্ষ পর্যায়ে ‘গুডবুকে আছেন। এছাড়া দলের আইনজীবি নেতা হিসেবে তুহিন চৌধুরী কর্মীদের মাঝে আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন। মাহমুদ হাসান শাকিল অতিতে জনপ্রিয় ছাত্রদল নেতা ছিলেন এবং নতুন প্রজন্মের নেতা হিসেবে তিনিও আলোচনার মধ্যে আছেন বলে জানা যায়।
অন্যদিকে, দলের আরেকটি সূত্র থেকে জানা যায়, সদস্য সচিব পদে আলোচনায় আছেন দিদার হোসেন, কুতুব উদ্দিন সানি ও আবদুল গণি পাটোয়ারী মামুন।
এদের মধ্যে কুতুব উদ্দিন উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রদল থেকে সংগ্রাম করে উপজেলা বিএনপি নেতৃত্বে এসেছেন তিনি। সাংগঠনিকভাবে নেতাকর্মীদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা এখনো আছে ফলে সদস্য সচিব হিসেবে এগিয়ে থাকছেন তিনি।
নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দিদার হোসেন শক্ত অবস্থানে আছেন। তাছাড়া দেউটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার উপর হামলার ঘটনায় শীর্ষ মহলে সুদৃষ্টিতে রয়েছেন তিনি। সভা সমাবেশগুলোতে ভালো বক্তা হিসেবে তার খ্যাতি রয়েছে। সব মিলিয়ে দিদার হোসেন এবার চমক দেখাতে পারেন।
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আবদুল গণি পাটোয়ারী মামুন জয়াগ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সবার নজর কেড়েছেন। ভোটের ফলাফলে পুরো উপজেলা দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে তিনি এগিয়ে ছিলেন এবং অনেকটা বিজয়ের দ্বাপ্রান্তে পৌঁছে যান। দেশব্যাপী তরুনদের হাতে দলীয় নেতৃত্ব তুলে দেয়ার প্রবণতা থেকে সাবেক ছাত্র নেতা মামুন আলোচনায় আছেন।
কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার বিষয়ে কয়েকজন প্রার্থীর সাথে কথা হলেও তাদের অনুরোধে বক্তব্যগুলো এখানে উল্লেখ করা হয়নি।