মোঃ ইসমাইল ভোলা।।
আগামী ১০ জুলাই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের অন্যতম ঈদুল আজহা তথা কুরবানির ঈদ অনুষ্ঠিত হবে। এই ঈদের অন্যতম কাজ হচ্ছে পশু কোরবানি করা। প্রতি বছরই ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম প্রস্তুত করতেন কামাররা। তবে এ বছর তার ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। আগে কয়লার দগদগে আগুনে লোহাকে পুড়িয়ে পিটিয়ে তৈরি করেছিল সব ধারালো সামগ্রী। তবে এসব তৈরিতে এখন আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেছে। পুরোনো সেই কালের নিয়মে এখন আর নেই।
আগে কয়লার দগদগে আগুনে লোহাকে পুড়িয়ে পিটিয়ে তৈরি করেছিল সব ধারালো সামগ্রী। কিন্তু এখন আধুনিক সরঞ্জাম এর মাধ্যমে তা তৈরি হচ্ছে। এতে অনেকই ছেড়ে দিয়েছে কামার পেশা।
ভোলা শহরের পবিত্র কর্মকার বলেন, আজ থেকে ৫ বছর আগে ভোলা শহরে প্রায়ে ৫০-৫৫ টি দোকান ছিল।এতে ১০০০-১২০০ লোক কাজ করতেন। বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করায় লোকজন কম লাগছে। এতে অনেকই কামার পেশা ছেড়ে দিয়েছে। আগে আমার দোকানে কাজে লোক ছিলো সাত জন আর এখন আমরা দুইজনে আধুনিক যন্ত্র (সান মেশিন) ও অন্য অন্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সাতজনের কাজ করে পেলি।
পরানগঞ্জ বাজারে স্বপন (৪৫) কর্মকার বলেন, আমি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কামার পেশা আছি। আজ থেকে তিনবছর আগে আমরা চার ভাই মিলে ইলিশার হাটে দোকান করেছিলাম। এখন আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করায় লোকবল কম লাগায়ে আমার ভাইয়েরা এই পেশা ছেড়ে দিয়েছে। তারা এখন বিভিন্ন পেশায় সাথে সম্পৃক্ত।
তিনি আরো বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর বেচা-বিক্রি কম। ১ কেজি ওজনের চাপাতি বিক্রি করছি ৪৫০ টাকা, ১ কেজি ২০০ গ্রামের বটি বিক্রি করছি ৫০০ টাকায় এবং ৫০০ গ্রাম ওজনের ছুরি বিক্রি করছি ১৫০-১৮০ টাকায়।