যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা * বাজারে রিকশা মাহিন্দ্র স্ট্যান্ড * বাজার অপসারণের দাবিপদ্মা সেতুর সুফল পেতে বাধা মহাসড়কের বাজার
যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা * বাজারে রিকশা মাহিন্দ্র স্ট্যান্ড * বাজার অপসারণের দাবি
দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন থেকে শুরু করে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিকাশে পদ্মা সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। গত একযুগে অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। অর্থনৈতিক তৎপরতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।
সেদিক থেকে তুলনা করলে এখন পদ্মা সেতুর তাৎপর্য অনেক বেশি। কিন্তু এ সেতুর সুফল পেতে সরু সড়ক এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ওপর গড়ে ওঠা একের পর এক বাজার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারকে কেন্দ্র করে ওইসব স্থানে রিকশা, মাহিন্দ্র ও অটো স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে।
এতে মহাসড়কে দূরপাল্লার যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনাও ঘটছে। মহাসড়কের আশপাশের বাজার উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছে বরিশালের সচেতন মহল। তবে জেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে-মহাসড়কের পাশে বৈধ ও অবৈধ বাজার উচ্ছেদের ব্যাপারে তারা তৎপর রয়েছে।
জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বাকেরগঞ্জ থেকে ভুরঘাটা পর্যন্ত ৭১ কিলোমিটারের মহাসড়ক ঘেঁষে প্রায় ২৪টি বাজার গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে বরিশাল থেকে ভুরঘাটা পর্যন্ত ৪৬ কিলোমিটার সড়কে ১৮টি ও বরিশালের জিরো পয়েন্ট থেকে বাকেরগঞ্জ পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটারের সড়কে ছয়টি বাজার রয়েছে। মহাসড়কটির বরিশাল থেকে ভুরঘাটা পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) বরিশাল অংশে পড়েছে।
সূত্র জানায়, মহাসড়কটির বরিশাল অংশে গড়ে ওঠা বাজারের মধ্যে চৌমাথা, কাশিপুর, কাশিপুরের রেন্ট্রিতলা, গড়িয়ারপাড়, ছয়মাইল, সাতমাইল, রহমতপুর, জয়শ্রী, লাকুদিয়া, ইচলাদি, শানেওয়ার, বামরাইল, বাটাজোর, মাহিলারা, টরকি, বার্থি, গৌরনদী ও ভুরঘাটা অন্যতম। এসব বাজারের কোনোটিতে সড়কের পাশে ও ওপরে ভাসমান বাজার বসে।
প্রতিটি বাজারে বাস, রিকশা ও অটো টেম্পুর স্ট্যান্ড রয়েছে। এর মধ্যে গৌরনদী উপজেলার টরকি বন্দরের লাখেরা-কসবা সেতু থেকে নীলখোল সেতু পর্যন্ত প্রায় পৌনে এক কিলোমিটারে কয়েকশ স্থাপনা রয়েছে। এসব স্থাপনার কোনো কোনোটি মহাসড়ক থেকে চার-পাঁচ ফুট দূরত্বে, কোনো কোনোটি তারও কম দূরত্বে। মূল বাজারে ঢোকার মুখে বাসস্ট্যান্ডে অসংখ্য রিকশা, ব্যাটারিচালিত ভ্যান দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করা হয়। এ কারণে দূরপাল্লার বাসগুলোকে সেখানে আটকা পড়তে হচ্ছে।
বরিশালের জিরো পয়েন্ট থেকে বাকেরগঞ্জ পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটারের সড়কে প্রায় ছয়টি স্থায়ী ও তিন থেকে পাঁচটি অস্থায়ী (সাপ্তাহিক) বাজার বসে। এরমধ্যে শহরের ব্যস্ততম সড়ক নগরের রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, বুড়ির মাজার, বোয়ালিয়া বাজার, বাকেরগঞ্জ অন্যতম।
বাকেরগঞ্জের বোয়ালিয়া বাজার এলাকার মো. জুয়েল মৃধা বলেন, বাকেরগঞ্জে রাস্তার পাশে সপ্তাহে দুটি বাজার বসে। রাস্তার পাশের বাজারে গরু-ছাগল বিক্রি করা হয়। আর এখান থেকে একটি চক্র মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা নিচ্ছে। এছাড়া গৌরনদীর মাহিলারায় সড়কের পাশজুড়ে সকাল থেকে ভ্রাম্যমাণ বাজার বসে। চলে রাত পর্যন্ত। চট বিছিয়ে অথবা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে মাছ-সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে ভাসমান ব্যবসায়ীরা। ক্রেতারাও সড়কের ওপর ভিড় জমিয়ে বাজার করে।
গৌরনদী মাহিলারা বাজার ঘিরে মহাসড়কের দুপাশে দু-তিন ফুট দূরত্বে অন্তত ২০০টি স্থায়ী দোকান গড়ে উঠেছে। একই অবস্থা গৌরনদী বার্থি বাজার এলাকায়। মহাসড়কের কোল ঘেঁষে চলছে ভ্রাম্যমাণ বাজার। বাজারে মাছ-সবজিসহ নানা পণ্যের পসরা নিয়ে বসেন দোকানিরা। এসব দোকানের সামনে সব সময় ক্রেতাদের ভিড় থাকে।
মহাসড়কের গড়িয়ারপাড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়-মহাসড়ক ঘেঁষে ১২-১৫টি বাসের কাউন্টার। এসব কাউন্টার সামনের অংশ একেবারে সড়কের ওপর উঠে গেছে। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। পাশে অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড থাকায় ভোগান্তির পাশাপাশি ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
গৌরনদী এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী জানান, আমরা অবৈধভাবে বসিনি। বছর বছর সড়কের দুপাশ বর্ধিত হয়েছে। ফলে আমরা সড়কের কাছে চলে এসেছি। এগুলো অবৈধ স্থাপনা নয়।
বরিশাল নগরের সিঅ্যান্ডবি সড়কের হাতেম আলী কলেজ-সংলগ্ন চৌমাথা এলাকায় একদিকে চৌমাথা বাজার আর একদিকে অটো স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এসব স্ট্যান্ড থেকে সড়কের ওপর যাত্রী ওঠানামা করা হয়। ফলে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ বাজারকে কেন্দ্র করে লোকজনের ভিড় লেগে থাকে। অন্যদিকে বাজারের ক্রেতারা সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করেন। ফলে এখানে প্রায় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে।
বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ থেকে অভ্যন্তরীণ রুটের বাসচালক বেল্লাল মোল্লা বলেন, মহাসড়কে বাস চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়ছে। একদিকে সড়কের পাশে অহরহ বাজার, অপরদিকে মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল করছে। আমরা ঠিকমতো গাড়ি চালাতে পারি না। এ বাজারগুলোকে নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে নেওয়া ভালো।
ট্রাকচালক আলম বলেন, আমি প্রতিদিনই উত্তরাঞ্চল থেকে মালামাল নিয়ে বরিশালে আসি। বরিশালের রাস্তার পাশে বাজারের শেষ নেই। সাপ্তাহিক বাজার থেকে শুরু করে ভ্রাম্যমাণ অনেক বাজার দেখা দেখা যায়। রাস্তার পাশে বাজার থাকলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এসব বাজার সরিয়ে নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন বলেন, মহাসড়কের বাজার অপসারণে আমরা কাজ করছি। মহাসড়কের পাশের বাজারগুলো উচ্ছেদে ইতোমধ্যে বরিশালের জেলা প্রশাসকের দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, মহাসড়কের পাশে বাজার অপসারণ করা হচ্ছে। আর এ কাজের দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ বিভাগের। বাজারের তালিকা দিলে আমরা তাদের কাজে সহযোগিতা করব।