স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : আগামীকাল রবিবার মুসলিম ধর্মের সবচেয়ে বড় দু’টি ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে ঈদ-উল-আযহা পালিত হবে। আর ঈদ-উল-আযহার প্রধান অনুসঙ্গ হলো পশু কোরবানী। কিন্তু কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জে দেখা দিয়েছে কসাই সংকট। কসাই সংকটের কারণে পশুর চামড়া ছাড়ানো ও মাংস বানানোর ইচ্ছেমতো পারিশ্রমিক দাবি করা হচ্ছে। এমনকি দুইগুন, তিনগুন টাকা দিয়েও কসাই মিলাতে না পারায় পশু কোরবানী নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মুসলামনরা। আগামীতে কসাই সংকট হতে রেহাই পেতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কসাই তৈরী করা হয় প্রয়োজনীয় স্থানে কসাইখানা গড়ে তোলার দাবী স্থানীয়দের।
জেলা শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা ও জানাগেছে, পবিত্র ঈদ-উল-আযহায় মুসলমানরা আল্লাহর রহমত পেতে পশু কোরবানী করে থাকে। গত দুই বছর করোনার কারনে আশানুরুপ পশু কোরবানী না হলে এবার গোপালগঞ্জে প্রচুর পরিমানে পশু কোরবানী হবে। আর এ কোরবানীকৃত পশুর মাংস তৈরী করতে প্রয়োজন কসাইয়ের। গোপালগঞ্জ জেলায় রয়েছে কয়েক হাজার কসাই। এছাড়া ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে কয়েক’শ শতাধিক মৌসুমী কসাই হিসেবে কাজ করেন। তারা একটি বড় গরুর জন্য ৮ থেকে ১০ হাজার, মাঝারি আকারের গরুর জন্য চার থেকে পাঁচ হাজার ও ছোট গরুর জন্য তিন থেকে চার হাজার টাকা নিয়ে থাকেন।
কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় গোপালগঞ্জে মিলছে না কসাই। অনেকেই জেলার বিভিন্ন স্থানে কসাই-এর খোঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এমনকি তিনগুন, চারগুন টাকা দিয়েও কসাই মিলাতে না পারায় হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে অনেককেই। যদিও অধিক মজুরীতে দুই-একজন কসাই কাজ করতে রাজি হলেও অনভিজ্ঞ শ্রমিক দিয়ে পশু কোরবানী দিতে প্রস্তুত হচ্ছেন অনেকেই।
এদিকে জেলর শহরের বাজারে রয়েছে হাতে গোনা কয়েকজন কসাই। কসাই সংকটের কারনে এক একজন কসাই ৪-৫টি পশু জবাইয়ের কাজ নিয়েছেন। অধিক মজুরী দিয়েও কসাই না পাওযায় অনেকই সময় মত পশু কোরবানী দিতে পারবেন না। ফলে অনভিজ্ঞ শ্রমিক দিয়েই পশুর মাংস বানানো হবে।
পশু কোরবানী দিতে ইচ্ছুক শেখ আব্দুল হান্নান, জিয়াউল কবির বিপ্লব ও মো: আমিনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এবছর কোরবানীর ঈদ উপলক্ষে পশু কোরবানী দিচ্ছি। আগে পরিবারের সকলে মিলে পশু কোরবানী দিতো। কিন্তু এখন পশু কোরবানীর জন্য কসাই আনা হয়। কিন্তু জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে গিয়েও কসাই পাওয়া যাচ্ছে না। তিনগুন, চারগুন টাকা দিয়েও কসাই মিলছে না। যে কারনে কোররবানীকৃত পশুর চামড়া ছাড়ানো ও মাংস তৈরী করতে বিপাকে পরতে হচ্ছে।
পশু কোরবানী করতে ইচ্ছুক মাহামুদ হাসান বলেন, আমি কসাই ঠিক করতে বাজারে এসেছিলাম। কিন্তু কোন কসাই পাইনি। ফলে রিক্সাওয়ালা, ভ্যানওয়ালা বা অনভিজ্ঞ কসাই দিয়ে পশুর চামড়া ছাড়াই ও মাংস তৈরী করতে হবে। এতে চামড়া নষ্ট হবার বয় রয়েছে।
গোপালগঞ্জ শহরের বড় বাজারের কসাই আব্দুল করিম ও জিহাদুল ইসলাম বলেন, আমাদের বাজারে কসাই অনেক কম। তাই যারা কোরবানী দিবেন তারা কসাই পাচ্ছেন না। ফলে শ্রমিক দিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়। কসাই না থাকায় পশু কোরবানী করতে ইচ্ছুকরা সমস্যা পড়েছেন।
কসাই নাহিদ শেখ বলেন, কসাই সংকটে কারনে আমরা এক একজন কসাই ৩ থেকে ৪টা কাজ হাতে নিয়েছি। তারপরেও জেলার অনেকেই কসাই সংকটের কারনে পশু জবাই দিতে পারবেন না। অনেক পারিশ্রমিক দিয়েও কসাই পাচ্ছেন না অনেকই। #