• ২৬শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উজিরপুরে স্বামীর পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুলাই ১৩, ২০২২, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ণ

উজিরপুর (বরিশাল) সংবাদদাতা ঃ বরিশালের উজিরপুরে বড়াকোঠা ইউনিয়নে বড়াকোঠা গ্রামে স্বামীর পরকীয়ার জেরে স্ত্রী রুবিয়াকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার বিষয়টি ভিন্নখাতে নেওয়ার পায়তারা করছে স্বামীর পরিবার। বুধবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, বড়াকোঠা গ্রামের স্বপন বেপারির সাথে দীর্ঘ ১৩ বছর পূর্বে পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয় বামরাইল ইউনিয়ন হস্তিশুন্ড গ্রামের বজলু হাওলাদারের মেয়ে রুবিয়া আক্তার(৩০) এর সাথে। তাদের সংসারে দুই ছেলে রয়েছে। স্বামী স্বপনের সাথে এক মেয়ের পরকীয়া চলে আসছিলো দীর্ঘদিন। এ নিয়ে স্ত্রী রুবি একাধিকবার স্বামীর পরকীয়া প্রেমের বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। এনিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর ভিতর প্রয়াই ঝগড়াঝাটি মারামারি হতো। এ বিষয় একাধিকবার মিমাংস করেছে উভয় পরিবার ও স্থানীয়রা। বুধবার রাতে স্বামী স্বপনের মোবাইলে একটা মেয়ের অশ্লীল ছবি আসে। বিষয়টি স্ত্রী রুবি দেখে ফেলায় দুজনের ভিতর বাকবিতান্ডা শুরু হলে একপর্যায় স্ত্রীকে পিটিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে জানিয়েছে রুবির পরিবার। অভিযোগ অস্বীকার করে স্বামীর পরিবার জানান, ঘরের রুয়ার সাথে গলায় অড়নার দিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার করেছে রুবি। তাকে কেউ হত্যা করেনি। এরপর থেকেই স্বামী স্বপন বেপারি পলাতক রয়েছে। রুবির ছেলে রাহাত জানান, বাবার সাথে অন্য মেয়ের সাথে প্রেমের বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়েছে। পরে মাকে বিছানার পাশে আড়ার সাথে ঝুলান্ত অবস্থায় দেখতে পাই।

নিহত রুবির ভাই রাসেল জানান, বুধবার রাতে রুবি আমার মোবাইলে ফেন দিয়া বাবা- মায়ের সাথে কথা বলতে চাইছিলো। আমি বলছি সকালে কথা বলিস তারা ঘুমাইছে। এরপর ওহ আর কোন কথা না বলে ফোন কেটে দেয়। এরকিছুক্ষন পর ভোর ৩ টার দিকে ভাগ্নে রাহাত ফেন দিয়া জানায় ওর মাকে মাইরা ফালাইছে ওর বাপে। এ কথা শুনে স্থানীয় লোকজন নিয়ে স্বপনের বাড়ীতে গেলে ওহ পালিয়ে যায়। রুবির বাবা বজলু হাওলাদার জানান, আমার জামাইয়ের পরকীয়া বাঁধা দেওয়ায় আমার মেয়েকে স্বপন হত্যা করেছে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই৷

উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ মমিন উদ্দিন জানান, অভিযোগ পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠিয়েছি। ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসলে বলতে পারবো হত্যা নাকি আত্মহত্যা। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।