মোঃ ইসমাইল ভোলা।।
ভোলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তেল গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং লোড শেডিংয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে গেলে পুলিশের সাথে বিএনপির সংঘর্ষ হয়।এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইট পাটকেল এবং পুলিশ টিআর সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। সংঘর্ষে ১০ পুলিশসহ বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে গুল বৃদ্ধ হয়ে মো. আব্দুর রহিম (৩৫) নামের সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক সদস্য নিহত হয়েছে। এছাড়াও গুরুতর আহত প্রায় ৫-৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় শহরের মহাজনপট্টি জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে রণক্ষেত্রে পরিনত হয়।
এ ঘটনায় জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীরের তার বাসভবনে দুপুর ২টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তেল গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং লোড শেডিংয়ের প্রতিবাদে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সভা করেন তাঁরা। সভা শেষে দলীয় নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করার সময় পুলিশ প্রথমে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। পরে এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের ওপর এলোপাতাড়ি রাবার বুলেট, টিয়ারসেল ও গুলি ছুড়তে থাকে। এতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ ট্রুম্যান, যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ূন কবির শোপানসহ প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৩০জনের অবস্থা গুরুতর। তারা ভোলা সদর হাসপাতাল ও বরিশালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পুলিশের ছোড়া গুলিতে আব্দুর রহিম নামের সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক সদস্য নিহত হয়েছে।
ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ফরহাদ সরদার জানান, বিএনপির সাথে সংঘর্ষে পুলিশের অন্ত ১০জন সদস্য আহত হয়েছে। এবং ঘটনাস্থল থেকে ১১জনকে আটক করা হয়েছে।
অপর দিকে এ ঘটনায় বিকেল ৫টার দিকে ভোলার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ভোলা জেলা বিএনপি বিক্ষোভ মিছিলের কোনো অনুমতি নেয়নি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি জেনে পুলিশ সকালে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে যায় পুলিশ সদস্যরা। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করে। সমাবেশ শেষ করে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আনা প্রায় ৪-৫হাজার নেতাকর্মী নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করে তাঁরা। পুলিশ প্রথমে তাদেরকে বিক্ষোভ না করার জন্য অনুরোধ জানায়। কিন্তু তাদের মধ্য থেকে কিছু উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর হঠাৎ ইটপাটকেল ও কাচের বোতলের গুড়া নিক্ষেপ শুরু করে। পুলিশ প্রথমে তাদেরকে শান্ত করার জন্য লাঠিচার্জ করে। পরবর্তীতে বিএনপির নেতাকর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালালে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে টিয়ারসেল ও শটগানের গুলি ছুড়ে। তবে শটগানের গুলিতে কেউ নিহত হয়নি বলে দাবি করেন পুলিশ সুপার।
তিনি আরো জানান, সংঘর্ষে নিহত হওয়া আব্দুর রহিমের গায়ে গুলির চিহ্ন ও মাথায় থেতলানো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাঁর গায়ে গুলির চিহ্ন থাকলেও মাথায় আঘাত লেগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও বিএনপির কর্মীদের ছোড়া গুলিতে পুলিশের জেলা বিশেষ শাখার একজন কনস্টবল গুরুতর আহত হয়ে বরিশালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।