• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় মির্জাগঞ্জে প্রধান শিক্ষকসহ দুইজনের নামে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত আগস্ট ৫, ২০২২, ১৫:১১ অপরাহ্ণ

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বাজিতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা মামলার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের বাজিতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের স্থানীয় হাকিম ব্যাপারীর ছেলে বখাটে আ. রহমান(৩২) এবং তার নাতি মো. সাব্বির হোসেন (২০) বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতেন। এ ঘটনায় ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার অপরাধে আ. রহমানের বোন এবং সাব্বির হোসেনের খালা ফাহিমা আক্তার বখাটে যুবকদের সাথে নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী ছাত্রীদের অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে আসেন। এ ঘটনার কিছুদিন যেতে না যেতেই বখাটেরা পূণরায় ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা শুরু করেন। ছাত্রীরা এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বাবুল হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে প্রধান শিক্ষক আইনগত সহায়তার জন্য ছাত্রীদের পক্ষে মির্জাগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় বখাটে ও তাদের পরিবার। পরে বখাটেদের স্বজন ফাহিমা আক্তার বাদী হয়ে পরিকল্পিতভাবে প্রধান শিক্ষক মোঃ বাবুল হোসেন এবং ওই প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী মোঃ শামসুল হকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে পটুয়াখালী আদালতে ধর্ষণ চেষ্টা অভিযোগ এনে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তধীন আছে।
মিথ্যা মামলার শিকার ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক মো.বাবুল হোসেন এবং ওই প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী মো.শামসুল হক জানান,‘বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় আমরা আজ মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছি। আমরা এই মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি চাই। ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করলে শিক্ষক হয়ে মিথ্যা মামলার আসামী হতে হয় তবে আর শিক্ষকতা করে লাভ কি।
এদিকে মামলার বাদী ফাহিমা আক্তারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে জানান,‘ আমরা যে মামলাটি দিয়েছি সেটি সত্য, তারা যে অভিযোগ করেছেন তা ভিত্তিহীন। প্রধান শিক্ষক বাবুল হোসেন ও অফিস সহকারি শামসুল হক আমাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচারণ করেছেন। তাই মামলা করেছি।’
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এবং ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি মো.মনিরুল ইসলাম তালুকদার জানান,‘ ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি জানি এবং আমার সামনেই ওই বখাটেরা ইতোপূর্বে ক্ষমা চেয়েছেন। তারপরও এলাকার কিছু কুচক্রিমহলের স্বার্থহাসিলের জন্য বখাটেদের স্বজন দিয়ে প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারির বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন তার জোড়ালো প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এবং প্রশাসণের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাতে সুষ্ঠু তদন্তমূলক প্রতিবেদন আদালতে পেশ করা হয়।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পটুয়াখালী পিবিআই(এসআই) সুজন দাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘ মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্তশেষে রিপোর্ট কোর্টে পাঠানো হবে। তদন্তের স্বার্থে এর থেকে বের্শি কিছু বলতে পারছি না।’
##