• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরগুনা জেলার আমতলীতে-গল্প কুটির’ ভাসমান রেস্টুরেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত আগস্ট ৮, ২০২২, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ণ
বরগুনা জেলার আমতলীতে-গল্প কুটির’ ভাসমান রেস্টুরেন্ট

হাওলাদার সোহাগ, বরগুনাঃ
বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলায় পৌর ভবনের ও এ.কে স্কুলের সামনের লেকে চালু হয়েছে ভাসমান রেস্টুরেন্ট। প্লাস্টিকের ড্রাম, কাঠ, টিন ও লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই রেস্টুরেন্ট। এক সঙ্গে ৩০ জন বসতে পারছে এই রেস্টুরেন্টে। উদ্বোধনের পর থেকে এপর্যন্ত ব্যাপক সাড়া ফেলেছে রেস্টুরেন্টটি। বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণ-তরুণীরা ছুটে যাচ্ছেন সেখানে।

এ.কে স্কুল ও পৌর ভবনের সামনের লেকে পহেলা মে চালু করা এই রেস্টুরেন্টের নাম দেওয়া হয়েছে ‘গল্প কুটির’ ভাসমান রেস্টুরেন্ট’। আমতলী পৌরসভার বাসিন্দা মোঃ মিরন খান ও তার বন্ধু অসিম ফকির মিলে চালু করেছেন এটি।

রেস্টুরেন্ট মালিক মিরন খান জানান, গত ১এপ্রিল থেকে রেস্টুরেন্ট তৈরির কাজ শুরু করা হয় এবং গত ২৫ এপ্রিল কাজ শেষ হয়। এরপর ১মে উদ্বোধন করা হয়েছে। এই রেস্টুরেন্ট তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়েছে ১০০টি প্লাস্টিকের ড্রাম। ২টি রুমে মোট ৩০ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। এটি তৈরিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯লাখ টাকা।

তিনি জানান, এখানে চালু করা হয়েছে চাইনিজ বিভিন্ন খাবার আইটেম। পরবর্তীতে বাঙালি খাবারের বিভিন্ন আইটেম চালু করারও পরিকল্পনা রয়েছে। ছোট পরিসরে হলেও রেস্টুরেন্টটি ‘ইউনিক’। বরিশাল বিভাগে এ ধরনের কোনো রেস্টুরেন্ট নেই। যার জন্য আমাদের পর্যটক পিপাসুদের আনাগোনা একটু বেশি

তিনি আরও জানান, রেস্টুরেন্টটি আপাতত আমতলী লেকের মধ্যে করা হয়েছে। সবসময় এটি পানির ওপর ভেসে থাকে। দেখতে খুব সুন্দর লাগে। পরিস্থিতি সাপেক্ষে এটি আরো বৃদ্ধি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সরেজমিনে দুপুর ৩টায় ভাসমান রেস্টুরেন্টে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২০-২৫ জন রেস্টুরেন্টে অবস্থান করছেন। তাদের সবাই-ই যে চা-কফি বা খাবার খাচ্ছেন এমন নয়। কেউ চা-কফি খাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ চাইনিজ খাবার খেতে ব্যাস্ত, আবার বেশিরভাগ তরুণ-তরুণীই ছবি তোলায় ব্যস্ত। কেউ পাশ দিয়ে হাটলে অথবা বাতাসের গতিতে রেস্টুরেন্ট হালকা দুলছে।

রেস্টুরেন্টে আসা আসলাম, নোমান, সাথী বলেন, তারা এখানে এসে কেউ চা, কফি বা কেউ লাচ্চি খেয়েছেন। তবে রেস্টুরেন্টের খাবারের প্রতি যতটা না আকর্ষণ তার চেয়ে বেশি আকর্ষণ ঘুরে দেখার জন্য। তারা এখানে এসে ছবি তুলেছেন, ফেসবুকে দিয়েছেন, এতেই যেন তৃপ্তি। পানির মধ্যে বাতাসে মনোমুঙ্কর পরিবেশ।

তালতলী উপজেলার নিদ্রা সখিনা গ্রামের মস্তফা বলেন, তার পরিবার সহ মোটরসাইকেলে করে বরিশাল থেকে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পৌরসভার সামনে রাস্তা থেকে ভাসমান রেস্টুরেন্ট দেখে এখানে আসেন। এবং স্ত্রী ও বাচ্চাদের নিয়ে চাইনিজ খাবারের স্বাদ উপভোগ করেন। তবে সেতুর উপর থেকে রেস্টুরেন্টটিকে অনেক সুন্দর দেখা যায়। এরকমের একটি উদ্যোগ নিয়ে যারা এটি করেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।