বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ মোতাবেক খাদ্যের ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে বদ্ধ পরিকর বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। ২০২১ এর নভেম্বরে প্রণয়নকৃত প্রবিধানমালা অনুযায়ী আগামী পহেলা জানুয়ারি থেকে দেশের কোনও প্রকার খাদ্যদ্রব্যে মোট ফ্যাটের ২ শতাংশের বেশি ট্রান্সফ্যাট থাকতে পারবে না।
‘খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা, ২০২১’ সম্পর্কে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি) ও ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক টেকনিক্যাল কমিটির সভাপতি মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ জানান, “ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা আগামী জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এবং আমরা এ বিষয়ে খাদ্য ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়মিতভাবে মতবিনময় সভা আয়োজন করে যাচ্ছি। জানুয়ারি থেকে খাদ্যের ট্রান্সফ্যাটের পরিমাণ মনিটর করা হবে। কারখানার কাগজপত্র পরীক্ষা করার পাশাপাশি বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করেও নিরীক্ষা করা হবে।”
বিশ্বব্যাপী হৃদরোগ ঝুঁকি হ্রাস করতে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্ব খাদ্য সরবরাহ থেকে শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট নির্মূল করার আহ্বান জানায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ২০২০ সালে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে বিশ্বের ১৫টি দেশে ট্রান্সফ্যাট-ঘটিত হৃদরোগজনিত মৃত্যু ঝুঁকি সবচেয়ে বেশী যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম এবং বাংলাদেশের ৪.৪১% হৃদরোগজনিত মৃত্যুর জন্য দায়ী খাদ্যে লুকিয়ে থাকা ট্রান্সফ্যাট। ট্রান্সফ্যাট-ঘটিত হৃদরোগ ও হৃদরোগজনিত মৃত্যু ঝুঁকি থেকে উত্তরণের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সুপারিশ খাদ্যদ্রব্যে শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশ নির্ধারণ করা অথবা/এবং পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল বা পিএইচও এর উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা। এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে বাংলাদেশে ২০১৯ সালে শুধুমাত্র ট্রান্সফ্যাট যুক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে ১২ হাজার মানুষ।
ট্রান্সফ্যাট বা ট্রান্স ফ্যাটি এসিড (টিএফএ) স্বাস্থ্যের জন্য বিষাক্ত এবং অযাচিত এক খাদ্য উপাদান। মূলত ট্রান্সফ্যাট হচ্ছে খাদ্যের এক প্রকার ডায়েটারি ফ্যাট বা স্নেহ জাতীয় খাদ্য উপাদান যার স্বাস্থ্য ক্ষতি বহুমুখী। খাদ্যের সাথে ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের ফলে রক্তের এলডিএল বা “খারাপ কোলেস্টেরল” বৃদ্ধি পায়; অপরদিকে এইচডিএল বা “ভালো কোলেস্টেরল”-এর মাত্রা কমে যায়। অতিরিক্ত ট্রান্স ফ্যাট রক্তবাহী ধমনিতে খারাপ কোলেস্টেরল জমা হয়ে রক্তচলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। মাত্রাতিরক্ত ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের ফলে হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, হৃদরোগজনিত মৃত্যু, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, স্তন ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার, স্মৃতিভ্রংশ (ডিমেনশিয়া), স্বল্প স্মৃতিহানি (কগনিটিভ ইমপেয়ারমেন্ট), জাতীয় রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে যে রাগ, মানসিক চাপ, আক্রমণাত্মক ব্যবহার, খিটখিটে ও বিরক্ত লাগা, এমনকি বয়ঃসন্ধিকালে ডিপ্রেশনে ভোগার আশঙ্কাও বাড়িয়ে তোলে খাবারের মাঝে লুকিয়ে থাকা ট্রান্সফ্যাট।