নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
খাবার হলো বাঙালির প্রিয়তম, দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষ খাবারের উপর প্রতিযোগিতা করে আসছে নানান সময়। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে আছে বাঙালি খাবার। যখন কোনো রেস্তোরাঁ নতুন উদ্ভোদন করে তখনই দেখা মিলে ডিসকাউন্ট, খাবার প্রেমিকরা খুঁজে বেড়ায় ডিসকাউন্ট সহ নতুন নতুন রেস্তোরাঁ (রেস্টুরেন্টে)। ঢাকাসহ প্রায় সব শহরেই চলছে প্রতিযোগিতার ছোঁয়া। পিছিয়ে নেই বরিশাল শহরেও, চলছে প্রতিযোগিতা মূলক রেস্তোরাঁ।
সর্বশেষ নগরীর প্রাণকেন্দ্র কাঠপট্টি রোডে বৃহস্পতিবার ৪ আগষ্ট উদ্বোধন হলো ‘হাজি কাচ্চি ঘর’, রয়েছে ৩০% ডিসকাউন্ট যা অতুলনীয়, আইটেম বহুরুপী থাকলেও বেশ ধুমধামে চলছে খাসির কাচ্চি গরুর কাচ্চি (কাচ্চি বিরিয়ানি)। কেউ কেউ তো রীতিমতো রিভিউ দিয়ে বেড়াচ্ছেন।
জানা যায়, হাসিন আবরার হক তিনি শুক্রবারে খেতে জান সেখানে, দাড়িয়ে ছিলেন ২০ মিনিট অপেক্ষায় বসে ছিলে ৫০ মিনিট, তার সাথে করা হয়নি ভালো ব্যবহার, খাবারে পেরেছিলো বেশ কয়েকটি চুল। তার চোখে এসব দেখে না খেয়েই ফিরে আসেন তিনি। পরে এনিয়ে তিনি সোশাল নেটওয়ার্ক ফেজবুকে রিভিউর মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আরো এক নাফি নামে এক ব্যক্তি পোস্টের মাধ্যমে জানান, চট্টগ্রামের শাখা উদ্ভোধন হলো বরিশালে। ৪ জন বন্ধু খেতে যাই। কাচ্চি থাকার কথা থাকলেও পাইনি সময় মতো, সেই বিকাল ৫ টা থেকে অপেক্ষা করে ৬:১৭ মিনিটে আসে কাচ্চি। খুব খুসি হলাম দেখে। তবে সৃষ্টি কর্তার কসম করে তিনি বলেন, রাইস (ভাত) ভালো হয়নি, শুধু টাকার মায়ায় খেয়েছি। তখন আমার এক বন্ধু বলে আলু সিদ্ধ হয়নি। পাশাপাশি সিদ্ধ হয়নি মাংস। ওয়েটার বয়কে কয়েকবার ডাকলাম সে রেসপন্স করেনি। যারা আমাদের সাথে খেয়ে বলসছে কেউ খেতে পারেনি। আমি নিজেও মাংস ছিঁড়তে পারছিলমনা। তারপর আমরা উঠতে লাগলাম, তারা বসতে বলে ২৩ মিনিট পর চেঞ্জ করে দিলো। চেঞ্জসহ ৫ টি মাংস একটাও ভালো হয়নি সব শক্ত। তারা বুঝতে পেরেও আমাদের কাছে ১৭০ টাকা করে দাবি করলো। বললাম শুধু তো রাইস (ভাত) খেলাম আলু, মাংস খেতে পারলাম না।
তাও তারা ফুল টাকাই চাচ্ছিলো, এবং বললো টাকা না দিয়ে এখান থেকে যেতে পারবেননা। একপর্যায়ে হুমকি-ধমকি দেয়া শুরু করে আমার বন্ধুকে মারতেও এসেছিলো। কাউন্টারে ম্যানেজারকে না পেয়ে তাদের কাছে নাম্বার চাইলে দেয়নি। সবশেষে তারা শুধু ভাতের জন্য ১০০ টাকা করে রাখলো। আমাদের আগে যারা বিল দিতে গেছে তাদের কাছ থেকেও ফুল টাকা নিলো। রীতিমতো এরা আমাদের কাছ থেকে বলতে গেলে ডাকাতি করে টাকাটা নিলো।
এ বিষয়ে রেস্তোরাঁ মালিক পক্ষ রুহুল আমিন মোল্লা বলেন, ৬ আগষ্ট গতকাল সমস্যা ছিলো যার জন্য ইট্টু উনিশ-বিশ হয়েছে, তবে সামনে ভালো করার চেষ্টা করবো বলে আশ্বাস দিলেও সবশেষে ২০ আগষ্ট শনিবার রাতে অভি নামে এক ব্যক্তি ফেজবুকে পোস্টের মাধ্যমে জানান, কাচ্চির আলু গুলো সিদ্ধ হয়নি এবং মাংস টাও বেশ শক্ত ছিলো বলে অভিযোগ করলে তার সাথে আরো অনেকেই সহমত পোষণ করেন। বরিশাল ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ শোয়াইব মিয়া বলেন, আমদেরকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ সহ অভিযোগের তথ্য দিলে যথাযথ ব্যবস্থা নিবো এবং আমরা মনিটরিং করবো। আর যে সকল ক্রেতা খাবার খেয়ে মনে করেন পরিপূর্ণ খাবার দেওয়া হয়নি তারা ক্যাশমেমো সহ আমাদের কাছে আসলে আমরা দেখবো।