• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাবি শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত আগস্ট ২২, ২০২২, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ
রাবি শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

রাবি প্রতিনিধি :

মতিহার হলে ছাত্রলীগ কর্তৃক শিক্ষার্থীকে নির্মম নির্যাতন ও টাকা ছিনতাই, বিভিন্ন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও নিপীড়ন এবং শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) নিপীড়ন বিরোধী ছাত্র-শিক্ষক ঐক্য।

সোমবার (২২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে এ প্রতিবাদ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ খানের সঞ্চালনায় রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহবায়ক আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, প্রশাসনের আশ্বাসেই ছাত্রলীগের নির্যাতন সর্বোচ্ছ মাত্রায় পৌছেছে এবং ছাত্রলীগ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। শত-শত শিক্ষার্থীকে বঞ্চিত করে গুটিকয়েক সন্ত্রাসীকে নিয়ে তারা হাঁটছে।এ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা মেধা নিয়ে ভর্তি হয়ে কিছু শিক্ষকের মদদের কারণে চুর,বাটপার, সন্ত্রাসী হয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়। পরবর্তীতে তারা দেশের যে সেক্টরেই যাচ্ছে সেখানেই দুর্ণীতির আখড়া বানিয়ে ফেলছে। মতিহার হলে সামসুল ইসলামের উপর যে নির্যাতন করা হয়েছে তার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানান তিনি।

এ সময় পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, রাজনীতি একটি দারুণ জিনিস যখন সেটার মাঝে কল্যাণকামিতা থাকে। আমরা যেটাকে রাজনীতি বলছি সেটা হচ্ছে মাস্তানি, গুন্ডামি, টেন্ডারবাজির নাম এখন রাজনীতি দিয়েছি। আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই। ছাত্রলীগের একদল গুন্ডাকে লালন করা হচ্ছে। যদি লালন করা নাই হয তাহলে আমাকে প্রতিনিযত এমন ঘটনা দেকতে হচ্ছে কেনো? গোপনে এই ধরনের নিপীড়ন আরো বেশি চলছে। আমি শিক্ষক হিসেবে চুপ থাকতে পারিনা। ভয়কে জয় করতে পারলে সেদিন থেকে এই নৈরাজ্য বন্ধ হয়ে যাবে। আবরাবের মতো যদি পরিণতি হয় তাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা কি হবে একবার ভেবে দেখেছেন? আমরা এর অবসান দেখতে চাই।

আমরা এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই আরবি বিভাগের অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসুদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রাণ শিক্ষার্থী। সেখানে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন আর সেটার প্রতিবাদে আমাদের এখানে দাড়াতে হচ্ছে। যারা এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করছে তাদের ছাত্র পরিচয় দিতে আমাদের লজ্জা লাগে। আমরা এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়। ছাত্রলীগের গুন্ডারা শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ না করে শিক্ষার্থীদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।

এসময় অবস্থান কর্মসূচিতে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দীন খান, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. আখতার মজুমদার, সোনালী সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদ জামাল কাদেরি, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ড. কাজী মামুন হায়দার, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল হক, ম্যাটেরিয়ালস সাইন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিনসহ প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।