• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মধ্যনগরে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করে বিপাকে প্রধান শিক্ষক!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত আগস্ট ২৩, ২০২২, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ণ
মধ্যনগরে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করে বিপাকে প্রধান শিক্ষক!

মোবারক হোসেন রুবেল, ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এখলাছ উদ্দিনের বিরুদ্ধে স্থানীয় চারজন ব্যক্তির কাছ থেকে ৮২হাজার টাকা আত্মসাত করার ঘটনাটি গত ১আগস্ট এলাকাবাসীর পক্ষে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ওই ইউনিয়নের গড়াকাটা গ্রামের বাসিন্দা ও গড়াকাটা আব্দুল খালেক মডেল উচ্চ বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল। অভিযোগ করার পর থেকে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ইউপি সদস্যের টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্ঠা ও প্রধান শিক্ষককে নানাভাবে হেনস্তা এবং মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাঁর সুনাম নষ্ট করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। সরোজমিনে এই ঘটনাটি তদন্ত করার দাবি জানিয়ে ওই বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সোমবার বিকেলে ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। ইউএনওর কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগ, এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের গড়াকাটা গ্রামের বাসিন্দা ও ওই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এখলাছ উদ্দিন মাস খানেক আগে একই ওয়ার্ডের পনারকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হালিম (৭০), লাল চান (৫০)সহ স্থানীয় চারজন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রধান মন্ত্রীর উপহারের ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৮২হাজার টাকা নিয়ে তা আত্মসাত করেন। টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা গড়াকাটা আব্দুল খালেক মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল জলিলের কাছে সুবিচার চেয়ে মৌখিকভাবে তাঁর কাছে নালিশ দেন। এরই প্রেক্ষিতে গত ১আগস্ট এলাকাবাসীর পক্ষে ওই বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক এ ঘটনায় ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ইউএনওর কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। প্রধান শিক্ষক আবদুল জলিল বলেন,গরীব নিরীহ মানুষজনদের পক্ষ নিয়ে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করে আমি বিপাকে পড়েছি। ইউএনও স্যারের কাছে আমি লিখিত অভিযোগ করার পর থেকেই স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল আমাকে নানাভাবে ফাঁসানো, আমার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। পাশাপাশি টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্ঠাও করা হচেছ। তাই সরোজমিনে এলাকায় গিয়ে টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য ইউএনও স্যারের কাছে আমি সোমবার বিকেলে লিখিত আবেদন করেছি। টাকা আত্মসাত করার ঘটনাটির বেশ কিছু প্রমাণাদি আমার কাছে আছে। বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এখলাছ উদ্দিন বলেন,আমি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ হাসান খান বলেন, টাকা আত্মেসাতের অভিযোগটির তদন্ত চলমান। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগটির সত্যতা পাওয়া গেলে ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরোজমিনে এলাকায় গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চালানো সংক্রান্ত একটি আবেদন আমি পেয়েছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।