• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আগামীকাল মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন, বইছে সাজ সাজ রব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৬, ২০২২, ০৯:১৮ পূর্বাহ্ণ
আগামীকাল মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন, বইছে সাজ সাজ রব

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : দীর্ঘ ৭ বছর পর আগামী কাল বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। গত ২০১৫ সালের ৬ নভেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছেল।

আগামীকাল বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) মুকসুদপুর উপজেলা ক্যাম্পাসের আইডিয়াল কিন্ডার গার্ডেন সংলগ্ন পরিষদ মাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে ‘প্রস্তুত সম্মেলন মঞ্চ, আগত কাউন্সিলর, ডেলিগেটসহ আমন্ত্রিত সকল অতিথিকে দাওয়ায় দেওয়ার কাজ শেষ। এ সম্মেলনকে ঘিরে মুকসুদপুরে সাজ সাজ রব চলছে দলীয় আয়োজনে চলছে জোর প্রস্তুতি।

সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দিপু মনি এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আজম এমপি, এস.এম কামাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবাহান গোলাপ এমপি, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন, সাহাবুদ্দিন ফরাজি, ইকবাল হোসেন অপু এমপি, সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নার্গিস রহমান এমপি।

এ সম্মেলনের উদ্বোধক হিসাবে উপস্থিত থাকবেন গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান সম্মেলনের প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

সম্মেলনে সভাপতি পদে এখনও পযর্ন্ত বর্তমান সভাপতি এ্যাড. আতিকুর রহমান মিয়া, সিনিয়র সহ সভাপতি আশরাফ আলী আশু মিয়ার নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের দু’জনের মধ্যে যে কেউ সভাপতি পদে আসলে সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম শিকদারই বহাল থাকছেন এটা প্রায় নিশ্চিত। তবে এর ব্যতিক্রম হলে রবিউল আলম শিকদার সভাপতি হচ্ছেন এমন কথা কর্মীদের সবার মুখে। তাদের স্বস্তি পরিবর্তন হোক আর না হোক দলীয় নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব থাকছে রবিউল আলম শিকদারের হাতেই।

রবিউল আলম শিকদার যদি সভাপতির দায়িত্ব পান তাহলে সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাবনা রয়েছে কমপক্ষে ৪ জনের। এরা হলেন সাহিদুর রহমান টুটুল, মহিউদ্দীন আহম্মেদ মুক্ত, সাব্বির খান এবং হুজ্জাত হোসেন লিটু।

বহিস্কৃত বা দলের কার্যক্রমে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দীন মিয়া, সদস্য শাহাদত হোসেন লিটন ও বিপ্লব মজুমদার এবং দপ্তর সম্পাদক সুনীল চন্দ্র মন্ডলের সরকারি চাকুরি করায় ওই পদও শূন্য হয়েছে। ওই সকল পদে নতুন মুখ আসতে পারে।

এছাড়াও যারা উপজেলা কমিটিতে স্থান পেতে পারেন, তারা হলেন গোবিন্দপুরের শেখ শাহরিয়ার কবির বিপ্লব, খান্দারপাড়ার মহিউদ্দিন মিটু শরীফ, বহুগ্রামের সোহেল শেখ, মহারাজপুরের রবিউল ইসলাম মোল্যা, বাটিকামারীর এডভোকেট শাহ নাজিম উদ্দীন, ননীক্ষীরের রিয়াজ মিনা, জলিরপারে সমীর সাখারী, পৌরসভার আমিনুর রহমান পল্টু, জহির হাসান টিটো, সরদার মজিবর রহমান, মিজানুর রহমান মন্টু, কামরুজ্জামান কামাল। প্রেক্ষাপটের কারণে আশিকুর রহমান রনিসহ আরও দু-একজন আসতে পারেন কমিটিতে।

মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জাহিদুর রহমান জানান, সারা মুকসুদপুরের সকল ইউনিয়নের প্রধান সড়ক, আন্ত: উপজেলা সড়ক, প্রধান প্রধান হাট-বাজার এবং ঢাকাখুলনা মহাসড়কের মুকসুদপুর অংশে তৈরী হয়েছে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন। পোষ্টারে ছেয়ে গেছে পুরো মুকসুদপুর উপজেলা।

তিনি আরো বলেন, চলমান কমিটির সদস্য সংখ্যা ৬৭ এবং উপদেষ্টা কমিটির ১৫জন সদস্য থাকলেও ইতোমধ্যে ৪ জন সহসভাপতি ও ১ জন সদস্য পরোলোক গমন করায় ওই পদগুলো শূন্য হয়েছে। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ৩ জন দল বিরোধী কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকায় তাদের দল থেকে অব্যহতি দেয়ায় এবং বর্তমানে উপজেলা কমিটির ব্যাপ্তি বাড়ানোয় বেশ কিছু নতুন মুখ দলে অন্তর্ভূক্ত হবেন। তবে দলের মধ্যে কার্যক্রম সন্তোষজনক হওয়ায় কেউ কেউ পদোন্নতি পাবেন, কাউকে বাদও দেয়া হবে এবং পদানবতিও করা হতে পারে।

মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম শিকদার জানান সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কে হবেন তা নির্ভর কাউন্সিলের উপর। কাউন্সিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতারা সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেবেন। আমার দায়িত্ব এই সম্মেলন সুন্দরভাবে শেষ করা। এজন্য স্থানীয় এবং উপজেলা নেতৃবৃন্দ নিয়ে পরিশ্রম করছি। দলীয় নেতৃবৃন্দ যাকে তাদের বিবেচনায় সভাপতি সম্পাদক করবেন আমি আমরা সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেব। সম্মেলন সফল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করি।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খানে যৌথ স্বাক্ষরে ৬৭ জনের কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। #