স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : যেখানে কয়েকদিন আগেও ছিল মাঠ ফাঁকা সেখানে এখন চলছে শিক্ষার্থীদের খেলাধূলা। মাঠের এদিক থেকে ওদিকে ছোটাছুটি। মাঠ যেন ফিরে পেয়েছে তার আপন জীবন আর চাঞ্চল্য।
এ মাঠের চাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে অনুষ্ঠিত হলো ৪৯তম জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগীতা। যার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হলো হাজারো দর্শকদের অনন্দ আর উচ্ছাসের মধ্য দিয়ে। মুকসুদপুর উপজেলা প্রশাসন এ প্রতিযোগীতার আয়োজন করে।
মুকসুদপুর শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে ছেলেদের বিভাগে ফুটবলের ফাইনাল খেলায় বাটিকামারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ঝুটিগ্রাম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা মুখোমুখি হয়। আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের মধ্যে দিয়ে চলে এ খেলা। তবে গোল মিসের মহগড়ার শেষ দিকে জাল কাপিয়ে শিক্ষাক-শিক্ষার্থী আর দর্শকদের উচ্ছাসে ভাসায় বাটিকামারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খোলোড়ারা। ফলে বাটিকামারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১-০ গোলে ঝুটিগ্রাম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।
এর আগে একই মাঠে মেয়েদের বিভাগের ফাইনালে সুরপী সালিনাবক্স উচ্চ বিদ্যালয় ও কহলদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মুখোমুখি হয়। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ আর গোল মিসের খেলায় নির্ধারিত সময় থাকে গোল শূন্য থাকলে। ফলে ট্রাইবেকারে সুরপী সালিনাবক্স উচ্চ বিদ্যালয় ৪-২ গোলে কহলদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে এ ফুটবল খেলা উপভোগ করেন। এছাড়া বৃস্টি উপক্ষো করে শত শত দর্শক হাজির হন মাঠে। আনন্দ-উল্লাশ ও হাত তালি দিয়ে উপভোগ করে খেলা। পরে ফুটবল, হা-ডু-ডু ও ভলিবল বিভাগের চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা।
এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জোবায়ের রহমান রাশেদ, উপজেলা চেয়ারম্যান কাবির মিয়া, পৌর মেয়র আশ্রাফুল আলম শিমুল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাপসী রানী দূর্গা উপস্থিত ছিলেন।
মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জোবায়ের রহমান রাশেদ জানান, এ প্রতিযোগীতায় উপজেলার ৫৮টি স্কুল ও মাদ্রাসা অংশগ্রহন করে। শিক্ষার্থীরা প্রাণবন্ত হয়ে এ প্রতিযোগীতায় অংশ নেন। পড়ালেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধূলার প্রয়োজন। আগামীতেও এ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, শিক্ষকদের শিক্ষাদান শুধু স্কুলের মধ্যে নয়। স্কুলের বাইরেও শিক্ষাদানের প্রয়োজন আছে। যে কারনে শিক্ষকদের উচিত শিক্ষার্থীদের মাঠমুখি করা। এ প্রতিযোগীতার মাধ্যমে তরুন ও যুব সমাজ মোবাইল ফোনের আসক্তের হাত ও মাদক থেকে মুক্তি পাবে। তাদের মাঠমুখি করতে আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। #