রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আন্তঃবিভাগ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে গত রোবরার দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগের এক শিক্ষককের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ উঠে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউট (আইবিএ) ছাত্রলীগ নেতা আবু সিনহা সৌমিকের ছাত্রত্ব বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার বেলা ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের এ দাবি জানায়। এসময় তারা ওই ছাত্রলীগ নেতার ছাত্রত্ব বাতিলসহ তিন দফা দাবি পেশ করেন। তাদের দাবিগুলো হলো- অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা আবু সিনহা সৌমিকের ছাত্রত্ব বাতিল করা, ভিডিও ফুটেজ দেখে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয় এবং চলমান আন্তঃবিভাগ ফুটবল খেলাসহ সব ধরনের প্রতিযোগিতা মূলক খেলা চলাকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা লিখিত বক্তব্যে বলেন, টাইব্রেকারের সময় রেফারির সিদ্ধান্তকে নিয়ে ঝামেলার সূত্রপাত হয়। আইবিএ-র শিক্ষার্থীরা রেফারির সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে আইবিএ-এর শিক্ষার্থীরা আমাদের প্রতি আক্রমনাত্মক আচরণ শুরু করলে আমাদের শিক্ষক অুধ্যাপক ড. মোইজুর রহমান তাদেরকে শান্ত হতে অনুরোধ করেন। কিন্তু তারা শান্ত না হয়ে আরও বেশি উচ্ছৃঙ্খল আচরণ শুরু করে এবং একপর্যায় আইবিএ-র শিক্ষার্থী আবু সিনহা সৌমিক স্যারের কলারম চেপে ধরে কয়েক মিনিট যাবৎ টানা হেঁচড়া করতে থাকে। এ সময় আমরা শিক্ষার্থীবৃন্দ স্যারকে ছেড়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করলে তারা আমাদের উপর হামলা চালায়।
এসময় তারা আরো বলেন, এ হামলায় প্রথম বর্ষের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী টুটুলকে নির্দয়ভাবে মাটিতে ফেলে পেটাতে ও পদদলিত করতে থাকে এবং উৎপল, জুনায়েদ, তন্ময়সহ আরো অনেকেকে আহত করে। এছাড়াও মেয়েদের উপর তারা হামলা করতে গেলে কোনোরকমে আমরা আমাদের স্যারকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করি।
উল্লেখ্য, গত রোববার সকালে ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট এবং ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগের শিক্ষার্থীদের আন্তঃবিভাগ ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা ড্র হলে ট্রাইবেকারের শেষ শটকে কেন্দ্র করেই উভয় দলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আইবিএর শিক্ষার্থীরা ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক মোইজুর রহমানের গায়ে হাত তুলেছেন বলে দাবি করছেন সেই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।