• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের যত অভিযোগ দিলো ৭ ইউপি সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২২, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ
গোপালগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের যত অভিযোগ দিলো ৭ ইউপি সদস্য

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এফ.এম মারুফ রেজার বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ প্রকল্পের কোনটার আংশিক বা কোনটার কাজ না করেই অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। সম্প্রতি এসব অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে ওই ইউনিয়নের ৭ জন ইউপি সদস্য জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন উল্লেখ করলেও তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন ইউএনও।

সরেজমিনে গিয়ে জানাগেছে, গত ৫ জানুয়ারী গোপালগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর এ নির্বাচনে জয়ী হয়ে জালালাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এফ.এম মারুফ রেজা। কিন্তু নির্বাচনের ৮ মাস যেতে না যেতেই অভিযোগ উঠেছে সরকারী অর্থ আত্মসাতের। আর এসব অনিয়মের অভিযোগে ও প্রতিকার চেয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন ওই ইউনিয়নের ৭ জন সদস্য।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ইউনিয়নে উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির ৮ লাখ ২৯ হাজার টাকা বরাদ্দের কাজ নামমাত্র ২০ ভাগ কাজ করে বিল তুলে নিয়েছেন চেয়ারম্যান। বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণের ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকার ৬০ ভাগ টাকা আত্মসাত করেছেন। আর এসব সেলাই মেশিনের বাজার মূল্য ৪ হাজার টাকা হলেও দেখানো হয়েছে ১০ হাজার টাকা। এমনকি ইউনিয়নে হোল্ডিং নাম্বার দেয়া হবে বলে ৩’শ টাকা করে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার মতো তুলে আত্মসাত করেছেন। এমনকি আশ্রয়ণ প্রকল্পে আদায় করেছেন ট্যাক্স।

অভিযোগ পত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, জন্ম নিবন্ধন করতে ৩’শ টাকা এক হাজার টাকা করে নেয়া হচ্ছে। কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পের খালিয়া মালোপাড়া সমির মাঝির বাড়ী থেকে নজরুল শেখের বাড়ী পযর্ন্ত ইটের রাস্তার মাটির রাস্তা নির্মানের এক লক্ষ টাকা এবং জালালাবাদ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের চর ধলইতলা জামে মসজিদ হতে হেমায়েত সরদারের বাড়ী পযর্ন্ত মাটির রাস্তা নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও কোন কাজ না করে ২ নাম্বার ইট রেখে টাকা আত্মসাত করেছেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়, ভিজিএফ, টিসিবি কার্ড ও অন্যান্য বিতরণে অনিয়ম করার পাশাপাশি গত অর্থ বছরের টিআর কর্মসূচীর বরাদ্দকৃত অর্থের ২০ ভাগও কাজ করেননি চেয়ারম্যান। এছাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর দেয়ার নাম করে ৩০টি অসহায় পরিবারে কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা নেয়াও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি চেয়ারম্যানের দালাল দল তার অনুপস্থিতিতে ইউপি কায্যক্রম পরিচালনা করার পাশাপাশি অবৈধভাবে আদায় করা অর্থ ভাগবাটোয়ার করে থাকেন। অসদাচারণ করার পাশাপাশি প্রকল্পের সিভিসি বানিয়ে ফাঁকা রেজুলেশনে স্বাক্ষর নিয়ে টাকা তুলে নেয়ার অভিযোগ ইউপি সদস্যদের।

জালালাবাদ ইউনয়নের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য মো: সবুর মোল্যা বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যানে কাজে ইউনিয়ন পরিষদ যে কেমন তা এখনো বুঝতে পারিনি। পরিষদ কি ভাবে চলবে এটাই এখনো জানতে পারলাম না। এমন যদি হয় জনগসকে আমরা দিবো কি?

৫নং ওয়ার্ড সদস্য শেখ নজরুল ইসলাম টিপু বলেন, এখন পযর্ন্ত বরাদ্দের চেয়ারম্যান যে কাজ করছেন তার মাত্র ২০ ভাগ করেছে, আর কোন কাজ করেনি। আমাদের ফাকা রেজুলেশনে সই চেয়েছেন আমরা সই দিয়েছি। চেয়ারম্যানের কাছে সদস্যদের কোন মূল্যায়ন নেই।

৬নং ওয়ার্ড সদস্য অলিয়ার রহমান বলেন, আমি চেয়ারম্যানকে বলেছিলম, ভাই যে প্রকলে।পর কাজ করেছেন তা সঠিক হয়নি। কোন কোন প্রকল্পে কোন কাজই করেনি। আমার ওয়ার্ডে দুটি রিং কার্লভাট হয়েছে। চেয়ারম্যান বলেছিল ২৫ হাজার টাকা দিয়ে কাজ করতে। পরে জানলাম ৯০ হাজার টাকার বাজেটের কাজ মাত্র ১৯ হাজার টাকা দিয়ে করেছেন। এছাড়া আমাকে দুই লাখ টাকার একটি প্রকল্পে সিভিস করেছেন চেয়ারম্যান কিন্তু আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।

৬নং ওয়ার্ড সদস্য মাহফুজ মুন্সী বলেন, আমার বিভিন্ন বিষয়ে ঘাটতে গিয়ে দেখি বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা উঠিয়ে চেয়ারম্যান এফ.এম মারুফ রেজা আত্মসাত করেছেন। আমাকে রেজুলেশনে সই দিতে বললে আমি দিবো কেন জিজ্ঞাসা বলে বলেন আমি কাজ করবো সই চেয়েছি তোমরা দিয়ে দাও।

আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা শরীফা বেগম বলেন, শেখ হাসিনার ঘর পেয়ে আমরা খুশি হয়েছি। পরে যে ৩০টি ঘর দেয়া হয়েছে সেই ৩০টি ঘরে র প্রতিটি ঘর থেকে ১৫ হাজার টাকা করে নিয়েছেন চেয়ারম্যান। গবীর মানুষ অনেক কান্না কাটি করলেও চেয়ারম্যার বলেন এক টাকাও কম নিবো না। এক টাকাও কম দিলে কেউ ঘরে উফতে পারবা বলে জানিয়ে দেয় চেয়ারম্যান।

আশ্রয়ন প্রকল্পের অপর বাসিন্দা ফরিদা বেগম বলেন, ঘর দিয়ে আমরা কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছে। আমরা গরীব মানুষ এখন আমরা চলবো কিভাবে।

তবে এসব অভিয়োগ অস্বীকার করে, অভিযুক্ত জালালাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এফ.এম মারুফ রেজা বলেন, আমাদের গ্রামে কেউ কোন দিন চেয়ারম্যান হয়নি। ইউনিয়েনর শুরু থেকে বলেন আর পৃখিবীর শুর থেকে বলেন, আমি নতুন চেয়ারম্যান হয়েছি। একটা স্বার্থনেস্বী মহল আমাকে সামাজিক এবং চেয়ারম্যানের দিক থেকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এই ভিত্তিহীন, বানোয়াট বিভিন্ন রকমের তথ্য আমার বিরুদ্ধে তুলেছেন। আমাকে জাস্ট মান সম্মানে হেয় করার জন্য এছাড়া আমি কিছু মনে করি না। যে সব অভিযোগ এসেছে আপনার তদন্ত করে দেখতে পারেন।

এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মহসীন উদ্দিন বলেন, জালালাবাদ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়ে আমরা তদন্ত করবো। তদন্তে যে সব বিষয়গুলো উঠে আসবে সে সব বিষয়ে যে আইনাগুন ব্যবস্থা নেয়া দরকার আমরা নিবো। #