রফিকুল ইসলাম ফুলাল প্রতিনিধি দিনাজপুর:
৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় দিনাজপুর সদরের পল্লীতে ভূমিদস্যুরা সন্ত্রাসীদ্বারা বসতভিটাসহ ৬৯ শতক জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। ভুমিদসু্য ও সন্ত্রাসীদের বিরম্নদ্ধে সরকারের স্থানীয় বিভিন্ন দপ্তরের কর্তাদের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না লিজ গ্রহনকারী অসহায় জমির মালিক মোস্তফা।
২১ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপরোক্ত অভিযোগ করেন দিনাজপুর সদরের বড়ইল রানীগঞ্জ মোড় এলাকার মোঃ গোলাম মোস্তফা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গোলাম মোস্তফা বলেন, স্থানীয় চেহেলগাজী ইউপি’র চৌকিদার মো: মাহাতাব উদ্দিনের পুত্র সন্ত্রাসী জিয়ারল, মোঃ আনিছুর, মোঃ আঃ মান্নান, মোঃ হান্নানসহ অজ্ঞাত নামা ভাড়াটিয়া ১৫/২০ জন সন্ত্রাসী কিছুদিন আগে আমার নিকট ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। আমি চাঁদার ওই টাকা দিতে অস্বীকার করলে গত ১৬/০৯/২২ইং তারিখে আমার লীজকৃত ভোগদখলীয় ৬৯ শতক সম্পত্তি সন্ত্রাসীদের দ্বারা জোবরদখলে নেয় ওরা। এসময় তারা জমির সীমানার প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলে নিজেরা ঘর বানিয়ে(একাংশ) জোবর দখল করে রেখেছে।
তিনি জানান, সরকারের খাস খতিয়ান ভুক্ত এপি কেস নং ২৫ (এল) ১৯৭৯-৮০, এপি ৪২ (এল) ১৯৭৯-৮০, এ.পি.২৫ (এগ) ১৯৭৯-৮০ এরমধ্যে ৬৯ শতক সম্পত্তি নিয়়ম মাফিক সরকারী খাজনাদি প্রদানের মাধ্যমে দীর্ঘ ৪০/৫০ বছর ধরে ভোগ দখলে রয়েছেন তিনি। হঠাৎ কয়েক মাস আগে আমার মামলার এজাহারভুক্ত ৪নং আসামীর পিতা মোঃ মাহাতাব উদ্দিন (চৌকিদার) উক্ত সম্পত্তি কোনোরুপ কাগজবিহীন অবস্থায় নিজের মালিকানা দাবী করে। সে স্থানীয় ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে গত ১৬/০৯/২০২২ তারিখ শুক্রবার রাত ১১টায় উক্ত সম্পত্তির বাউন্ডারী ওয়াল ভেঙ্গে অনধিকার প্রবেশ করে। আমি ও আমার স্ত্রী এসময় বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তারা আমাদের স্বামী-স্ত্রী দুজনকে নির্দয় ভাবে পিটিয়ে জখম করে এবং ঘরবাড়ি ভাংচুরের মাধ্যমে াবিপুল আর্থিক ক্ষতি সাধন করেছে।
এব্যাপারে আমি দিনাজপুর সদর উপজেলা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছি,মামলা নং ৮৮৯ সি / ২০২২ইং। আমি ইতিপূর্বে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছি যার নং ১৮১পি/ ২০২২। তিনি বলেন, অপর পক্ষে ৪নং আসামীর পিতা মাহাতাব উদ্দীন (চৌকিদার) বাদী হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ভাবে বিজ্ঞ সদর সিনিয়র সহকারী আদালতে ৭১/২০২২ অন্য (সিভিল) মোকদ্দমা আনয়়ন করেছে। বর্তমানে উক্ত মোকদ্দমা বিচারাধীন রয়েছে। আমি আসামীগণের উক্তরম্নপ বেআইনী কার্যকলাপের বিরম্নদ্ধে কোতয়ালী থানা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একাধিকবার যোগাযোগ ও অভিযোগ দায়ের করেও কোনো প্রতিকার পাই নাই। পরিশেষে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট অভিযোগও দিয়েছি তিনি বিষয়টি ইউএনওকে নির্দেশ দিয়েছেন কিন্তু কোনো অগ্রগতি দেখতে পাইনি। এখন আমার মামলার আসামীরা আমাকে মোবাইল ফোনে ও বিভিন্ন ভাবে হত্যা ও লাশ গুমের হুমকি দিচ্ছে। তারা যেভাবেই হউক না কেন আমার স্বত্ব দখলীয় সম্পত্তি হতে আমাকে বেদখল করে জোরপূর্বক পাকা স্থাপনা নির্মাণের পায়তারা করছে। সংবাদ সম্মেলনে গোলাম মোস্তফার আকুতি আমি অসহায় হয়ে পরেছি,আমি পরিবার পরিজন নিয়ে বাঁচতে চাই,আমাকে আপনারা বাঁচান,সন্ত্রাসীরা টাকা ও জমির জন্যে আমাদের মেরে ফেলবে।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে তার ও তার পরিবারের জানমাল ও সম্পত্তি রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের সবধরনের সহযোগীতা প্রত্যাশা করেন।