• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হানিমুনে কুয়াকাটায় এসে স্বামীকে মারধর করে পালালো নববধূ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২, ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ
হানিমুনে কুয়াকাটায় এসে স্বামীকে মারধর করে পালালো নববধূ

কুয়াকাটা প্রতিনিধি

কুয়াকাটায় হানিমুন কাটাতে এসে প্রেমিকের সাথে নিয়ে স্বামীকে মারধর করে পালিয়ে গেছে নববধূ। গত কাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে এগারোটায় কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে পূর্ব দিকে ট্যুরিজম পার্কের সামনে সৈকতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ স্বামী মনিরুল ইসলামকে হেফাজতে নিলেও উদ্ধার করতে পারেনি তাঁর স্ত্রী নুরে জান্নাত লুলুকে। উভয় ঠিকানা বরগুনা ছেলে মেয়ে হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগে ব্যাপক টোল সৃষ্টি হয়। মারধরের শিকার মনিরুল ইসলাম বলেন, অজ্ঞাত ৪-৫ জন ব্যক্তি তাঁকে মারধর করে তাঁর স্ত্রী ওই ব্যক্তিদের সাথে পালিয়ে গেছে। তার স্ত্রী সাবেক প্রেমিকের সাথে পালিয়েছে বলে অভিযোগ তার। মারধরের শিকার পর্যটক মনিরুল ইসলাম বরগুনা জেলা শহরের কেজি স্কুল সংলগ্ন আনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুর প্রবাসী ছিলেন।

নববধূ নুরে জান্নাত লুলু বরগুনা সদর উপজেলার হেউলিবুনিয়া গ্রামের হারুন অর- রশিদ-এর কন্যা। মনির আরও বলেন, আমরা সৈকতে ঘোরাঘুরির পরে সন্ধ্যায় রুমে আসি। কিন্তু আমার স্ত্রী আমাকে বারবার অনুরোধ করলে আমরা আবার সৈকতে যাই। সৈকতের জিরো পয়েন্টে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকার পর সে আমাকে বারবার অনুরোধ করে হাটাহাটি করার জন্য। আমার অনিচ্ছা স্বত্তেও ফ্রাই মার্কেট পেরিয়ে অন্ধকারে নিয়ে গেলে হঠাৎ আমার উপরে ৪-৫জন লোক আক্রমণ করে। কিন্তু আমি বাঁচার চেষ্টা করি এবং স্ত্রীকে আঁকড়ে ধরি তবে আমার স্ত্রী আমাকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে এবং কোনো প্রকার ডাক চিৎকার না দিয়ে যারা আমাকে মেরেছে তাদের সাথে পালিয়ে গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী হাসিব নামের একজন সৈকতের আচার দোকানিদের জানান, আমি তাদের স্বামী-স্ত্রী দু’জনকে সৈকতে নামতে দেখেছি। কিছুক্ষণ পরেই দেখি তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় কয়েকজন পুলিশ বক্সে নিয়ে এসেছেন।নুরে জান্নাতের বাবা হারুন অর-রশিদ মোবাইল ফোনে বলেন, আমরা ঘটনা শোনার সাথে চলে এসেছি। আমার মেয়ে এখন কোথায় আছে এখনো জানতে পারিনি। জামাই মনিরকে নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছি। পারিবারিকভাবে বিষয়টি আমরা দেখবো।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পুলিশ পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মারধরের স্বীকার পর্যটককে উদ্ধার করি, তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে আমাদের কয়েকটি টিম আশেপাশে খোঁজাখুঁজি করে কিন্তু তার স্ত্রীকে পাওয়া সম্ভব হয়নি। মনিরকে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।