• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে হারিয়ে হা-ডু-ডু খেললো দুই গ্রামের কিশোর ও যুবকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
গোপালগঞ্জে হারিয়ে হা-ডু-ডু খেললো দুই গ্রামের কিশোর ও যুবকরা

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : হা-ডু-ডু গ্রামবাংলার অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। এ খেলাটি এখন গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। তারপরেও কালেভদ্রে দেখা মেলে এ খেলার। রূপ নিয়েছে কেবল আনুষ্ঠানিকতায়। সাধারণত বিশেষ উৎসব বা পালা-পার্বণে বেশ আড়ম্বরপূর্ণভাবে আয়োজন করা হয় হাডুডু খেলার। গ্রামবাংলার খেলাধুলার মধ্যে যেসব খেলা হারিয়ে গেছে তাদের মধ্যে অন্যতম হা-ডু-ডু খেলা।

সরেজিমিনে গিয়ে জানাগেছে, আজ বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া ও কালের বিবর্তনে হারিয়ে এ খেলা ধরে রাখতে জালালাবাদ ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামে আয়োজন করা হয় প্রীতি হা-ডু-ডু খেলার। এতে এ খেলায় নেয় কোন অনুষ্ঠিকতা, নেই কোন পুরস্কার। শুধুমাত্র চিত্ত বিনোদনের জন্য এ খেলায় গোপীনাথপুর ও তেতুলিয়া গ্রামের দু’টি দল অংশ নেয়। প্রতি দলের ৭ জন খেলোয়াড় একসাথে মাঠে নামে। বাকি ৫ জন অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে থাকে। এক নি:শ্বাসে প্রতিপক্ষের খোলেয়াড়দের ছুয়ে দিয়ে পয়েন্ট দখল করে খেলোয়াড়রা।

উৎসবের আমেজে ঐতিহ্যবাহী এ খেলা দেখতে দুই গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে সেখানে ভীড় জমায় নানা বয়সী মানুষ। হাত তালি দিয়ে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেয় দর্শকরা। এ খেলায় অংশগ্রহন করে ও দেখতে পেরে খুশি খেলোয়াড় ও দর্শনার্থীরা।

বিশ্বব্যাপী ক্রিকেট-ফুটবলের জনপ্রিয়তায় গ্রামবাংলার প্রাচীন খেলাধুলায় আগ্রহ অনেকটাই কমে যাচ্ছে। হা-ডু-ডু বা কাবাডি তার মধ্যে অন্যতম। হা-ডু-ডুকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও ঐতিহ্যবাহী এ খেলাটি গ্রামবাংলায় এখন কমই চোখে পড়ে।

খেলায় অংশ নেয়া খেলোয়াড় মাহমুদ ইসলাম (১৯) বলেন, আমাদের গ্রামে এখন আর খেলা হয় না। আমার সমবয়সীরা মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে। যে কারনে কোন খেলাধূলায় অংশ নিতে পারি না। এখানে হা-ডু-ডু খেলা হবে শুনে খেলতে এসেছি। খেলে খুব ভাল লাগলো।

অপর খেলোয়াড় আলী হোসেন বলেন, অনেক দিন পর হা-ডু-ডু খেললাম। সমবয়সীদের সাথে খেলতে পারায় অনেক ভাল লাগলো।

দর্শনার্থী রমজান মোল্যা বলেন, এখানে হা-ডু-ডু খেলা হবে শুনে আমি দেখতে এসেছি। অনেক দিন পর হা-ডু-ডু খেলা দেখলাম। দেখে খুব ভাল লাগলো। এখন এ খেলাটি আর দেখা যায় না।

অপর দর্শনার্থী ইমরান হোসেন বলেন, এখনকার কিশোর ও যুবকরা মোবাইল ফোন না হয় মাদকের সাথে যুক্ত। যার কারনে আমাদের কিশোর ও যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। গ্রাম গঞ্জে এমন খেলা অনুষ্ঠিত হলে কিশোর ও তরুনরা মাদকসহ মোবাইল আসক্ত থেকে রেহাই পাবে। #