স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : মায়ানমারের গোলা বর্ষন ও উস্কানী প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, মায়ানমারের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে এবং সংযম হয়ে আমরা পরিস্থিতি পয্যবেক্ষণ করছি। আমাদের যেখানে যাকে এ ব্যাপারে দায়িত্ব দেয়া দরকার যথাযথ ব্যক্তিদের যথাস্থানে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পরিস্কার কথা আমরা কারো সাথে যুদ্ধ করবো না প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন। সেভাবে প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব সবাই প্রস্তুত আছে।
এ বিষয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা আক্রমনকারী হিসেবে চিহ্নিত হবো না। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে উভয় পক্ষ আলাপ আলোচনার টেবিলে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান করতে চাই। প্রয়োজনে বিষয়টা আমরা জাতিসংঘে নিয়ে যাবো। প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল ২৩ সেপ্টেম্বর এ ব্যাপারে জাতিসংঘে বক্তব্য করবেন। সেখানে তিনি ব্যাপারটা উত্থাপন করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে গোপালগঞ্জে কাশিয়ানী উপজেলার মধুমতি নদীর উপর নির্মিত কালনা সেতুর পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি নির্বাচনের নামে মিথ্যাচার করছে। প্রতিদিনই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দিবাস্বপ্ন দেখছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আদালত ফয়সালা করে দিয়েছে। এখানে আমাদের কোন এখতিয়ার নাই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে মিউজিয়ামে চলে গেছে। ওটা আর ফিরে আসার সম্ভাবনা আপাতত নেই।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে এটা আমি আশ্বস্ত করতে চাই। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনেই নির্বাচন হবে। আর এই সরকার মূল দায়িত্ব পালন করবে না। নির্বাচনকালিন সময়ে অন্যান্য গনতান্ত্রিক দেশের মতো এই সরকার রুটিন ওয়ার্ক পালন করবে। যারা নির্বাচনে দায়িত্বে থাকবে তারা সরকারের অধীনে থাকবে না। তারা নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে, নির্বাচন কমিশেনের নির্দেশনা অনুযায়ি চলবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরো বলেন, নির্বাচনের সময় পুলিশকে বদলী করতে হলে করবে নির্বাচন কমিশন। এগুলো বারবার বলার পরও তাঁরা বারবার বিষয়টি নিয়ে পানি ঘোলা করছে। তারা পানি ঘোলা করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। শেষ পযন্ত নির্বাচনে না এসে তাঁদের সামনে আর কোন পথ আছে বলে আমি মনে করি না।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার কালনা পয়েন্টে মধুমতি নদীর উপর নির্মিত মধুমতি সেতু নির্মাণ ও উদ্বোধন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এই সেতু দেশরত্ন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি।শুধু নড়াইলবাসীর জন্য নয়, এই প্রতিশ্রুতি যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদা, খুলনাসহ গোটা অঞ্চল সুফল পাবে। ৬৯০ মিটার দীর্ঘ ৬ লেন বিশিষ্ট এ সেতু নির্মাণে খরচ হয়েছে ৬৫৯ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা। আমরা যথা সময়ে কাজ শেষ করেছি। অক্টোবর মাসেই বহু প্রতিক্ষিত এ সেতুটি উদ্বোধন হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কথা দিয়ে কথা রেখেছেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, এই সেতুর মাধ্যমে পদ্মাসেতুর সুফল গোটা দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ ভোগ করবেন। এই সেতুকে আর কালনা সেতু বলা যাবে না এই সেতুর নাম মধুমতি সেতু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেতুর নামকরণ করেছেন মধুমতি সেতু। এই সরকারের আমলে সুদুর পাহাড়ে পর্যন্ত যেদিকে যান শুধু রাস্তা। ইতিহাসে এর কোন নজির নাই। যেখানে প্রয়োজন ৪ লেন ৬ লেন আমরা করেছি। আমরা পদ্মসেতু করলাম, এর সুফল পেতে হলে রাস্তাও প্রশস্ত করতে হবে। সেটা আমরা জানি। আমাদের পরিকল্পনা আছে।পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ণ হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে সড়ক পথে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর উপজেলার মধুমতি নদীর উপর নির্মিত কালনা সেতুর পরিদর্শন আসেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে তিনি নড়াইলের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজাকে সাথে নিয়ে কালনা সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।
এ সময় গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: জাহিদ হোসেন, মধুমতি সেতুর প্রকল্প পরিচালক মো: আশরাফুজ্জামান, কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মেহেদী হাসান উপস্থিত ছিলেন। #