• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পুুলিশের সহায়তায় মাদক দিয়ে চাঁদাবাজী পুলিশ সুপারের কাছে অটো চালকের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২, ১৪:১৬ অপরাহ্ণ
পুুলিশের সহায়তায় মাদক দিয়ে চাঁদাবাজী  পুলিশ সুপারের কাছে অটো চালকের অভিযোগ

সিয়াম রহমান হিমেল মির্জাগঞ্জ(পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে এক অটো চালককে অভিনব ভাবে মাদক দিয়ে পুলিশের সহায়তায় চাঁদাবাজীর এক অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় রোববার পটুয়াখালী পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী স্বপন ফরাজী নামের ওই অটো চালক।গত বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় সুবিদখালী লঞ্চঘাট সিনেমাহল এলাকায় অটো চালককে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে চাঁদাবাজীর ঘটনাটি ঘটে। এদিকে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ বলছেন মাদক দিয়ে ফাঁসিয়েছেন স্থানীয় একটি চক্র,এখানে পুলিশের কোন সম্পৃক্ততা নেই। এমন ঘটনায় পুলিশ ও ওই চক্রের আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
অভিযোগ পত্র ও ভুক্তভোগীর স্বাক্ষতকারে জানা যায়,গত বৃহস্পতিবার ২২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় অটো চালক স্বপন ফরাজীর চলন্ত অটো থামিয়ে ৩জন যাত্রী ওঠে যাদের নাম মনিরুল ইসলাম (কালা মনির),পল্লব ও তারিকুল ইসলাম সুজন। পরে ওই অটোচালককে সুবিদখালী লঞ্চঘাট সিনেমাহল এলাকায় নিয়ে যায়। ওই অটো চালককে বলে তোর সাথে মাদক আছে, আামাদের কাছে খবর আছে তুই ইয়াবার ব্যবসা করো। এমন কথায় অটো চালক অস্বীকৃতি জানালে কালা মনির বলে তোকে সার্চ করবো, তোকে কিন্তু এ্যারেষ্টও করবো। সাথে সাথে ঘটনাস্থলে আসেন ওই চক্রের আরেক সদস্য মেহেদি হাসান মুবিন এসময়ে মনির তার পকেট থেকে তিন পিস ইয়াবা বের করে অটো গাড়ীর সামনে থাকা ছোট্ট ক্যাশবাক্সের(কাটা ড্রাম) মধ্যে ইয়াবা রাখেন। এরপর তিনজন সদস্য মিলে অটো চালককে বলেন তুই এখন ৫০ হাজার টাকা দিবি না হয় তোকে কিন্তু‘ এ্যারেষ্ট করবো, থানার পুলিশ দিয়ে তোকে ধরাবো। পরে ওই অটো চালক বলেন আমি গরিব মানুষ অটো চালিয়ে সংসার চালাই আমি টাকা কোথায় পাবো? এমনটা বললেই তিনজন মিলে মারধর শুরু করেন এবং সাথে থাকা আর একজন(সুজন সিকদার)অটো চালকের হাতে ইয়াবা দিয়ে ভিডিও করেন। এরপরেও অটো চালক টাকা দিতে না চাইলে মির্জাগঞ্জ থানায় ফোন দেয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য আসেন যার নাম এসআই জালাল আহম্মেদ।
ভুক্তভোগী স্বপন ফরাজী জানান,পুলিশের এসআই জালাল স্যার এসে আমার হাতে হাতকঁড়া লাগায় পরে আমাকে হাসপাতাল চত্ত¡রের একটি নির্জণ জায়গায় নিয়ে গিয়ে বলেন তুমি কি করো বা না করো এটি দেখার বিষয় না মাল(ইয়াবা) যেহেতু পেয়েছে তুমি এদের সাথে টাকা পয়সা দিয়ে মিটমাট করো। এমনটা বলে জালাল স্যার ইয়াবা ওদের কাছে রেখেই চলে যায় এবং তাদেরকে বলে আপনাদের সাথে পরে দেখা করবো। পরে আমি এক প্রকার বাধ্য হয়ে আমার আতœীয় স্বজনদের ফোন দিলে আমার বড় ভাই আমিনুল ইসলাম ও স্ত্রী মুক্তা বেগম ১২ হাজার ২০০ টাকা নিয়ে আসলে সেই টাকা কালা মনিরের হাতে দিলে আমাকে মুক্তিদেয়। এবং বলেন এই কথা বাহিরে জানা জানি করলে তোকে আবার এ্যারেষ্ট করবো।
ওই অটো চালক আরো জানান,‘শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হলে ওইদিন রাতে ওই চক্রের সদস্য মুবিন আমার স্ত্রীর ফোনে ফোন দিয়ে নানা ভাবে হুমকি দেয় এবং বলেন তোর স্বামীর হাতে রাখা ইয়াবার ভিডিও আমাদের কাছে আছে এটি ফেইসবুকে ছেড়ে দিলে যে কি হবে ভেবেও পাবিনা। পরে আমি কোন কূল না পেয়ে এসপি অফিসে যাই এবং এসপি স্যারের কাছে আমি আইনী সহায়তা ও নিরাপত্তা চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়ে আসছি।
এ ব্যাপারে কথা হয় ওই চক্রের সদস্যদের সাথে তখন মুবিন ও মনির মুঠোফোনে জানান,‘ এসআই জালাল যাওয়ার পরে আমরা গিয়েছি, কোন ধরনের টাকা পয়সা লেনদেন হয়েছি কিনা আমার জানা নাই। মনির বলেন, আপনি তদন্ত করেন যা শোনার তো শুনছেনই। আরো বক্তব্য লাগলে আমার সামনে আসেন বক্তব্য দিবো আনে ঠিকমতো।
এসআই মো. জালাল আহম্মেদ বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি সত্য, তবে ওই অটো চালকের কাছে কোন মাদক ছিলো না। পরে আমি তাদের সাথে মিটমাট করতে বলে চলে আসছি। তারা আসলে বাঁচার জন্য আমার নাম ব্যবহার করতেছে।
এ ব্যাপারে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মো.সাইদুল ইসলাম বলেন,‘ বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি,তদন্ত করে সত্যতা পেলে সকল ধরণের আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়াহবে।