• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোরের কেশবপুর থানা পুলিশের যৌথ আয়োজনে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২, ১৬:২৭ অপরাহ্ণ
যশোরের কেশবপুর থানা পুলিশের যৌথ আয়োজনে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত।

আব্দুল্লাহ,জেলা প্রতিনিধি :যশোরের কেশবপুর থানা প্রাঙ্গণে ২৫/৯/২২ দুপুর ১২টায় সর্বস্তরের জনগণের বিপুল উপস্থিতিতে ওপেন হাউস ডে অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব প্রলয় কুমার জোয়ারদার বিপিএম(বার), পিপিএম মহোদয় ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ‍্যমে প্রোগ্রাম শুরু করা হয়।

অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মহোদয় উপস্থিত সর্বসাধারণের সাথে উক্ত থানা এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মুক্ত-আলোচনা করেন।

এ সময় তিনি উক্ত থানা এলাকায় সর্বসাধারণকে কোন প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় কিনা, আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে কারো কোন অভিযোগ আছে কিনা, কাউকে অযথা পুলিশ হয়রানির শিকার হতে হয় কিনা, মাদক, চাঁদাবাজ, দুষ্কৃতকারীদের উৎপাত আছে কিনা , কিশোর গ্যাং, বাল্য বিবাহ ও কোন প্রকার সামজিক বিশৃঙ্খলা আছে কিনা তা নিয়েও মুক্ত আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনসাধারণ তাদের মুক্ত মতামত ব্যক্ত করেন এবং তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরলে পুলিশ সুপার মহোদয় অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শোনেন ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন।

পুলিশ সুপার মহোদয় বলেন, এখন আর থানায় এসে মানুষ হয়রান শিকার হয় না, থানা এখন পরিণত হয়েছে জনগণের ভরসা স্থল। থানায় আগত ব্যক্তিদের কাঙ্খিত আইনি সেবা দিনরাত প্রদান করে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ।

পুলিশ জনতা এখন একত্রে কাজ করে। পুলিশ কে এখন কেউ ভয়ের চোখে দেখেনা, পুলিশ এখন সত্যিকার অর্থেই জনগণের পুলিশ হয়েছে।

পুলিশ হিসেবে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পুলিশ এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা প্রদান করছে।

তিনি বলেন, কেশবপুর হবে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত। এখানে থাকবে না কোন প্রকার হয়রানি, মানুষ শান্তিতে, নিরাপদের সাথে পারস্পারিক সম্প্রীতি রেখে বসবাস করবে।

জেলা পুলিশ যশোর এখানকার তথা জেলার সার্বিক আইন-শঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বদা তৎপর রয়েছে।

পুলিশ সুপার মহোদয় আরো বলেন, আমাদের পোষাকধারী পুলিশের পাশা-পাশি বিপুল পরিমান সাদা পোষাকের পুলিশও নিয়োজিত রয়েছে, আমরা সম্পূর্ণ জেলাকে তিন স্তরের নিরাপত্তায় সাজিয়েছি সুতরাং কোন প্রকার নৈরাজ্য বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে, এব্যাপারে কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবেনা।

তিনি বরাবরের মত বলেন, এখানে গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে কোন অবস্থাতেই চাঁদাবাজি করা যাবেনা, একই সাথে মাদক কিংবা চাঁদাবাজির সাথে কোন আইন-শৃঙ্খলায় নিয়োজিত কোন সদস্য জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।

তিনি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, ইভটিজিং, বাল্য বিবাহ সহ সকল প্রকার অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আইনের সুশাসন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য আজকের এই ওপেন হাউস ডে এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম আর তার লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এছাড়াও কমিউনিটি পুলিশিং, বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে পুলিশি সেবাটা একেবারে প্রত্যন্ত এলাকার জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

পুলিশ সুপার মহোদয় বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ তথা বাংলাদেশ পুলিশ একেবারে শূণ্য সহিষ্ণু নীতিতে কাজ করছে। আমরা মাদকের সাথে জড়িত কাউকেই বিন্দু মাত্র ছাড় দেবনা।সে যত বড় ক্ষমতাশীল ব্যক্তি হোক না কেন। তিনি আরো বলেন, মাদকের সাথে তিন স্তরের ব্যক্তি জড়িত, প্রথম হলো মাদকের গডফাদার, দ্বিতীয় হলো মাদক কারবারি এবং শেষটা হলো মাদক সেবী। আইনের চোখে এরা সবাই অপরাধী সুতরাং কাউকেই ছাড় দেয়া হবেনা। এব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।

তিনি বলেন, কিশোর অপরাধের নামে কোন প্রকার অন্যায় সহ্য করা হবেনা, জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে যতটা কঠোর হতে হয় তার সম্পূর্ণটাই প্রয়োগ করবে জেলা পুলিশ সুতরাং ভালো হওয়ার কোন বিকল্প নেই। এই যশোরের কোন স্কুল প্রতিষ্ঠান কিংবা সমগ্র জেলার কোথাও ইভটিজিং হবেনা এর কোন ব্যক্তই হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন সমাজে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আমার উপর অর্পিত সকল বৈধ আদেশ আমি অত্যন্ত আন্তরিকতা, সাহসিকতা, নিষ্ঠা ও দৃঢ়তার সাথে পালন করে যাব। এ ব্যাপারে আমি কোন ধরনের অপশক্তির কাছে আপোষ করব না।

পুলিশ সুপার মহোদয় উপস্থিত সকলকে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের সময় জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ ইতোমধ্যেই সমগ্র জেলাকে নিরাপত্তার চাদরে সাজানো হয়েছে বলে জানান। পূজায় কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে প্রায় প্রতিটি মন্ডপকেই সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। এখানেও আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংক্ষক জনবল নিয়োজিত থাকবে। বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করতে পোষাকের পাশা-পাশি থাকবে গোয়েন্দা নজরদারি, সেক্ষেত্রে কাজ করবে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা টিমের সদস্য।সুতরাং এখানে কেউ ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার বিন্দুমাত্র অপচেষ্টা করবেন না।

পরিশেষে তিনি জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও জনতা হাতে-হাত রেখে একত্রে কাজ করে যাওয়ার আহ্ববান করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জনাব জুয়েল ইমরান, সহকারী পুলিশ সুপার, “নাভারণ” সার্কেল, যশোর।

অত্র অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জনাব মোঃ বোরহান উদ্দিন, অফিসার ইনচার্জ, কেশবপুর থানা, যশোর।

এসময় উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী-লীগ সভাপতি, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের নেতৃবন্দ, উপজেলা, ইউনিয়ন ও পৌরসভার নির্বাচিত জন-প্রতিনিধিগণ, উপজেলা পর্যায়ের সরকারি, আধা-সরকারি, বে-সরকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ জাতীর বীর সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।