• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে পিটিআই সুপারের বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ, আন্দোলনে প্রশিক্ষণার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ণ
গোপালগঞ্জে পিটিআই সুপারের বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ, আন্দোলনে প্রশিক্ষণার্থীরা

ষ্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে পিটিআই সুপারিনটেনডেন্টের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ পরিচালনায় নানান দূর্ণীতি অনিয়ম ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটুক্তি করার অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে ভুক্তভোগী ট্রেইনিং অব মাস্টার ট্রেনারস্ ইন ইংলিশ’র (টিএমটিই) প্রশিক্ষণার্থীরা এসব অভিযোগ করেন। এর প্রতিবাদ করায় তদন্তের নামে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ৫ শিক্ষককের ভাতা ও সার্টিফিকেট স্থাগিত করে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা প্রত্যহারসহ ভাতা ও সার্টিফিকেট দেবার দাবীতে আন্দোলন করেছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট।

ভুক্তভোগী প্রশিক্ষণার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষকদের ইংরেজি ভাষার উপর দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহায়তায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়। মেধাবী শিক্ষকদের মধ্য থেকে এপটিস টেস্টর মাধ্যমে চতুর্থ ব্যাচের জন্য ১৪ সপ্তাহের প্রশিক্ষণের জন্য গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলা থেকে ৪৪ জন প্রশিক্ষণার্থীকে নির্বাচন করা হয়। গত ৫ জুন থেকে পিটিআই গোপালগঞ্জে এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর শেষ হয়।

এ প্রশিক্ষণ চলাকালে খাবার রিফ্রেশমেন্টের বাবদ প্রতিদিন জন প্রতি ৬৬০ টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও প্রশিক্ষণ শুরুর দিন থেকে তাদের অতি নিন্মমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করে পিটিআই কর্তৃপক্ষ। সংস্থাপন বিলের নামে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর কাছ থেকে প্রতিদিন ১০০ টাকা করে ৪৪ জনের টাকা, অডিট বাবদ ৯৭ হাজার টাকা এবং এজি অফিসে বিল পাশ করার জন্য ৪৪ হাজার টাকা দাবী করা হয়। পিটিআইতে অবস্থান করলেও শুক্র ও শনিবার বাদ হাজিরার শীট করা হয় বলে অভিযোগ প্রশিক্ষণার্থীদের।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগে আরও জানান, এছাড়া গত ৫ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ২৬ দিনের মধ্যে শুক্র ও শনিবার খাবার ভাতা দেওয়া হলেও আকস্মিকভাবে ১ জুলাই থেকে শুক্র ও শনিবারের টাকা না দেওয়ার কথা জানানো হয়। ঈদের ছুটির পর করোনা রিপোর্টের নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকার পরও নারী প্রশিক্ষণার্থীসহ অন্যান্য প্রশিক্ষণার্থীদের পিটিআইতে প্রবেশ করতে না দিয়ে হোটেলে থাকতে বাধ্য করে।

এসব সমস্যা সমাধানে প্রশিক্ষণার্থীরা পিটিআই’র সুপারিনটেনডেন্টের কাছে গেলে প্রশিক্ষণার্থীদের কথায় পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট ক্ষিপ্ত হন এবং কটুক্তি করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কি করেছেন? কিছু চোর রেখে গেছেন!’ সুপারিনটেনটেন্ডের এমন আচারনের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেন প্রশিক্ষণার্থীরা। এরপর প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্ন রকম অসহযোগিতা করা হয়। পানির লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয় ও ওয়াশরুম থেতে হ্যান্ড ওয়াশ, সাবান ইত্যাদি সরিয়ে ফেলা হয়। এ ছাড়াও প্রশিক্ষার্থীদের সম্মানী ভতা ও ট্রান্সপোর্টেশন থেকেও বিভিন্ন অযুহাতে টাকা কর্তন করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগে তারা জানান।

এদিকে, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ৫ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ আটকে দেন পিটিআই সুপার কৃষ্ণা রানী বসু। এসময় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে একটি তদন্ত কমিটি বিষয়টি তদন্ত করলে ওই ৫ প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষককে দোষী করে তদন্ত পুতিবেদন জমা দেয় এবং বিভাগীয় মামলা করা হয়। ওই শিক্ষকরা হলেন, শমসের সরদার, মো: নাসির উদ্দিন, মো: নজরুল ইসলাম, বিপুল কান্তি বিশ্বাস ও আসাদুজ্জামান।

৫ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা এবং অনিয়ম ও দূরীতির প্রতিবাদে প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেছে প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকরা। রবিবার দুপুরে গোপালগঞ্জ পিটিআই-এর সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের উপর দাঁড়িয়ে হাতে হাত ধরে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে তারা। এসময় গোপালগঞ্জের পিটিআই-এর সুপারিনটেনডেন্ট কৃষ্ণা রানী বসুর দূর্নীতি প্রতিবাদে ও শাস্তির দাবীতে বিভিন্ন ধরনের লেখা প্লকার্ড প্রদর্শন করে মানববন্ধনকারীরা। মানববন্ধন চলাকালে বক্তরা বলেন, টিএমটিই প্রশিক্ষণ চলাকালে কৃষ্ণা রানী বসুর ব্যাপক অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কটুক্তি করেন। এনিয়ে ক্ষমা চাইতে বললে তিনি ৫ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের ভাতা ও সার্টিফিকেট স্থাগিতের জন্য সুপারিশ করেন। পরে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয় তদন্ত কমিটি। তারা ৫ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ সকলের ভাতা ও সার্টিফিকেট দেয়ার দাবী জানান।

ভুক্তভোগী প্রশিক্ষণার্থী শমসের সরদার ও ফারজানা রহমান হেলেন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পবিত্র পুণ্যভ’মিত গোপালগঞ্জে বিভিন্ন জেলা থেকে আমরা প্রশিক্ষণ গ্রহনের জন্য এসে গর্বিত। প্রশিক্ষণকালীন সময়ে আমরা মানসম্পন্ন সেবা ও আচারন প্রত্যাশা করেছিলাম পিটিআই কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু এখানকার পরিবেশ ও বাস্তব চিত্র ভিন্ন দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি।

অপর ভুক্তভোগী প্রশিক্ষণার্থী মো: নাসির উদ্দিন, জেসমিন আক্তার ও শেখ আসাদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, খাবার রিফ্রেশমেন্টের বাবদ প্রতিদিন জন প্রতি ৬৬০ টাকা বরাদ্দ থাকা স্বত্ত্বেও প্রশিক্ষণ শুরুর দিন থেকে তাদের অতি নিন্মমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করে পিটিআই কর্তৃপক্ষ। সংস্থাপন বিলের নামে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর কাছ থেকে প্রতিদিন ১০০ টাকা করে ৪৪ জনের টাকা, অডিট বাবদ ৯৭ হাজার টাকা এবং এজি অফিসে বিল পাশ করার জন্য ৪৪ হাজার টাকা দাবী করা হয়।

এব্যাপারে অভিযুক্ত গোপালগঞ্জের পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট কৃষ্ণা রানী বসু বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ অসত্য। জাতির পিতাকে নিয়ে তিনি কোন কটুক্তি করেননি। কতিপয় প্রশিক্ষণার্থী বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এসব বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। #