• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আগামী ১৫-১৬ অক্টোবর (আয়েবা)র ৩য় গ্র্যান্ড কনভেনশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ২, ২০২২, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ণ
আগামী ১৫-১৬ অক্টোবর (আয়েবা)র ৩য় গ্র্যান্ড কনভেনশন

নিউজ ডেস্ক ঃ
সাসটেইনেবল মাইগ্রেশন তথা ‘টেকসই অভিবাসন’ এই মূল প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ দেশ চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে ১৫-১৬ অক্টোবর আয়েবা) ৩য় গ্র্যান্ড কনভেনশন। চেক প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বে থাকা জার্মানির বার্লিনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে। প্যারিসে অবস্থিত আয়েবা সদরদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ কমিউনিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ যোগ দেবেন প্রাগ কনভেনশনে।

অলিম্পিকের তীর্থস্থান গ্রীসে আয়েবা) আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিলো ২০১২ সালে এথেন্সে ১ম গ্র্যান্ড কনভেনশনের মধ্য দিয়ে। তিন বছর পর ২০১৫ সালে পর্তুগালের লিসবন ছিলো আয়েবার ২য় গ্র্যান্ড কনভেনশনের স্বাগতিক নগরী। নানান সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিবন্ধকতার কারণে সাত বছরের ব্যবধানে এবার অনুষ্ঠিতব্য ৩য় গ্র্যান্ড কনভেনশন বেশ গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহন করছে। বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে বৈধ জনশক্তি রপ্তানির বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ আরও টেকসই আরও ফলপ্রসূ কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে কনভেনশনে। সেই সাথে বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের যে কোন সংকট মোকাবেলায় নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণের পাশাপাশি আয়েবার যে মূলমন্ত্র ‘ইন্টিগ্রেশন’ অর্থাৎ প্রবাসী বাংলাদেশিরা যার যার দেশের স্থানীয় সমাজ, জনগণ ও প্রশাসনের সাথে যাতে সুসম্পর্ক স্থাপন করতে পারে, তা নিয়েও দিকনির্দেশনা আসবে কনভেনশন থেকে।

ইন্টেলেকচুয়াল অর্গানাইজিং এক্টিভিটিজ (বুদ্ধিবৃত্তিক সাংগঠনিক কার্যক্রম) নির্ভর সংগঠন অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন (আয়েবা) ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদরদপ্তর সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রশাসনের কাছে সুপরিচিত একটি সংগঠন। গ্রীসের নেয়া মানোলাদা অঞ্চলে গ্রামীণ স্ট্রবেরি খামারে বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত অনিয়মিত বাংলাদেশিদের উপর খামার মালিক নিজ হাতে গুলি চালালে গুরুতর আহত বাংলাদেশিদের ক্ষতিপূরণ এবং স্টে পারমিট পাইয়ে দিতে আয়েবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে সাভারে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি পরবর্তী ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ তৈরি পোশাক যখন ইউরোপের বাজার ধরে রাখার ক্ষেত্রে ভয়াবহ হুমকির মুখে পতিত হয়, তখন ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে যে কোন প্রকার নিষেধাজ্ঞা এড়াতে লবিস্ট গ্রুপের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় আয়েবা।

ইউরোপ থেকে কথিত ৯৩ হাজার অনিয়মিত বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো ঠেকাতে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে দফায় দফায় দেনদরবার করে অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন (আয়েবা)। ফ্রান্স এবং পর্তুগালের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে ব্যতিক্রমী এই সংগঠন, বিশেষ করে পর্তুগালে বাংলাদেশিদের অভিবাসন কুসুমাস্তীর্ণ করতে আয়েবার অনবদ্য ভূমিকা ছিলো দারুণ সময়োপযোগী। মাল্টায় কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের মুক্তির চেষ্টায় আয়েবার তরফে চালানো হয় দৃশ্যমান সাংগঠনিক তৎপরতা। ইউরোপীয় ইউনিয়নে সবচাইতে বেশি বাংলাদেশি অধ্যুষিত দেশ ইতালিতে আয়েবার সাংগঠনিক কার্যক্রম বিশেষ করে রাজধানী রোম কেন্দ্রিক আশাব্যঞ্জক না হলেও সিসিলি’র কাতানিয়াতে অনুষ্ঠিত ইসি মিটিংয়ের ওপেনিং সেশন আলোকিত করেন স্থানীয় প্রেফেকচার (প্রেফেত্তুরা), স্টেট পুলিশ (কস্তুরা), মিউনিসিপ্যাল পুলিশ, প্যারামিলিটারি পুলিশ ফোর্স (ক্যারাবিনিয়েরি), সিসিলির প্রাদেশিক প্রশাসন এবং কাতানিয়া পৌর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

করোনা মহামারি চলাকালীন আয়েবা সদরদপ্তর থেকে প্যারিসে সুবিধাবঞ্চিত বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশে আটকে পড়া ফ্রান্স প্রবাসীদেরকে তাদের কর্মস্থলে ফেরাতে আয়েবা) উদ্যোগে ইউএস বাংলা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দু’টি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা হয় ঢাকা থেকে। ফ্রান্সের প্রথম স্থায়ী শহীদ মিনার দেশটিতে বাংলাদেশি অধ্যুষিত ২য় বৃহত্তম নগরী তুলুজে আলোর মুখ দেখাতে আয়েবা সদরদপ্তর প্যারিস থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়। প্রতি বছর বাংলাদেশের রাজধানীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রভাতফেরিতে অংশ নিয়ে বায়ান্নর ভাষা শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ঢাকায় ছুটে যান আয়েবা’র দায়িত্বশীল লোকজন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন আয়েবা নেতৃবৃন্দ মধুমতী বিধৌত টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং দেশে বিদেশে যে কোন প্রকার দুর্ভোগ লাঘবে অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন (আয়েবা) ইউরোপের প্রতিটি বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে টানা দশ বছর নিবিড় যোগাযোগ রেখে কাজ করে গিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রচলিত আইন কানুনের প্রতি পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা ও সম্মান রেখে। বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের সাথে নিয়মিত বৈঠক হয়েছে ঢাকায় আয়েবা’র। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর যাতে মায়ানমারের সামরিক জান্তার আগ্রাসন বন্ধ হয় এবং বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয় প্রাপ্ত রোহিঙ্গারা যাতে তাদের নিজ দেশে ফিরতে পারে, সেজন্য সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের ইউরোপীয় দপ্তরের সামনে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করার পাশাপাশি ইউএন কর্মকর্তাদের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে আয়েবা’র স্পেশাল ডেলিগেশন।

সময়ের প্রয়োজনে ইউরোপের সীমানা পেরিয়ে ১ মিলিয়ন বাংলাদেশি অধ্যুষিত সুদূর মালয়েশিয়াতে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশনকে। কুয়ালালামপুরে আয়েবা’র দক্ষ ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয় প্রবাসী বিশ্ব সম্মেলন ১ম বাংলাদেশ গ্লোবাল সামিট। বিশ্বায়ণের এই যুগে প্রবাসীদের কল্যাণে ইউরোপের বাইরের সাংগঠনিক বিষয়াদি ঢেলে সাজাতে তখন আয়েবা’র এক্সটার্নাল উইং হিসেবে মালয়েশিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ অর্গানাইজেশান (ডব্লিউবিও)। মালয়েশিয়া সরকারের অভিবাসন ও শ্রম নীতিমালা নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খোলামেলা কথাবার্তা বলে স্থানীয় প্রশাসনের বিরাগভাজন হয়ে গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশি নাগরিক রায়হান কবিরকে কারামুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনতে আয়েবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যার জন্য আয়েবাকে সবসময় কৃতজ্ঞতা জানিয়ে থাকে রায়হান কবির নিজেই।

অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন (আয়েবা) তার গৌরবের অগ্রযাত্রায় ১০ বছর অতিক্রম করতে চললেও এখনো ইউরোপের অনেক দেশে সাংগঠনিক কার্যক্রম সেভাবে জোরদার করতে পারেনি, যতটা সাধারণ প্রবাসীরা আশা করে থাকে প্রেস্টিজিয়াস এই কমিউনিটি সংগঠনের কাছ থেকে। চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগে সুদীর্ঘ সাত বছরের ব্যবধানে অনুষ্ঠিতব্য ৩য় গ্র্যান্ড কনভেনশনের মাধ্যমে আয়েবা’র সাংগঠনিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় আরও মজবুত হবে, এমন আশাবাদ অবশ্য ব্যক্ত করা হয়েছে প্যারিসে অবস্থিত সংগঠনের সদরদপ্তর থেকে। কনভেনশনের আউটকাম হিসেবে থাকবে ‘প্রাগ ডিক্লেয়ারেশন’, যাতে প্রাধান্য পাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি প্রবাসীরা যাতে রেমিট্যান্স প্রেরণের বাইরেও আরও নানাভাবে বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে, সেজন্য সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা। কেননা আয়েবা’র কাছে সবার উপরে বাংলাদেশ।

🇧🇩 মাঈনুল ইসলাম নাসিম
www.facebook.com/mainulislamnasim