মোবারক হোসেন রুবেল, ধর্মপাশা,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সানবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও সানবাড়ী সার্বজনীন হরিবাসর মন্দির পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি কমরেড চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওই মন্দিরের উন্নয়নের জন্য রশিদ দিয়ে আদায়কৃত এক লাখ টাকা ও স্থানীয় শ্মশান ঘাটের উন্নয়নের জন্য সরকারিভাবে এক লাখ টাকার বরাদ্দ থেকে ৫০হাজার টাকাসহ মোট দেড় লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বুধবার (১২অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সানবাড়ী সার্বজনীন হরিবাসর মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রভাত দাস এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনওর) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনওর) কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সানবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও সানবাড়ী সার্বজনীন হরিবাসর মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে কমরেড চৌধুরী ২০১৭সালের ১৮ অক্টোবর থেকে ২০২০সালের ৩০ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মন্দিরের উন্নয়ন বাবদ ৭০টি রশিদের মাধ্যমে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা অর্থসহায়তা আদায় করেন। ২০২০সালের ৩০ডিসেম্বর ওই টাকা মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যদের কাছে জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্ত টাকা জমা না দিয়ে সানবাড়ী সার্বজনীন হরিবাসর মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যদের কাছে টাকা পরিশোধের জন্য এক মাস সময় চেয়ে নেন তিনি। নির্ধারিত সময়ে সাবেক সভাপতি পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় গত বছরের ২৮ফেব্রুয়ারি ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনীন্দ্র চন্দ্র তালুকদার,জয়শ্রী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সঞ্জয় রায় চৌধুরী, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি যতীন্দ্র চন্দ্র সরকার ও জয়শ্রী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মাধব চন্দ্র সরকারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উপজেলার সানবাড়ী গ্রামে কমরেড চৌধুরীর বিরুদ্ধে এক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে কমরেড চৌধুরী তাঁর কাছে টাকা পাওনা রয়েছে বলে স্বীকার করেন এবং টাকা পরিশোধের জন্য আরও এক মাস সময় চেয়ে নেন। কিন্তু তিনি টাকা পরিশোধ না করে আজকাল করে করে সময় ক্ষেপন করে চলেছেন।
ধর্মপাশা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি যতীন্দ্র চন্দ্র সরকার বলেন,সানবাড়ী সার্বজনীন হরিবাসর মন্দির পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি কমরেড চৌধুরীর বিরুদ্ধে সানবাড়ী গ্রামে যে সালিশটি হয়েছিল সেটিতে আমি উপস্থিত ছিলাম। তিনি খাতাপত্রের মাধ্যমে হিসেব নিকেশ করে তাঁর কাছে পাওনা থাকা টাকা পরিশোধ করবেন বলে স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু এখনো টাকা পরিশোধ করেননি বলে শুনেছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
সানবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও সানবাড়ী সার্বজনীন হরিবাসর মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রভাত দাস বলেন, সাবেক সভাপতি কমরেড চৌধুরী মন্দির উন্নয়নের জন্য রশিদের মাধ্যমে আদায়কৃত একলাখ টাকা ও স্থানীয় শ্মশান ঘাটের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া এক লাখ টাকার মধ্যে ৫০হাজার টাকা সহ মোট দেড় লাখ টাকা তিনি আত্মসাত করেছেন। তাঁর কাছে পাওনা টাকা চাইলে তিনি আমাদেরকে নানা ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। এ ছাড়া তিনি নিজে উপস্থিত থেকে গত ২অক্টোবর সকালে আমাদের গ্রামের হরিবাসর মন্দিরের এক শতক জায়গা দখল করে বাঁশের বেড়া দিয়েছেন। আমি ইউএনও স্যারের কাছে মন্দির পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত অভিযোগ করেছি। মন্দির পরিচালনা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার তালুকদার বলেন,কমরেড চৌধুরীর পরিবার এলাকায় খুবই প্রভাবশালী। তাঁরা খুবই উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির লোক। মন্দিরের টাকা ও শ্মশান ঘাটের সরকারি বরাদ্দসহ দেড় লাখ কমরেড চৌধুরী আত্মসাত করেছেন। এ ছাড়া মন্দিরের জায়গা দখল করে নিয়েছেন। এ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্কলাবাহিনীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
সাবেক সভাপতি কমরেড চৌধুরীর মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা ধরেননি।তবে তাঁর ছোট ভাই সম্রাট চৌধুরী বলেন,আমার ভাইয়ের কাছে যদি মন্দির উন্নয়নসহ অন্যান্য কাজ বাবদ টাকা পাওনা থাকে তাহলে অব্শ্যই তাকে টাকা পরিশোধ করতে হবে। সানবাড়ী সার্বজনীন হরিবাসর মন্দিরটি কারও একার নয়,এটি আমাদের এলাকাবাসীর সবার। এই মন্দিরটি নিয়ে রাজনীতি করা হচেছ। আমাদের বিরুদ্ধে হরিবাসর মন্দিরের যে একশতক জায়গা দখলের অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। আমরা আমাদের রেকর্ডীয় জায়গায় বেড়া দিয়েছি।মন্দিরের জায়গা দখল করে বেড়া দেওয়া হয়নি।
উপজেলা নির্ বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.মুনতাসির হাসান বলেন, টাকা আত্মসাতের অভিযোগটি আমি পেয়েছি। মন্দিরের জায়গা দখলের বিষয়টি অ্যাসিল্যান্ডকে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। টাকা আত্মসাত ও মন্দিরের জায়গা দখলের ঘটনার সতত্যা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#