• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জের বর্ণি বাওড়ে নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৪, ২০২২, ১৬:০৩ অপরাহ্ণ
গোপালগঞ্জের বর্ণি বাওড়ে নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজরিত বর্ণি বাওড়ে নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবহমান গ্রাম বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও নিজস্বতা ধরে রাখতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।

আজ শুক্রবার বিকালে (১৪ অক্টেবার) বর্ণি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খালিদ হোসেন জমাদ্দারের উদ্যোগে এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়।

বর্নি বাওড়ে অনুষ্ঠিত বর্ণিল এ নৌকা বাইচে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, বরিশাল, খুলনা, নড়াইল জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা ২০টি সরেঙ্গা, ছিপ, কোষা, বাচারী নৌকা অংশ নেয়। বিকাল থেকে নানা বর্নে ও বিচিত্র সাজে সজ্জিত দৃষ্টিনন্দন এসব নৌকা তুমুল বাইচ শুরু করে। তিন রাউন্ডে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে একের পর এক কুচ। ঠিকারী, কাশির বাদ্যে ও তালে জারি সারি গান গেয়ে নেচে” এবং বৈঠার ছলাৎ- ছলাৎ শব্দে এক অনবদ্য আবহ সৃষ্টি হয়। নান্দনিক এ নৌকা বাইচ চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

এ বাইচ দেখতে বিকাল থেকেই পায়ে হেঁটে এবং নৌকা ও লঞ্চে করে বর্নি বাওড়ের দু’পাড়ে জড়ো হতে থাকে হাজার হাজার দর্শনার্থী। গোপালগঞ্জ জেলা ছাড়াও আশপাশের জেলা মাদারীপুর বাগেরহাট, বরিশাল, খুলনা, পিরোজপুর, নড়াইল জেলা থেকে অসংখ্য দর্শক নান্দনিক এ নৌকা বাইচ উপভোগ করেন। নৌকাবাইচের বাড়তি আকর্ষণ ছিল নৌকায় নৌকায় মেলা।

মাল্লাদের সাথে সমবেত হন অগনিত সমর্থক ও দর্শক। তারা উৎসাহ দেন বাইচে। খালের দু’ পাড়ে দাড়িয়ে থাকা মানুষের করতালী ও হর্যধ্বনিতে এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। অনেকেই গ্রামের বাইরে গিয়ে নানা কাজে শহরে জীবন যাপন করেন। কিন্তু, এদিন তারা কাটান একেবারেই গ্রাম্য পরিবেশে আর গ্রামীন সংস্কৃতির সঙ্গে।

পরে দুই গ্রুপের ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জনকারী বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার ফ্রিজ, টিভি ও মনিটর তুলে দেন প্রধান অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ান ও বর্ণি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খালিদ হোসেন জমাদ্দার।

বর্ণি গ্রামের সামিউল শেখ বলেন, নৌকা প্রতিযোগীতা দেখতে পেরে খুব ভাল লাগছে। গ্রামের মানুষ এমন দিনের অপেক্ষায় থাকে। পরিনত হয় এক মিলন মেলায়।

একই গ্রামে মাসুমা খাতুন বলেন, বর্ণি বাওড়ে নৌকা বাইচ হবে শুনে পরিবারের সাথে নৌকায় করে বাইচ দেখতে এসেছি। দেখ খুব আনন্দ হয়েছে। এমন বাইচ এবারই প্রথম দেখলাম।

আয়োজক বর্ণি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খালিদ হোসেন জমাদ্দার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজরিত বর্ণি বাওড়ে নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতার আয়োজন করেছি। নৌকা বাইচ আমাদের একটি সংস্কৃতি। এ সংস্কৃতি ধরে রাখতে আগামীতেও এমন আয়োজন করা হবে।

প্রধান অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ান বলেন, আমাদের দেশে সংস্কৃতি, কৃষ্টি, কালচার হলো নৌকা বাইচ। সুস্থ ও নির্মল বিনোদন দিতে পারে এ নৌকা বাইচ প্রতিযোহীতা। এ প্রতিযোগীতা ধরে রাখতে সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি। #