• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার মূলনীতি, গ্রাম শহরের উন্নতি – আবুল হাসানাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ২০, ২০২২, ০২:৩১ পূর্বাহ্ণ
শেখ হাসিনার মূলনীতি, গ্রাম শহরের উন্নতি                              – আবুল হাসানাত

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষন কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী), আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি বলেছেন “শেখ হাসিনার মূলনীতি, গ্রাম শহরের উন্নতি” এ দর্শনকে ধারণ করে বর্তমান সরকার শহর ও গ্রামীণ অবকাঠামো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি বিকাশে বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সে লক্ষে শহর-নগর ও গ্রামীণ জনপদের ভাবনাকে আবর্তিত করে সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করছে।
বুধবার দিনব্যাপী বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল গ্রামে মন্ত্রী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর বাসভবনস্থ চত্বরে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার এ্যাসোসিয়েশনের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গত ১৪ বছরে স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে শুধুমাত্র পল্লী উন্নয়ন খাতে ৬৯,০০২ কিলোমিটার পাকা সড়ক, ৪,০৫,০৯৯ মিটার নতুন ব্রীজ, ১,০৯,০৭৮ কিলোমিটার পাকা পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, ১,৭৬৭টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, ৩৫৪টি উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করেছে। এছাড়াও ২,৬৮৯টি গ্রোথ সেন্টার ও হাটবাজার উন্নয়ন এবং ১,০৭৫টি সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ ও পুন:নির্মাণ করেছে। নাগরিক জীবনমান উন্নয়নে ৯,০৮৮ কিলোমিটার সড়ক ও ফুটপাত, ৪,১০৭ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ, ১৫,০৪১ মিটার ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মাণ, ৪১টি বাস ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ এবং ৫৩টি কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করেছে।
মন্ত্রী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যবৃন্দ হচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি। সরকারের উন্নয়ন তৃণমূল পর্যায়ে পৌছানোর দায়িত্ব কিন্তু ইউপি সদস্যদের। সরকারের উন্নয়ন চিত্র এবং সেবা সমূহ জনগণের নিকট উপস্থাপন করলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের সুফল জনগণ ভোগ করবে। বতর্মান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার-২০১৮’র অঙ্গীকার অনুযায়ী পল্লী অঞ্চলে উন্নত রাস্তাঘাট এবং আধুনিক নগর সুবিধাদি প্রদানের জন্য “আমার গ্রাম আমার শহর” কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ সড়ক, গ্রোথ সেন্টার এবং হাট-বাজার, গ্রামীণ পানি সরবরাহ, গ্রামীণ বর্জ ব্যবস্থাপনা, উপজেলা মাষ্টার প্লান, কমিউনিটি স্পেস, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ, কম্পিউটার ভিলেজ নির্মাণ সহ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ৩০টি গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
দেশব্যাপী সুপেয় পানি সরবরাহ, শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিতকরণ, ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিতকরনে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে ৮,২২,৭০০ টি আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানির উৎস এবং পৌর এলাকায় ১,৩৭৩ টি উৎপাদক নলকূপ, ১৫৯টি পানি শোধনাগার, ১৬,২০৩ কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপন করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরে পল্লী সেক্টরে ৫,০০০ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ, ৭,০০০ কিলোমিটার পাকাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, ১,৯০০ মিটার ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মাণ, ৫,৫০০ মিটার ব্রীজ ও কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ, ১৪০টি গ্রোথ সেন্টার ও হাট-বাজার উন্নয়ন, ৬০টি উপজেলা ও ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ, ১৩০টি সাইক্লোন সেন্টারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যস্থির করা হয়েছে। ফলে দেশের সড়ক নেটওয়ার্ক কভারেজ ৩৮.০২ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৯.৪৩ শতাংশে উন্নীত হবে। এছাড়া নগর অঞ্চলে ১,৭৬০ কিলোমিটার রাস্তা ও ফুটপাত নির্মাণ, ১৭০ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের লক্ষমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সকল অবকাঠামো তৈরির ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে যা সামগ্রিকভাবে গ্রামীণ দারিদ্র বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক ড. সেরনিয়াবাত মঈন উদ্দীন আবদুল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সেরনিয়াবাত আশিক আবদুল্লাহ সহ উপজেলা পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।