• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় বাকপ্রতিবন্ধী গৃহবধূকে অমানবিক নির্যাতন, বের করে দেয়া হলো বাড়ি থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ২১, ২০২২, ১৩:২২ অপরাহ্ণ
গোপালগঞ্জে কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় বাকপ্রতিবন্ধী গৃহবধূকে অমানবিক নির্যাতন, বের করে দেয়া হলো বাড়ি থেকে

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় শিল্পী বেগম (২২) নামে এক বাকপ্রতিবন্ধী গৃহবধূকে অমানবিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া অভিযাগ উঠেছে স্বামী ও তার শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ এখন তার বাবার বাড়ী গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার নিজামকান্দি ইউনিয়নের উত্তর ফলসি গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে। গৃহবধূ শিল্পী বেগম ওই গ্রামের ভ্যানচালক কাশেম শেখের মেয়ে। অর্থাভাবে নির্যাতনে আহত মেয়েকে চিকিৎসা করাতে পারছেন না দরিদ্র পিতা কাশেম শেখ।

আজ শুক্রবার (২১ অক্টোবর) বিকালে গোপালগঞ্জ সদর থানার বৌলতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: আছাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চত করেছেন। আর ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (১৮ অক্টোবর) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার করপাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় নির্যাতিতার বাবা কাশেম শেখ বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

নির্যাতিতা গৃহবধূর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার করপাড়া গ্রামের মৃত বকুল গাজীর ছেলে ইয়াদ আলীর সাথে বাকপ্রতিবন্ধী শিল্পীর বিয়ে হয়। প্রথমদিকে ভালই চলছিল তাদের সংসার। এক বছর পর থেকে বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য ও কারণ-অকারণে শিল্পীকে নির্যাতন করতে থাকে স্বামী ইয়াদ আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা।

এ নিয়ে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দিয়েছিলেন শিল্পীর বাবা। পরে বিষয়টি সামাজিকভাবে মিমাংসা করে দেয়া হয়। এর কিছুদিন পরেই তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন শিল্পী। এরপর থেকে শিল্পীর ওপর বেড়ে যায় স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির সদস্যদের নির্যাতন।

শিল্পীর ভ্যান চালক বাবা কাশেম শেখ বলেন, ‘মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা যৌতুক দিয়ে বিয়ে দিয়েছিলাম। কিছুদিন পর থেকে আমার প্রতিবন্ধী মেয়ের ওপর নির্যাতন শুরু করে। প্রায়ই নানা কারণে-অকারণে আমার মেয়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়।”

তিনি আরো বলেন, “তিন মাস আগে কণ্যা সন্তান জন্ম দেয়ায় বেড়ে যায় নির্যাতন। আমার মেয়েকে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত করেছে। মুখের ভিতর হাত ঢুকিয়ে নির্যাতন করেছে। আমার মেয়েকে মেরে ফেলবে বলেও হুমকি দেয়। আমি গরীব মানুষ ভ্যান চালাই খাই। আইন-আদালত করতে টাকা লাগে, আমি কোথায় পাব। আমি প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইয়াদ আলী গাজীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

গোপালগঞ্জ সদর থানার বৌলতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: আছাদুজ্জামান বলেন, “এ ঘটনায় নির্যাতিতার বাবা কাশেম শেখ বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার বৌলতলী পুলিশ ফাঁড়িতে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেছেন যে তার মেয়ে সংসার করতে পারেন সেই ব্যবস্থা করে দিতে। তাকে আমরা গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। মামলা দায়ের হলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ #