স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে শুরু হয়েছে টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ-ঘোনাপাড়া ৪৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত করনের কাজ।
কিন্তু ঢিলেঢালা ভাবে কাজ চলায় ও সড়কটির বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে ভরে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এ সড়ক দিয়ে চলাচলরত সাধারন যাত্রীরা। প্রতিদিন ঘটছে কোন না কোন দূর্ঘটনা। চলাচলকারীরা দ্রুত সড়ক সম্প্রসারণে কাজ শেষ করার দাবী জানালেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে বলে জানিয়েছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ-ঘোনাপাড়া ৪৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটি খানা খন্দে ভরে থাকায় ছিল চলাচলের অযোগ্য। ২০১০ সালের পরে কোন ধরনের সংস্কার হয়নি গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট-ঘোনাপাড়া সড়কটিতে। যাত্রীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে ২০২০ সালের জুনে ৬’শ ১২ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এ সড়কটি জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত করণের জন্য অনুমদোন দেয় একনেক।

মূল সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯৬ কোটি টাকা আর জমি অধিগ্রহণ ও অন্যান্য খরচ ধরা হয়েছে ১১৬ কোটি টাকা। কিন্তু দরপত্র আহবানসহ নানা জটিলতার কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। এরপরই শুরু হয় সড়ক সম্প্রসারনে কাজ। সড়কটির বর্তমান প্রশস্ততা ধরা হয়েছে ৩৪ ফুট। ইতিমধ্যে সড়কটি পাশের গাছ কেটে বালু ভরাট করা হয়ছে। সড়কটির অনেক স্থানে বিপজ্জনক বাঁক থাকবে না, সরলীকরন হবে।
কিন্তু ঢিলেঢালা ভাবে সড়কের কাজ চলায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন চলাচলকারী সাধারন যাত্রীরা। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ আর বড় বড় গর্তের সৃস্টি হওয়ায় চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। প্রতিদিনই ঘটছে কোন না কোন দূর্ঘটনা। এই ৪৪ কিলোমিটার সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারীদের ব্যাপক দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রোগী আনা নেয়ায় ব্যাপক সমস্যায় পরতে হচ্ছে। গোপালগঞ্জ থেকে টেকেরহাট যেতে সেখানে সময় লাগার কথা ১ ঘন্টা সেখানে সময় লাগছে ২ থেকে আড়াই ঘন্টা। এছাড়া পণ্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন চলাচল করতে না পারায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা।
করপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সৈয়দ খান বলেন, আমরা স্বপ্নেও ভাবিনেই টেকেরহাট রাস্তার কাজ শুরু হবে আর আমরা তা দেখি যাতি পারবো। এ সড়ক ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, যশোর, সাতক্ষীরা ও ভারতে গাড়ি পাবো। দ্রুত এ সড়কের কাজ শেষ করার দাবী জানাই।
বনগ্রামের লিয়াকত আলী খান বলেন, এ সড়ক দিয়ে আমাদের গোপালগঞ্জ আসা যাওয়া করতে হয়। সড়কের কাজ চলছে, যে কারনে সড়কের অকস্থা খুই খারাপ। ইজিবাইকে যাতায়েত করতে খবুই কষ্ট হয়।
ইজিবাইক চালক সেলিম শেখ বলেন, এ সড়ক দিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে খরচ বেড়েছে। যেখানে আগে তিন মাস পরপর গাড়ির কাজ করতে হতো সেখানে এখন দুই দিন পর পর গাড়ির কাজ করাতে হয়। যাত্রীরাও গাড়িতে উঠতে চায় না। আমাদের দাবী নিদৃর্ষ্ট সময়ের মধ্যে সড়কের কাজ শেষ করা হোক।
সড়কটি সম্প্রসারনে কাজ শেষ হলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে জানিয়ে, গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ-ঘোনাপাড়া সড়কটি এই এলাকার মানুষের জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন একটি সড়ক। ঢাকা-খুলনা, বরিশাল-খুলনা-সাতক্ষীরা-বেনাপোল, চট্টগ্রাম-খুলনা যাতায়াতের একমাত্র ভায়া সড়ক এটি। সড়কটি জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত করনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। সড়কের এ উন্নয়নকাজ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। দিন দিন জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন চাহিদাও বাড়ছে। সে লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগের আমূল পরিবর্তন সাধিত হবে। এতে গোপালগঞ্জবাসীর জীবনমান উন্নত হবে।
গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো: সুরুজ মিয়া বলেন, সড়ক বিভাগের উন্নয়নের সুফল গোপালগঞ্জের জনগণ ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছে। এ এলাকার উৎপাদিত ফসল দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এসে কিনে নিতে পারবেন, স্থানীয়রা সাচ্ছন্দে গন্তব্যে যেতে পারবেন। ভবিষ্যতে আমাদের যে পরিকল্পনা রয়েছে সেসব কর্মকান্ড বাস্তবায়িত হলে গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগ উন্নত দেশ গড়তে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। #