• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের দুই ঘন্টার তান্ডবে লন্ডভন্ড বেতাগী উপড়ে পড়েছে গাছ,বিদ্ধস্ত বহু ঘরবাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ২৬, ২০২২, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের দুই ঘন্টার তান্ডবে লন্ডভন্ড বেতাগী উপড়ে পড়েছে গাছ,বিদ্ধস্ত বহু ঘরবাড়ি

সৈয়দ নূর-ই আলমঃ
বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী উপকূলীয় জেলা বরগুনার বিষখালী,বলেশ্বর ও পায়রা তিন নদীর মোহনায় গড়ে ওঠা উপজেলা বেতাগী। একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত বিষখালী নদীপারের মানুষ। বিভিন্ন সময়ে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত লন্ডবন্ড করে দেয় উপকূলের বিস্তীর্ণ জনপদ। এবার ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উপকূলীয় বেতাগীতে, মাত্র দুই ঘন্টার তান্ডবেই লন্ডভন্ড হয় উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন। বিদ্ধস্ত হয়েছে বহু ঘরবাড়ি,গাছ উপড়ে পড়ে গ্রামীন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এছাড়াও ভেসে গেছে বহু ঘেরের চাষ করা মাছ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক, ব্রডব্র্যান্ড ও ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। প্রায় দুইদিন পর মঙ্গলবার দুপুরে বেতাগী পৌরসভায় বিদ্যুতের সংযোগ পেলেও এখন পর্যন্ত বিদ্যুত নেই উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে।
জানা যায়,২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং, এই দুই ঘন্টার তান্ডবে বরগুনার বেতাগী উপজেলার প্রায় ৩হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিলেও, তাদের বসতঘর, ফসলি জমি ও মাছের ঘেরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেতাগী উপজেলার ঘূর্ণিঝড় মনিটরিং টিমের তথ্যনুযায়ী, বিদ্ধস্ত হয়েছে ৩১ টি বসতঘর, আংশিক ভেঙ্গে পড়েছে শতাধিক ঘর। বেতাগী কৃষি অফিসের তথ্যনুযায়ী উপজেলার ৫১২ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে ২৫০ হেক্টর জমির ফসলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও পানের বড়জ, পেঁপে ও কলার বাগান গুলো প্রায় বিনষ্ট হয়ে গেছে। যাতে কৃষি খাতে ক্ষতির পরিমান প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এদিকে মৎস্য অফিসের তথ্যনুযায়ী প্রায় বড় ও মাঝারি আকারের ১২ টি মাছের ঘের তলিয়ে মাছ ভেসে গেছে , এছাড়াও বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকেছে নিম্নান্চলে । এতে প্রায় সব মিলিয়ে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের দেয়া তথ্যনুযায়ী, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীন সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি না ঢুকতে পারায় সময় লাগছে যোগাযোগ সচল করতে। বেতাগী পল্লিবিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ে উপজেলা পৌরশহর অঞ্চলে দুই দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া সম্ভব হলেও ইউনিয়নের অহ্চলগুলোতে এখনো সম্ভব হয়নি। একাধিক স্থানে গাছ পড়ে বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে গেছে যার ফলে বিলম্ব হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হোসনাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীন সড়কে গাছ পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বিনষ্ট হয়েছে বেশ কিছু ঘরবাড়ি, বেড়িবাঁধের পানি উপড়ে পড়ে প্লাবিত হয়েছে নি¤œাঞ্চল ফলে বিনষ্ট হয়েছে ফসলি জমি ও পানের বড়জ। দক্ষিণ হোসনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন জানান,‘ ঘূর্ণিঝড়ে বসতঘরটি গাছ পড়ে তছনছ হয়ে গেছে। কিভাবে কি করবো বুঝে উঠতে পারছিনা।সরকার যদি কোনধরনের সহায়তা করতো তবে ঘুরে দাঁড়াতে পারতাম। চল্লিশ ঘর গ্রামের বসিন্দা জগদিস জানান, পানের বড়জে পানি ঢুকে আটকে আছে, এমন দুই তিনদিন থাকলে বড়জের সকল পান পঁচে যাবে। এদিকে বিদ্যুত না থাকায় উপজেলা প্রায় নেটওর্য়াক বিচ্ছিন্ন এ ব্যাপরে জানতে কথা হয় বেতাগী গ্রামীনফোন নেটওর্য়াক ইনচার্জ মো. মাইনুল ইসলাম জানান,‘২০০৭ সালের সিডরের আগে বেতাগী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গ্রামীনফোনের টাওয়ার স্থাপন করা হয়। অনেক দিন হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুত না থাকলে ব্যাকআপ হিসেবে ব্যাটারি দিয়ে চালাতে পারছি না। এছাড়াও আমাদের অটো জেনারেটর সার্ভিস না থাকায় নেটওর্য়াক সেবায় সাময়িক বিঘ্নিতা ঘটছে। তবে বিদ্যুত সংযোগ চালু হলে এ সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে।
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় মানেই আতঙ্ক। তবে এবারের ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের দিক থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি ছিলো এ দূর্যোগ মোকাবেলার। ঘূর্ণি ঝরড়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে যাদের ক্ষতি হয়েছে তাদের সরকারি সহায়তা আসলে আমরা সহযোগীতা করবো।