• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধু মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে এ দেশের স্বাধীনতা এনেছেন -আবুল হাসানাত এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ৩০, ২০২২, ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
বঙ্গবন্ধু মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে  এ দেশের স্বাধীনতা এনেছেন -আবুল হাসানাত এমপি

বানারীপাড়ায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন
ফারুক সভাপতি ও সানা সম্পাদক

জি.এম রিপন,বানারীপাড়া ঃ
বানারীপাড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রী-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পার্বত্য চট্রগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবিক্ষণ কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী) ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্ এমপি বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়ে মুক্তকামি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের লক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। তিনি মাত্র সাড়ে তিন বছর একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়ে ভাঙালীর ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেছিলেন। তার সেই উন্নয়নকে থামিয়ে দিতে পাকিস্তানী দোষড়রা ৭৫’র ১৫ আগষ্ট কাল রাতে বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যা করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নিয়েছিল। তারা সুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেই খ্যান্ত হয়নী। তারা বঙ্গবন্ধুর সহধর্মীনী বেগম ফজিলাতুন নেছা, শিশু পুত্র শেখ রাসেল, আমার পিতা আব্দুর রব সেরনিয়াবাদ, শিশু প্রত্র সুকান্ত বাবু সেরনিয়াবাদকেও হত্যা করেছে। সেই ভয়াল কাল রাতে আমি দেড় বছরের শিশু পুত্র সেরনিয়াবাদ সাদিক আবদুল্লাহ্ ও গুলিবিধ্ব অবস্থায় আমার সহধর্মীনী বেগম সাহান আরা আবদুল্লাহ্কে নিয়ে কোন রকম প্রাণে বেচে যাই। যারা জাতির জনককে স্ব-পরিবারে হত্যা করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছিলেন। তারা ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে সেনা অবভুত্থানের মাধ্যমে শত শত সেনাবাহিনীকে নির্বিচারে হত্যা করে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে দেশের মানুষকে শাসন-শোষন করেছিলেন। ওই সময় তারা এ দেশের গনতন্ত্রকে হত্যা করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে অবৈধ অর্থের পাহার গড়ে অনেকেই বিদেশে পালিয়ে গিয়ে ছিলেন। তাদের সেই ক্ষমতার মসনদ ভেঙ্গে দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা ও আওয়ামী লীগ সভা নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দেশে প্রথম গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর পরেও আজ যারা বিএনপি-জামায়াত করে তাদের নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তারা আর যাই হোক ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর দোষড় ছিলেন।


শনিবার বেলা ১১টায় বানারীপাড়া বলিকা বিদ্যালয় মাঠে দীর্ঘ ১০ বছর পর উপজেলা আওয়ামী লীগেরস ত্রী-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পার্বত্য চট্রগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবিক্ষণ কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী) ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্ এমপি এসব কথা বলেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্ এমপি বলেন, সারা বিশে^ করোনা মহামারীর পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ধনি দেশগুলো আজ যেখানে অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়েছে, ঠিক সেই সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অর্থনীতির রিজার্ভ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তার নেতৃত্বে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের পাশাপাশি রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পদ্মা সেতু ও পায়রা সমুদ্র বন্দর সহ সারা দেশে সড়ক-যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যাবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। আজ যারা তার সেই উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে চাইছেন, তারা সেই পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর দোষড় ছারা আর কেউ নন। তিনি বলেন, আজ যারা বিভিন্ন স্থানে সভা সমাবেশ করে র‌্যাবের ক্রসফায়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলছেন। তারাই (বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার) ক্ষমতায় থাকা কালে র‌্যাবের এ ক্রসফায়ার আইনটির বৈধ্যতা দিয়ে ছিলেন। আজ তারাই আবার সভা সমাবেশ করে দেশে বিদেশে সেই আইনের বিরোধিতা করেছেন। এ ক্ষেত্রে তারা পাকিস্তানীদের দোষড় হিসেবে বিদেশিদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্য করছেন। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানী দোষড়দের সকল প্রকার ষড়যন্ত্র রূখে দিয়ে তিনি আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে আবাও আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় আনতে হবে বলে উল্লেখ করেন। এ জন্য তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সকল প্রকার ভেদাবেদ ভূলে গিয়ে তৃর্ণমূল আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আবারও শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহবান জানান।


এছাড়াও বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দু’বার নির্বাচিত সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট তালুকদার মো.ইউনুস, বরিশাল-২ আসনের এমপি ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো.শাহে আলম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মো.আনিচুর রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সৈয়দা রুবিনা আক্তার মীরা, শেরে বাংলার দৌহিত্র ফাইয়াজুল হক রাজু, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও বানারীপাড়া পৌর সভার মেয়র অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানা, মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা তাছলিমা হোসেন ফ্লোরা, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সুব্রত লাল কুন্ডু, বাইশারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল চক্রবর্তি, বিশারকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো.শাহজাহান, ছাত্র লীগ নেতা মোমিনুল কবির মিঠুন প্রমূখ। পরে বিকেল ৪টায় দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়। এ সময় সভাপতি পদে ২ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ শেষে পূনরায় দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়। এ সময় জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এ নিয়ে প্রার্থীদের মাঝে সমন্নয় করার চেষ্টা করেন। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও চার বার নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ গোলাম ফারুককে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানাকে দ্বিতীয় বার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত ঘোষনা করা হয়।
একই সময় চাখার সরকারী ফজলুল হক কলেজের সাবেক জিএস মো.খিজির সরদার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আকতার হোসেন মোল্লাকে সহ-সভাপতি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অধ্যাপক জাকির হোসেন ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সুব্রত লাল কুন্ডু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আশ্রাফুল হাসান সুমুনকে যুগ্ম-সম্পাদক করা হয়। এছাড়া সদ্য নির্বাচিত জেলা পরিষদ সদস্য মো.মামুন উর রশিদ স্বপন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক জাকির হোসেন সরদার ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতা মো.নুরুল হুদা তালুকদারকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। পরে দলীয় নেতা-কর্মীরা পৌর শহরে একটি আনন্দ মিছিল বের করার পাশাপাশি মিষ্টি বিতরণ করা হয়।