বামনা(বরগুনা) প্রতিনিধিঃ
বরগুনার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের গোলাঘাটা কড়ইতলা গ্রামে জমি জমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় ১জন কৃষক নিহত হয়েছেন। নিহত ওই কৃষকের নাম মো. ইউসুফ চৌকিদার(৫৫) তিনি ওই গ্রামের শের আলী চৌকিদারের ছেলে।
এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার ভোরে বামনা থানাপুলিশ উপজেলার জাফ্রাখালী গ্রামে অভিযান চালিয়ে মামলার ৪ নম্বর আসামী মো. খলিল ফরাজী(৩৫) কে গ্রেপ্তার করেছেন। বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন অফিসার ইন চার্জ মো. বশিরুল আলম।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ইউসুফ চৌকিদার ও প্রতিপক্ষ হানিফ চৌকিদার গংদের সাথে দ্বির্ঘদিন ধরে জমি জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। সোমবার বিকাল ৫টায় স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাদের জমি জমা নিয়ে শালিস ব্যবস্থায় বসেন। তাদের শালিশ শেষে পুনরায় উভয় পক্ষের মধ্যে বাক বিতান্ডা ঘটে। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষরা ইউসুফ চৌকিদারকে লক্ষকরে ধারালো দা দিয়ে মাথায় কোপ দেয়। ধারালো দায়ের কোপে তার মাথার খুলি ফেটে মজ্জা বেড় হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে বামনা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সন্ধ্যা সারে ৬টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষনা করেন।
এঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষে বামনা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানাগেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের স্ত্রী নাসিমা বেগম জানায়, তাদের জমি জমা নিয়ে অনেক বছর ধরে প্রতিপক্ষ হানিফ চৌকিদার গংদের সাথে বিরোধ ছিলো। ঘটনার দিন তারা উভয় পক্ষ এই বিরোধ মেটানোর জন্য শালিস ডাকেন। শালিস শেষে তারা বাড়ি ফেরার সময় পুনরায় ওই জমি নিয়ে তার স্বামীর সাথে প্রতিপক্ষের বাকবিতান্ডার সৃষ্টি হয়। এসময় প্রতিপক্ষ সলেমান চৌকিদারের ছেলে রাহাত(২০) একটি ধারালো রামদা দিয়ে তার স্বামীর মাথার ডানপাশে কোপ দেয়। সে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পরে। তার মাথার খুলি কেটে ভিতরের সব কিছু বেড়িয়ে যায়। এতেও তারা ক্ষান্ত হয়নি। তাৎক্ষনিক হানিফ চৌকিদার(৬০), রিমন(২২) হাবিব মাষ্টার(৫৮), রানী বেগম(৪০) ও মহারাজ(৪০) সহ আরো ৪-৫জন তার স্বামীকে মারধর করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় শালিস গন তাকে গুরুতর অবস্থায় বামনা হাসপাতালে নিয়ে যায়।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী দুলাল চৌধূরী বলেন, আমরা শালিস শেষে চলে আসবো এমন সময় পুনরায় তারা ঝগড়ায় জড়িয়ে পরে। এসময় প্রতিপক্ষরা ধারালো দা দিয়ে ইউসুফ চৌকিদারের মাথায় কোপ দেয়। কোপের আঘাতে তার মাথায় মারাত্মক জখম হয়।
বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. বশিরুল আলম বলেন, আমরা রাতেই একটি হত্যা মামলা নিয়েছি। সকালে একজন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে