• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যানশূন্য বরিশাল নগরী, চরম জনদুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত নভেম্বর ৪, ২০২২, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ণ
যানশূন্য বরিশাল নগরী, চরম জনদুর্ভোগ

অচলাবস্থার যে ধরনের আশঙ্কা করা হয়েছিল, তেমনটিই হয়েছে আজ শুক্রবার বরিশাল নগরীতে। বাস, ট্রাকসহ সব যানবাহন বন্ধ। নগরীতে চালু বলতে শুধু সীমিতসংখ্যক রিকশা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সড়ক ও নৌপথে আজ শুক্রবার সকাল থেকে ধর্মঘট শুরু হয়েছে। ফলে সারাদেশের সঙ্গে বরিশালে সড়ক ও নৌপথের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নগরে নেই ব্যাটারি ও গ্যাসচালিত তিনচাকার যানবহন। এমনকি নগরে প্রবেশে সবগুলো খেয়াঘাটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া লোকজনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষজন এমন বিড়ম্বনায় পড়লেও কোথাও নেই এর প্রতিকার। আগামীকাল শনিবার বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকে বরিশাল মহানগরে এ অচলবস্থা শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার দুদিনের ধর্মঘট ডেকেছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতারা। জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হওয়া মানুষের কণ্ঠে ক্ষোভ। তারা বলছেন, বড় দলের ক্ষমতার লড়াই ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় এ ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

শুক্রবার বেলা ১১টায় বরিশাল নগরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদে কথা হয় জহিরুল ইসলাম পলাশের সঙ্গে। তাঁর বাড়ি ঝালকাঠীর রাজাপুর উপজেলার গালুয়া গ্রামে। জহিরুল বরিশাল এসেছেন ফরিদপুর থেকে। তাঁর মামী মারা যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে বাড়ি যাচ্ছেন। কিন্ত যানবহন না পেয়ে ফরিদপুর থেকে বরিশাল এসেছেন চরম কষ্টে। ফরিদপুর থেকে অটোরিকশায় বরিশালের ভুরঘাটা পর্যন্ত আসার পর বাকি পথ এসেছেন ভ্যানে করে। ফরিদপুর থেকে বরিশাল আসতে যেখানে খরচ হয় মাত্র ৩০০ টাকা। সেখানে জহিুরুলের সাড়ে ৯০০ টাকা চলে গেছে।

সালমা বেগম নামের অপর এক যাত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ-বিএনপির দ্বন্দ্বে আমরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছি আমরা সাধারণ মানুষ।’

শুক্রবার দুপুরে নগরীর ফাঁকা বিভিন্ন সড়ক ঘুরে কোলাহল খুঁজে পাওয়া গেল শুধুমাত্র বিএনপির গণসমাবেশস্থল বঙ্গবন্ধু উদ্যানে (বেলস পার্ক)। বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আগত হাজার হাজার নেতাকর্মী বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সেখানে অবস্থান করছেন। স্লোগানে স্লোগানে তারা তাদের সরব উপস্থিতির জানান দিচ্ছেন। বাস-লঞ্চ বন্ধ হয়ে যাবে এমন পূর্ব ঘোষণায় বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই বিএনপির গণসমাবেশস্থল বঙ্গবন্ধু উদ্যানে আসতে থাকেন নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার রাতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী সামিয়ানার নিচে ত্রিপল পেতে রাত পার করেছেন বঙ্গবন্ধু উদ্যানে। এজন্য বৃহস্পতিবার রাতে একাধিক স্থানে নেতাকর্মীদের জন্য হয়েছে রান্না-বান্না। সমাবেশের মাঠেই কয়েক হাজার নেতাকর্মী বৃহস্পতিবার রাতের খাবার খেয়েছেন।

পটুয়াখালীর গলাচিপা আমখোলা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি জাকির হোসেন মোল্লা বৃহস্পতিবার বিকেলে এসে অবস্থান নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু উদ্যানে। তাঁর সঙ্গে আছেন ইউনিয়ন বিএনপির প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী। জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, ‘শনিবার গণসমাবেশ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠেই থাকব আমরা সবাই।’

এদিকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কীর্তনখোলা নদীর পূর্ব তীর থেকে বরিশাল নগরীতে প্রবেশের সবগুলো খেয়া বন্ধ রয়েছে। এর কোনো কারণ জানা যায়নি, খেয়ামাঝি সংগঠনের নেতাদের মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে।
সূত্র ঃসমকাল