নদীবেষ্টিত বরিশাল জেলার তিনটি উপজেলা হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ। এই তিনটি উপজেলার মানুষের বরিশালের সাথে যোগাযোগের একমাত্র পন্থা লঞ্চ। তবে সেই লঞ্চ দু’দিন আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকলেও বিএনপির নেতাকর্মীরা শত শত ট্রলারে চেপে গণসমাবেশে আসছেন। এই তিন উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ ট্রলারযোগে বরিশালে আসছেন বলে জানা গেছে।

শনিবার (৫ নভেম্বর) সকালে দেখা যায়, সমাবেশ মাঠের পাশেই কেডিসি বালুর মাঠ এলাকায় শত শত ট্রলার থামানো হচ্ছে। সেখান থেকে নেতাকর্মীরা নেমে পায়ে হেঁটে যোগ দিচ্ছেন সমাবেশে। এর বাইরেও কীর্তনখোলা নদীতে কয়েকশ ট্রলার ভাসছে যাতে অবস্থান করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
হিজলা উপজেলা বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম রাজু বলেন, তারা ভোর ৪টার সময় অর্ধশত ট্রলার নিয়ে হিজলা থেকে রওনা দিয়েছেন। প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মী ছিলেন ট্রলারগুলোতে। কর্মীদের আসতে আওয়ামী লীগ বাধা দিলেও সে বাধা উপেক্ষা করে আমরা চলে এসেছি।
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা অমিত সুর আপন বলেন, পঞ্চাশটিরও বেশি টলার ১০ হাজার নেতাকর্মীকে বহন করে বরিশালের উদ্দেশে মেহেন্দিগঞ্জ থেকে রওনা দিয়েছে। আমরা ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের লক্ষ্যে সংগ্রাম করতে নেমেছি। লঞ্চ চলাচল এবং স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করেও কোন নেতাকর্মীকে হতাশ করতে পারেনি। এ বাধা সমাবেশকে আরো গণজোয়ারে পরিণত করতে সক্ষম করেছে।
আপন জানান, রাতে খাবার রান্না করা হয়েছে। সেই খাবারগুলোর ট্রলারে করে নিয়ে আসা হয়েছে। সকালে ট্রলারে বসেই ওই খাবারগুলো নেতাকর্মীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও গণ সমাবেশের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, সমাবেশের স্থান বেলস পার্ক মাঠ নেতাকর্মীতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। পাশের রাস্তাগুলোতেও নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। এখনো বরিশালের সকল নেতাকর্মীরা পৌঁছাননি। গণসমাবেশ বাধাগ্রস্ত করে আমাদেরকে আরও শক্তিশালী করেছ আওয়ামী লীগ। পুরো বরিশালজুড়ে আছে বিএনপি নেতাকর্মীদের দখলে।
এদিকে, কীর্তনখোলা নদীতে এগিয়ে দেখা যায় চর্বারিয়ার চরমোনাই পয়েন্ট থেকে কেডিসি বালুর মাঠ এবং চরকাওয়া খেয়াঘাট পর্যন্ত শত শত ট্রলার নদীতে অবস্থান করছে। কতিপয় নেতাকর্মী ট্রলারগুলোতে ঘুমোচ্ছে আবার কেউবা গোসল-খাবার ট্রলারেই সম্পাদন করছেন। বাকেরগঞ্জ, পটুয়াখালী, ভোলা ও পিরোজপুর থেকে এখনো ট্রলার আসছে। সমাবেশের মাঠ বঙ্গবন্ধু উদ্যান প্রায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসন নিজেদের জন্য যেই স্থান রেখেছিলেন সেই স্থান ও বিএনপি নেতাকর্মীর অবস্থান নিয়েছেন।
সূত্র ঃকালেরকন্ঠ